• শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
আকাশপথ দখলে যাদের

দেশের অভ্যন্তরীণ গন্তব্যগুলোতে ফ্লাইটের সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস

ফিচার

আকাশপথ দখলে যাদের

  • প্রকাশিত ২৯ জুলাই ২০১৮

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস হলো বাংলাদেশের একমাত্র সরকারি এয়ারলাইনস। বাংলাদেশি পতাকাবাহী এই বিমানটি প্রধানত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করে। এ ছাড়াও চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেও এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়। আন্তর্জাতিক রুটের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ সেবাও প্রদান করে থাকে।

২০০৭ সালে এটি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরিত হয়। প্রধান কার্যালয়ের নাম ‘বলাকা ভবন’ ঢাকার কুর্মিটোলায় অবস্থিত। বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ গন্তব্যগুলোতে ফ্লাইটের সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে সপ্তাহে ৩২টি ফ্লাইট চলে বিমানের। ঢাকা-যশোর রুটে সপ্তাহে আটটি এবং ঢাকা-বরিশাল রুটে সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট পরিচালনা করছে এই সংস্থা। এ ছাড়া সিলেট রুটে প্রতি সপ্তাহে বিমান বাংলাদেশের ৩৪টি ফ্লাইট চলছে।

গ্রীষ্মকালীন সময়সূচি অনুযায়ী চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ওয়ানওয়ে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বনিম্ন ১৫০০ টাকা। ঢাকা-রাজশাহী ও ঢাকা-সৈয়দপুর রুটে প্রতিসপ্তাহে যথাক্রমে চারটি ও সাতটি ফ্লাইট পরিচালনা করছে বিমান।

বাংলাদেশ বিমানের নিজস্ব ৩৬টি টিকেট বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে আটটি বাংলাদেশে এবং ২৮টি বিদেশে। এ ছাড়া প্রায় এক হাজার এজেন্টের মাধ্যমে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস টিকেট বিক্রি করে।

অনলাইনে বুকিং দেওয়ার পর বুকিংয়ের প্রিন্ট কপি বা নম্বর নিয়ে বিমানের নিজস্ব বিক্রয়কেন্দ্র থেকে টিকেট সংগ্রহ করা যাবে। তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টিকেট সংগ্রহ না করলে বুকিং বাতিল হয়ে যাবে।

অনলাইনে বিমানের টিকেট পেতে www.biman-airlines.com ওয়েবসাইটে লগ-ইন করে টিকেট বুকিং দেওয়া যায়। ওয়েবসাইটটিতে ফ্লাইট সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্যও পাওয়া যাবে। তবে টিকেট সংগ্রহের জন্য যাত্রীদের বিমানের কার্যালয়ে যেতে হবে। অনলাইনে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করে টিকেট সংগ্রহের ব্যবস্থা রয়েছে।

ইউএস বাংলা

‘ফ্লাই ফার্স্ট-ফ্লাই সেফ’- এই স্লোগান নিয়ে ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই বাংলাদেশের বিমান পরিবহন শিল্পে যাত্রা শুরু করে ইউএস বাংলা। ৭৬ আসন বিশিষ্ট দুটি ড্যাশ ৮-কিউ ৪০০ এয়ারক্রাফট দিয়ে ঢাকা-যশোর রুটে প্রথম ফ্লাইট পরিচালনা করে সংস্থাটি। যাত্রা শুরুর মাত্র এক বছরের মধ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ সব রুটেই ফ্লাইট পরিচালনা করতে সক্ষম হয় এটি। স্বল্পতম সময়ে আকাশপথের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করতে এর অবদান অনস্বীকার্য। বর্তমানে অভ্যন্তরীণ রুটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, যশোর, সৈয়দপুর, বরিশাল, রাজশাহী রুটে প্রতিদিন ফ্লাইট পরিচালনা করছে ইউএস বাংলা।

বর্তমানে ইউএস-বাংলার বিমান বহরে মোট সাতটি এয়ারক্রাফট রয়েছে, যার মধ্যে ১৬৪ আসনের চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এবং ৭৬ আসনের তিনটি ড্যাশ ৮-কিউ ৪০০ এয়ারক্রাফট আছে। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে সপ্তাহে ৩৩০টির অধিক ফ্লাইট পরিচালনা করে সংস্থাটি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত চার বছরে ইউএস-বাংলা প্রায় ৪২ হাজার ফ্লাইট পরিচালনা করে বাংলাদেশে আকাশ পরিবহনে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে।

ইউএস-বাংলার টিকেট সংগ্রহ করার জন্য রয়েছে অনলাইন বুকিং সুবিধা। রয়েছে হোম ডেলিভারি সুবিধাও। সারা দেশে নিজস্ব ৩০টি সেলস অফিস রয়েছে। ফ্রিকোয়েন্ট ফ্লাইয়ারদের জন্য রয়েছে স্কাইস্টার প্যাকেজ। এর মাধ্যমে টিকেটে সুবিধাসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পণ্য ক্রয়েও ডিসকাউন্ট সুবিধা পায় যাত্রীরা।

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম রুটে ইউএস বাংলার সর্বনিম্ন ভাড়া ২৫০০ টাকা এবং কক্সবাজার রুটে ৩৯৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া সিলেট, সৈয়দপুর, রাজশাহী, বরিশাল ও যশোর রুটে সর্বনিম্ন ভাড়া ২৬৯৯ টাকা।

নভোএয়ার

২০১৩ সালে বেসরকারি বিমান সংস্থা হিসেবে নভোএয়ার যাত্রা শুরু করে। প্রথমদিকে শুধু ঢাকা-চট্টগ্রাম ফ্লাইট দিয়ে শুরু করলেও অতি অল্প সময়ের মধ্যে তারা কক্সবাজার, যশোর এবং সিলেটেও ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে। মাত্র দুটি বিমান নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও গ্রাহকদের চাহিদার কারণে খুব দ্রুত তাদের বিমান এবং ফ্লাইট সংখ্যাও বেড়ে যায়। বর্তমানে এদের বহরে ৫টি বিমান আছে।

বর্তমানে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সৈয়দপুর, যশোর এবং সিলেটে মোট ১৮টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এটিআর ৭২-৫০০ মডেলের উড়োজাহাজগুলো সাধারণত ২-২ স্টাইল আসন বিন্যাসে ৬৮ যাত্রী বহন করতে সক্ষম।

নভোএয়ার সবসময়ই অভ্যন্তরীণ আকাশভ্রমণকে আরো জনপ্রিয় করতে চেয়েছে। তাই বিমান ভাড়াকে মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে রাখারই জোর প্রচেষ্টা তাদের। যাত্রীদের সুবিধার জন্য অনেক প্যাকেজে টিকেট বিক্রি করে সংস্থাটি। স্পেশাল প্রোমো, প্রোমো, স্পেশাল, ডিসকাউন্ট, সেভার, ফ্লেক্সিবল- এই অফারগুলোর মধ্যে স্পেশাল প্রোমো প্যাকেজের দাম সবচেয়ে কম আর ফ্লেক্সিবলের দাম সবচেয়ে বেশি। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ২৫০০, কক্সবাজার ৩৯০০, রাজশাহী, যশোর, সিলেট ও সৈয়দপুরে ২৭০০ টাকা করে সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি। সরাসরি ছাড়াও নভোএয়ারের ওয়েবসাইট থেকেই টিকেট ক্রয় করা যায়। ঢাকায় বনানীতে (বাড়ি ৫০, রোড ১১, ব্লক এফ) নভোএয়ারের অফিস ছাড়াও সারা দেশে ২১টি সেলস এবং সার্ভিস সেন্টার রয়েছে।

নভোএয়ার বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় বিমান সংস্থা। এই জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে আরো সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়াই তাদের লক্ষ্য। ভবিষ্যতে তারা গন্তব্যের সংখ্যাও বাড়াতে ইচ্ছুক।

10392080_990219264370854_1614220769571742045_n

রিজেন্ট এয়ারওয়েজ

রিজেন্ট বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা ৫টি। নিত্যনতুন অফার এবং টিকেটের মূল্য ছাড়ের মাধ্যমে ইতোমধ্যেই ভ্রমণকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে রিজেন্ট।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads