• রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
উত্তম চরিত্রই সকল ভালো কাজের মূল

প্রত্যেকের জীবনে সফলতা অর্জনের জন্য সচ্চরিত্রবান হওয়াই পূর্বশর্ত

সংগৃহীত ছবি

ফিচার

উত্তম চরিত্রই সকল ভালো কাজের মূল

  • এম এম আবু দাউদ
  • প্রকাশিত ১৫ আগস্ট ২০১৮

পৃথিবীতে এ পর্যন্ত যত মতবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সবক’টিতেই সর্বজনীনভাবে স্বীকৃত যে, সচ্চরিত্র মানবজীবনের অমূল্য সম্পদ। সচ্চরিত্রবান মানুষ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ। তাই তো রসুল (সা.) সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আপনি মহোত্তম চরিত্রের অধিকারী।’ এখানে মহোত্তম চরিত্র বলতে যাবতীয় মানবীয় গুণে গুণান্বিত হওয়াকে বোঝায়। সৎ স্বভাব সম্পর্কে রসুল (সা.) বলেন, ‘সৎ স্বভাবের উন্নত আদর্শ পূর্ণ করতেই আমি প্রেরিত হয়েছি।’ অন্য জায়গায় রসুল (সা.) বলেন, ‘কেবল সৎ স্বভাবকে দাঁড়ির এক পাল্লায় স্থাপন করে অন্য সমুদয় আমল অপর পাল্লায় স্থাপন করলে সৎ স্বভাবই অধিক ভারী হবে।’

এক ব্যক্তি হুজুর (সা.)-এর খেদমতে হাজির হয়ে আরজ করল, ইয়া রসুলাল্লাহ (সা.)! মানুষকে প্রদত্ত আল্লাহর সর্বোত্তম নিয়ামতটি কী? তিনি বললেন, সৎ চরিত্র। বরফ যেমন সূর্যের উত্তাপে গলে যায়, সৎ স্বভাব সেরূপ গুনাহসমূহকে নষ্ট করে ফেলে।

কিছু লোক একদিন রসুল (সা.)-এর খিদমতে হাজির হয়ে জানাল, অমুক স্ত্রীলোক সর্বদা সিয়াম পালন করে এবং সমস্ত রাত নামাজে কাটায়। কিন্তু তার স্বভাব বড় খারাপ, অশ্লীল। প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়। এ কথা শুনে রসুল (সা.) বলেন, সে জাহান্নামী। প্রায় সময় আল্লাহর রসুল দোয়া করতেন, ‘হে আল্লাহ! আমার শারীরিক আকৃতি যেমন সুন্দর করেছেন, আমার স্বভাবও সেরূপ সুন্দর করে দিন।’ প্রত্যেকের জীবনে সফলতা অর্জনের জন্য সচ্চরিত্রবান হওয়াই পূর্বশর্ত। এ বিষয়ে কোরআনে আল্লাহ বলেন, সে ব্যক্তিই সফলকাম হবে, যে নিজেকে পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন করবে এবং সে ব্যক্তিই ব্যর্থ হবে, যে নিজেকে কু-স্বভাব দ্বারা কলুষিত করবে।’ কু-স্বভাব বর্জন করেই সু-স্বভাব অর্জন করতে হয়। মানুষ চেষ্টা করে স্বভাবের উন্নতি করে সৎ স্বভাবের অধিকারী হতে পারে। রসুল (সা.) বলেন, ‘উত্তম চরিত্রই হলো সকল নেক কাজের মূল।’ সচ্চরিত্র মানুষের বিশেষত মুমিনের উত্তম ভূষণ। সচ্চরিত্র বলেই প্রকৃত ঈমানদার হওয়া যায়। অন্যত্র তিনি আরো বলেন, ‘তোমাদের মাঝে সে ব্যক্তিই উত্তম যার চরিত্র সর্বোৎকৃষ্ট।’ পবিত্র কোরআনে সচ্চরিত্রের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। এখানে মানুষের জীবনে সফলতার জন্য ঈমানের পর পরই সচ্চরিত্রকে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় আমল সাব্যস্ত করা হয়েছে। যেহেতু সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব মানুষ, মানুষের ক্ষেত্রে সচ্চরিত্র হচ্ছে ঈমান আর অসচ্চরিত্র হচ্ছে মুনাফেকি। অসচ্চরিত্রকে ঈমানের বিপরীত আমল বলে বিবেচনা করা হয়েছে এবং তা থেকে বেঁচে থাকতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। কেননা সচ্চরিত্রহীন ব্যক্তি পশুর সমতুল্য বরং পশুর চেয়েও অধম ও নিকৃষ্ট।

লেখক : আলেম

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads