• সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি

টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি

সংগৃহীত ছবি

ফিচার

টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি

  • টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ০৭ আগস্ট ২০১৮

রমণীদের পছন্দের পোশাকে টাঙ্গাইলের শাড়ি শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। দেশের মার্কেটগুলোতে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়তা অর্জন করে দেশের বাইরেও এ শাড়ি ছড়িয়ে পড়ছে। যার ফলে মহাজনদের চাহিদা অনুযায়ী তাঁতের তৈরি শাড়ি সরবরাহ করতে সর্বদা ব্যস্ত থাকেন এখানকার তাঁতিরা। প্রাচীন ইতিহাস-ঐতিহ্য, লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতিতে টাঙ্গাইল জেলার অবস্থান অনেক উঁচুতে। আর এ উঁচুতে নেওয়ার কাণ্ডারি হিসেবে দাবিদার টাঙ্গাইলের তাঁতশিল্প। প্রাচীনকাল থেকে টাঙ্গাইলের দক্ষ কারিগররা তাদের বংশ পরম্পরায় তৈরি করছেন এ শাড়ি। তা ছাড়া বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা ও হিউয়েন সাংয়ের ভ্রমণ কাহিনীতে টাঙ্গাইলের বস্ত্রশিল্প অর্থাৎ তাঁতশিল্পের উল্লেখ রয়েছে। বর্তমানে তাঁতের শাড়ির জন্যই টাঙ্গাইলের সুনাম বা পরিচিতি দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বব্যাপী। টাঙ্গাইলের তাঁতের জামদানি শাড়ি তৈরি করতে হাতের কাজ করা হয় খুব দরদ দিয়ে, গভীর মনোযোগের সঙ্গে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও সুদৃশ্যভাবে।

পুরুষরা তাঁত বোনে। চরকা কাটা ও তানা পারির কাজে সহযোগিতা করে বাড়ির মহিলারা। তাঁতিরা মনের মাধুরী অনুযায়ী রং মিশিয়ে শাড়ির জমিনে শিল্পসম্মতভাবে তাঁত মেশিনের মাধ্যমে নানা ডিজাইন করে বা নকশা তৈরি করে। এর নকশা, বুনন ও রঙের ক্ষেত্রে রয়েছে ব্যাপক বৈচিত্র্য। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের কলকাতা থেকে আগত শাড়ি ব্যবসায়ী প্রদীপ আগরওয়াল ও শান্তিপুর পশ্চিমবঙ্গের প্রদীপ ভৌমিক বলেন, সারা বছরই প্রায়ই এ শাড়ির চাহিদা রয়েছে। ঈদ কিংবা পূজায় টাঙ্গাইলের শাড়ির ব্যাপক চাহিদা থাকার কারণে প্রতিবছর এ সময়টাতে আমরা টাঙ্গাইল আসি এবং পছন্দমতো কাপড় নিয়ে যাই। ব্যবসায়ী আমির আলী জানান, টাঙ্গাইলের শাড়ির বৈশিষ্ট্য হলো- কাপড়ের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সূক্ষ্ম কারুকাজ। এ শাড়ি তৈরি করার জন্য আমরা ১শ’, ৮০, ৮২ ও ৮৪ কাউন্টের সুতা ব্যবহার করে থাকি।

অন্যান্য শাড়ি ১০ হাত থেকে সর্বোচ্চ ১১ হাত মাপে তৈরি হয়ে থাকে আর টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি তৈরি হয় ১৪ হাত মাপে। এ শাড়ি নরম মোলায়েম এবং পরতে আরাম, টেকেও অনেক দিন। এ ছাড়া সময় ও চাহিদার সঙ্গে তাল রেখে দিন দিন পাল্টে যাচ্ছে টাঙ্গাইল শাড়ির আকর্ষণ ও নকশার ব্যঞ্জনা। তবে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, সরকার এ শিল্পের উন্নয়নে কোনো নজর দিচ্ছে না। সুতার দাম দিন দিন নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। যার ফলে এ ব্যবসা চলে যাচ্ছে সাধারণ তাঁতিদের কাছ থেকে বিত্তবানদের কাছে। ভারতীয় শাড়ি আমদানি বন্ধ করে ও ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইলের তাঁতশিল্পকে বাঁচাতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সম্প্রতি এই তাঁত শাড়িকে জেলা ব্র্যান্ডিং হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে বলে জানান স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads