• মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২৯ কার্তিক ১৪২৫
ads

আনন্দ বিনোদন

হিসু যখন ইস্যু

  • সোহেল অটল
  • প্রকাশিত ০৮ নভেম্বর ২০১৮

হিসু এই দেশে প্রথমবার ইস্যু হলো, তা না। এর আগেও এক হিসুকাণ্ড দেশে তোলপাড় তুলেছিল।

বেশ কয়েক বছর আগের কথা। এক বিচারক (এখন অবসরপ্রাপ্ত) মর্নিংওয়াকে বেরিয়ে বিচারালয়ের সামনে দাঁড়িয়েই হিসু করে দিচ্ছিলেন। কর্তব্যরত পুলিশ এহেন অমর্যাদাকর কর্মটি বরদাশত করতে পারেননি। হিসুরত বিচারককে রীতিমতো ধমক-টমক দিয়ে নাজেহাল করে ফেলেছেন। পরে যখন জানতে পেরেছেন তিনি এই বিচারালয়েরই কর্তা, তখন বিব্রত হয়ে পড়েছেন।

বিব্রত হয়েছেন স্বয়ং বিচারকও। তিনি নিতান্ত অনিচ্ছায় অমন স্পর্শকাতর জায়গায় হিসু করতে দাঁড়িয়েছিলেন। মূলত তিনি বহুমূত্র রোগী। ওখানে না দাঁড়ালে হয়তো যাচ্ছেতাই কাণ্ড ঘটে যেত।

এক কান দুই কান করে গল্পটি প্রচার হলে প্রশংসিত হয় পুলিশ, বিচারালয়ের মর্যাদা রক্ষায় তৎপর থাকার জন্য। সহানুভূতি ঝরে পড়ে বিচারকের জন্যও। আহা বহুমূত্র!

হিসুটা ইস্যু হয়ে ফিরেছে দেশে আবার। এবার নির্মিতব্য এক চলচ্চিত্রের গানে। ‘মাতাল হয়ে হিসু করব দেয়ালে/শালা যা হবে দেখা যাবে কাল সকালে’- এমন কথার এক গান নিয়ে দেশ তোলপাড়। মূলত তোলপাড় সঙ্গীতাঙ্গন। দেশের বড় বড় সব নামজাদা সঙ্গীতজ্ঞের নাকি নাককাটা গেছে তাতে।

তা অবশ্য যাওয়ারই কথা। এমন হিসু-টিস্যু নিয়ে গান হয় কী করে? গান হবে ‘আমি-তুমি’ এবং ‘তুমি-আমি’ নিয়ে। এবং সেসব গান লেখার জন্য, সুর করার জন্য তাবড় তাবড় গীতিকার-সুরকার এই দেশে বিদ্যমান। অথচ ‘হিসু’ নিয়ে গান লেখাতে হলো কলকাতার প্রিয় চট্টোপাধ্যায়কে দিয়ে। সুর করাতে হলো কলকাতারই আকাশ সেনকে দিয়ে। নাককাটা না গেলেই বরং খারাপ দেখাত।

খবর রটেছে, দেশের নাককাটা যাওয়া সব সঙ্গীতজ্ঞ এক হয়েছেন। হিসু নিয়ে লেখা এই ‘বিশ্রী টাইপের’ গানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে।

বড়ই সুন্দর। দেশের সঙ্গীতজ্ঞরা যে ব্যাপক দায়িত্বশীল, বোঝাই যাচ্ছে। কিন্তু এই দায়িত্বশীলতা হুট করে বেড়ে গেল কেন? দেশের চলচ্চিত্রে মানহীন কথার গান হচ্ছে নব্বইয়ের দশকের পর থেকেই। শুধু মানহীন বললে কমই বলা হবে, রীতিমতো অশ্লীল কথার গান হচ্ছে ময়ূরী-মুনমুনদের সময় থেকে। সেসব গান লিখেছেন এদেশেরই স্বনামধন্য গীতিকাররা। সুরও করেছেন এ দেশেরই স্বনামধন্য সুরকাররা। তখন এসব সঙ্গীতজ্ঞ কোনো অভিযোগ মন্ত্রণালয়ে পাঠাননি কেন? কেন সবাই মিলে একজোট হননি? যদি তখন এই করিৎকর্মা ভূমিকাটি পালন করতেন, তাহলে দেশের চলচ্চিত্রের এই দুর্দিন দেখতে হতো না। অন্তত গানের দুর্দিন আসত না।

আর হিসু নিয়ে ‘দহন’ চলচ্চিত্রে যে গানটি হয়েছে, তাতে এমন আহামারি খারাপটাই বা কী হয়েছে? এটা নিয়ে এত ক্ষ্যাপার কী আছে তাও বোধগম্য নয়। চরিত্রের প্রয়োজনে নায়িকা যদি কাপড়-চোপড় খুলে ফেলতে পারেন এবং তাকে আমরা ‘শৈল্পিক’ আখ্যা দিয়ে হজম করতে পারি, তাহলে গল্পের প্রয়োজনে দেয়ালে হিসু করা যাবে না কেন? দেয়ালে হিসু করা নিয়ে গান হতে পারবে না কেন?

যুগ পাল্টাচ্ছে। যুগের চাহিদাও পাল্টাচ্ছে। সে চাহিদা মেটাতে নানান উপকরণ আমাদের সামনে হাজির হবে। হবেই। কেউ আটকাতে পারবে না। সেসব উপকরণ ‘পত্রপাঠ বিদায়’ বলে দেওয়াটা খুব একটা কাজের কথা না। একটু ভাবুন। ঠিক কতটা গ্রহণ করলে আমাদের ক্ষতি নেই, সেটা ভাবুন।

যারা অগ্রজ, সংস্কৃতি চর্চার রাস্তা বাতলে দেওয়ার কথা যাদের, তারা যদি না ভেবেই সিদ্ধান্তে পৌঁছে যান, তবে তো তরুণদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। হিসু এখন দেয়াল পর্যন্ত এসেছে, ভবিষ্যতে বেডরুমে ঢুকে পড়বে যে!

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads