• বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads

আনন্দ বিনোদন

গান নেই ফান আছে

  • সোহেল অটল
  • প্রকাশিত ২৫ এপ্রিল ২০১৮

সম্প্রতি গানচিল মিউজিকের ব্যানারে প্রকাশিত হয়েছে জনপ্রিয় সঙ্গীত তারকা হাবিব ওয়াহিদের গান ‘ঝড়’। গানটি লিখেছেন সুহূদ সুফিয়ান। সুর, সঙ্গীত হাবিব ওয়াহিদের। এর একটা জমজমাট ভিডিও তৈরি হয়েছে। সেটা বানিয়েছেন তানিম রহমান অংশু। ভিডিওর সিনেম্যাটিক গল্পে হাবিব ছাড়াও অভিনয় করেছেন তার বাবা সঙ্গীতশিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদ, সঙ্গীত পরিচালক ও গায়ক অদিত রহমান, প্রীতম হাসান এবং র্যাপার তৌফিক। প্রেমের গান যেহেতু, নায়িকা চরিত্রে অভিনয় করেছেন শার্লিনা হোসেন।

গান শোনার পাশাপাশি দেখার বস্তুতে পরিণত হয়েছে আরো আগেই। ইউটিউব-ফেসবুকের যুগে হেডফোনের সঙ্গে চোখ অভ্যস্ত হয়ে গেছে। সুতরাং গানের ভিডিও এখন আবশ্যক। সেই আবশ্যকতা শতভাগ মেটাতে পেরেছে এই ‘ঝড়’। প্রায় ৪ মিনিটের এই মিউজিক্যাল ফিকশন দেখা শুরু করলে চোখ ফেরানো যায় না। যেন ৪ মিনিটের সিনেমা।

ঘটনার শুরু ‘গুণ্ডা নায়ক’ হাবিব ও তার প্রেম নিয়ে। তার প্রেমিকা প্রভাবশালী ক্যাডার ফেরদৌস ওয়াহিদের মেয়ে শার্লিনা। চলচ্চিত্রে প্রেমিকার ভাই মানেই ভিলেন। সুতরাং শার্লিনার ভাই অদিতও ভিলেন। এটা নিয়ে দু’পক্ষের বিস্তর মারামারি। শেষে ‘নায়কোচিত’ আচরণে প্রেমিকার বাবার মন জয় করতে সমর্থ হন হাবিব।

গল্পটা এমনই। বাংলা গানের মিউজিক ভিডিও হিসেবে বেশ চমকপ্রদ গল্প। তারও বেশি চমকপ্রদ নির্মাণ। তবে এই নির্মাণের সফলতা শুধু তানিম রহমান অংশুর একা নয়। এখানে তারকা শিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদ, অদিত, হাবিবদের অংশগ্রহণ ও দুর্দান্ত অভিনয়ও ব্যাপার। এই ভিডিও যদি উপভোগ্য না হতো, তাহলে বিস্ময়ের সীমা থাকত না। অন্যভাবে বললে, রাম-শ্যাম যে-কেউই এই ভিডিও নির্মাণ করলে হিট হওয়ার সম্ভাবনা থাকত।

‘ঝড়’-এর ভিডিও দশে দশ। কোনো সন্দেহ নেই।

এবার গান প্রসঙ্গে। মানে অডিও। হাবিব ওয়াহিদ অনেক শ্রোতাপ্রিয় গানের স্রষ্টা। বাউল আবদুল করিমের গানগুলো রিমেক করে রাতারাতি তারকাখ্যাতি পেয়ে যান তিনি। তখন অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন হাবিব মৌলিক গানের শ্রোতাপ্রিয় শিল্পী হতে পারবেন না। হাবিব নিজগুণে সেসব আশঙ্কা উড়িয়ে দেন। মৌলিক গানের গুণী সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেন। অবশ্য গায়ক হিসেবে হাবিব বরাবরই নিম্নমানের।

হাবিব ওয়াহিদ যখন একের এক মৌলিক হিট দিয়ে বাংলা গানের ভান্ডার সমৃদ্ধ করছেন, তখন অনেকেই তার মধ্যে ভবিষ্যতের ‘বাংলা গানের রত্ন’ আবিষ্কার করছেন।

সেই হাবিব ক’বছর যেতে না যেতেই যেন ফুরিয়ে গেলেন। তার সুরে সেই ধার ক্ষয়ে গেল। মিউজিকের যে বৈচিত্র্য শ্রোতাদের মুগ্ধ করত, তাও হারিয়ে গেল। থেকে গেল শুধু ‘পরিষ্কার সাউন্ড’।

‘ঝড়’ গানও পরিষ্কার সাউন্ড ছাড়া আর কিছু না। গানের কথা টানে না। সুরে টানে না। গায়কিতে টানে না। মিউজিকে টানে না। শুধু সাউন্ডটাই শোনা যায়। পরিষ্কার শোনা যায়।

‘ঝড়’ তাই গান হয়নি। হয়েছে শুধু ফান। একটা ফানি মিউজিক ভিডিও। অবশ্য তাতে সংশ্লিষ্টদের হয়তো কিছুই যায় আসে না। কারণ, কে গান শুনল আর না শুনল তাতে কী! দেখছে তো। ভিউ হচ্ছে তো। সেটা হলেই চলে। সঙ্গীতশিল্পীদের চলে। অডিও প্রযোজকদেরও চলে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads