• বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
ads
নিউইয়র্কে ‘হুমায়ূন মেলা’ ফ্লপ

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দর্শক ও অতিথিসহ মোট মানুষ ছিল ২২ জন

সংগৃহীত ছবি

আনন্দ বিনোদন

নিউইয়র্কে ‘হুমায়ূন মেলা’ ফ্লপ

  • প্রকাশিত ১১ অক্টোবর ২০১৮

তোফাজ্জল লিটন, নিউইয়র্ক থেকে

‘এই মেলায় জিনিস-পাতি নিয়ে আসতে আমার যে ৬০ ডলার খরচ হয়েছে তা-ই উঠবে না শাড়ি-গহনা বিক্রি করে। মেলা আয়োজকদের চারশ ডলার কী করে তুলব আমি আছি সেই চিন্তায়। লাভ করার কথা তো কল্পনাও করি না। আমাদের স্টল ভাড়া দেওয়ার সময় বলছে অনেক বড় মেলা হবে। আইসা দেখি মানুষই নেই। ভালো শিল্পী আর প্রচার না থাকলে কি মানুষ হয়? শাওনের গানের সময় কিছু মানুষ হয় কিন্তু তারা তো কেউ কিছু কেনে না।’ কথাগুলো বলছিলেন নিউইয়র্কে ‘হুমায়ূন মেলা’য় আগত বিক্রেতা রনি বুটিকসের কর্ণধার আল-আমিন।

নিউইয়র্কের কুইন্স প্যালেসে ৭-৮ অক্টোবর দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘হুমায়ূন মেলা’। প্রথম দিন বেলা ৩টায় মেলা উদ্বোধন করেন হুমায়ূন আহমেদের দ্বিতীয় স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাহিত্যিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, সাংবাদিক নঈম নিজাম এবং নিউইয়র্কের কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফাইজুন্নেসা।

প্রথম দিন সরেজমিন দেখা গেছে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দর্শক ও অতিথিসহ মোট মানুষ ছিল ২২ জন। মেলা শুরু হওয়ার পরই বসে শাড়ি-গহনা এবং বইয়ের স্টল। সাহিত্যিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম যখন হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করছিলেন তখন দর্শক সারিতে ২৭ জন বসা ছিলেন। সন্ধ্যায় গানের অনুষ্ঠান শুরু করেন কৃষ্ণা তিথি। তখন দর্শক বেড়ে দাঁড়ায় ৩৮ জনে।

শাওনের গান শুরুর আগে মেলার আয়োজক শো টাইম মিউজিকের কর্ণধার আলমগীর খান আলম দর্শক সারিতে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন সাপ্তাহিক দেশ কণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক দর্পণ কবির ও সাপ্তাহিক আজকাল পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক শাহাব সাগরের সঙ্গে। তখন একপর্যায়ে আলমগীর খান মেলা নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন,  আগামীবার ‘হুমায়ূন মেলা’ নাম পরিবর্তন করে ‘হুমায়ূন সম্মেলন’ করে দেব। আমি মনে করি এ ধরনের মেলা আয়োজন আমার কাজ না। সামনের বার যারা নিজেদের বুদ্ধিজীবী মনে করেন নিউইয়র্কে, তাদের হাতে ছেড়ে দেব এই মেলা। ৫০ জনের কমিটি করে দেব,  আমি আর কিছুতে নেই।

শাওনের গান শোনার জন্য দর্শক বাড়তে থাকে ক্রমে। বেশ কয়েকজন গাওয়ার পর মঞ্চে আসেন এসআই টুটুল ও শাওন। এর মধ্যে দর্শক বেড়েছে ১০০-১২০ জনে। প্রথম দিনে বই বিক্রি হয়েছে ২৫টি। শাওনের লেখা ‘হুমায়ূন সঙ্গীত নদীর নামটি ময়ূরাক্ষী’ বই বিক্রি হয়েছে সবচেয়ে বেশি, তিনটি। শাড়ি-গহনা বিক্রেতাদের কান্না করার মতো অবস্থা। কারণ স্টল ভাড়া তো দূরে থাক তাদের গাড়ি ভাড়া উঠবে কি না সন্দেহ।

‘মেলার শেষ দিনের অবস্থাও প্রথম দিনের মতো। সেমিনার হয়েছে। কবিতা আবৃত্তি হয়েছে। দর্শক সেই ২৫-৩০ জন। সন্ধ্যার পর মেলায় যখন গান শুরু হয় তখন দর্শক জড়ো হয়। এ যেন অন্য অনুষ্ঠানের মতোই আরেকটি গানের আসর। শাওনের গানের সময়ই দর্শক একাগ্র হয়ে গান শোনে। হুমায়ূন মেলা শেষ পর্যন্ত হয়ে দাঁড়িয়েছিল শাওনের গানের অনুষ্ঠানে। দর্শকের কেউ কেউ বলেছেন মেলার নাম ‘হুমায়ূন মেলা’ না হয়ে ‘শাওন মেলা’ হলেই উপযুক্ত হতো।’ কথাগুলো বলছিলেন জ্যামাইকা থেকে আগত  সাজ্জাদ হোসেন।

ব্লগার তানভীর রাব্বানি বলেন, নিউইয়র্ক বইমেলায় এলে হুমায়ূন আহমেদকে পূরবী বসু ও তার স্বামী জ্যোতি প্রকাশ দত্ত হাই-হ্যালো পর্যন্ত করতেন না। তারাই আজ হুমায়ূন মেলার বিশেষ অতিথি! নিউইয়র্কের সাহিত্য আসরে তারা এক সময় হুমায়ূন আহমেদকে বলতেন ক্লাস থ্রি-ফোরের ছাত্রদের লেখক।

আগামী প্রকাশনীর ওসমান গনি ১৯৯৪ সালে নিউজার্সিতে অনুষ্ঠিত ফোবানা সম্মেলনে হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয়তা দেখে তাকে অপদস্থ করার জন্য হুমায়ূন আজাদকে দিয়ে ‘অপন্যাসিক’ আখ্যায়িত করে নিউইয়র্কের পত্রিকাগুলোয় ফ্যাক্স পাঠিয়েছিলেন। খবরটি প্রকাশ হয়েছিল তৎকালীন সাপ্তাহিক ঠিকানা, বাঙালি এবং অধুনালুপ্ত প্রবাসীতে। সেই ওসমান গনি এবারের হুমায়ূন মেলা উপলক্ষে প্রকাশিত ম্যাগাজিনে বাণী দিয়েছেন। অতিথি হয়ে এসেছেন। আবার ঘোষণা দিয়েছেন আগামী বছর আরো অনেক প্রকাশক নিয়ে হুমায়ূন মেলা করবেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads