• শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করছে এজেন্ট ব্যাংকিং

এজেন্টের কাছ থেকে সেবা নিচ্ছেন এক নারী গ্রাহক

সংগৃহীত ছবি

ফিচার

গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করছে এজেন্ট ব্যাংকিং

  • সাইদ আরমান
  • প্রকাশিত ২৬ আগস্ট ২০১৮

নাজমা আকতার। এক নারীর উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প রচনা করেছেন যিনি। গতানুগতিক কোনো উদ্যোগ হাতেও নেননি। উদ্যোক্তাতা হওয়ার আগে বিবেচনা করেছেন সম্মানজনক কিছু করার। মনে রেখেছিলেন সেবা দেওয়ার বিষয়টি। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক সাশ্রয়ীভাবে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম অনুমোদন দেওয়া শুরু করে। আর এই সুযোগই গৃহিণী নাজমা আকতারের স্বপ্ন পূরণের হাতছানি দেয়। বেসরকারি খাতের মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি) এজেন্ট ব্যাংকিং শুরু করলে তিনি যোগাযোগ করেন ব্যাংকটির সঙ্গে। ব্যাংকও নাজমা আকতারের স্বপ্ন আর মনোভাবে সায় দিয়েছে। যুক্ত করেছে এজেন্ট হিসেবে। এভাবে গৃহিণী থেকে উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছেন নাজমা আকতার। আর শাখার বাইরে ব্যাংকিং সেবা দিয়ে যাচ্ছেন প্রান্তিক মানুষকে।

বাংলাদেশের সিংহভাগ জনগোষ্ঠীর বসবাস গ্রামে। যেখানে ভৌত অবকাঠামোর পর্যাপ্ততার অভাবে প্রথাগত ব্যাংকিং সেবা পুরোপুরি বিকশিত হয়নি। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ আর্থিক অন্তর্ভুক্তির বাইরে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি বাড়াতে অন্তরায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী  হাসান বললেন, যেখানে ব্যাংকের শাখা নেই ওইসব এলাকার ব্যাংকিং সুবিধাবঞ্চিতদের ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে চালু হয় এজেন্ট ব্যাংকিং।  ব্যাংকের ডেবিট কার্ডও ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন তারা। ফলে দ্রুতগতিতে জনপ্রিয় হচ্ছে ব্যাংকিংয়ের নতুন এ মাধ্যম। প্রতিনিয়ত বাড়ছে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক সংখ্যা। বাড়ছে লেনদেনের পরিমাণও।

বর্তমানে ২০টি ব্যাংক শাখাবিহীন এই ব্যাংকিং কার্যক্রমের অনুমোদন পেয়েছে। যার একটি বাদে ১৬টি কার্যক্রম শুরু করেছে। যাদের আউটলেটের মাধ্যমে ১৪ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৭ গ্রাহক হিসাব খুলেছেন। এই হিসাবের মধ্যে ১২ লাখ ৫৭ হাজার হিসাবই গ্রামের। আর বাকি ২ লাখ ১১ হাজার হিসাব খুলেছেন শহরের মানুষ। বর্তমানে মোট এজেন্ট সংখ্যা ৩ হাজার ২১৬। এর ২ হাজার ৯৪২ এজেন্ট গ্রামের। বাকি ২৭৫ এজেন্ট শহরের। আর মোট আউটলেটের সংখ্যা ৪ হাজার ৯০৫, যার ৪ হাজার ৫২৬ টির অবস্থানে গ্রামে। এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করে বেসরকারি খাতের ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এজেন্ট ব্যাংকগুলোর কাছে মোট আমানত দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা, যা আগের প্রান্তিকের থেকে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ। চলতি বছরের মার্চ শেষে এজেন্ট ব্যাংকগুলোর কাছে গ্রাহকের আমানত ছিল ১ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা। আর এই আমানত রয়েছে তিনটি ব্যাংকের কাছে। সেগুলো হলো আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড এবং ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব বলছে, বর্তমানে ২০টি ব্যাংক শাখা বিহীন এই ব্যাংকিং কার্যক্রমের অনুমোদন পেয়েছে। যার চারটি বাদে ১৬টি কার্যক্রম শুরু করেছে। যাদের আউটলেটের মাধ্যমে ১৪ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৭ গ্রাহক হিসাব খুলেছেন। এই হিসাবের মধ্যে ১২ লাখ ৫৭ হাজার হিসাবই গ্রামের। আর বাকি ২ লাখ ১১ হাজার হিসাব খুলেছেন শহরের মানুষ।

বর্তমানে মোট এজেন্ট সংখ্যা ৩ হাজার ২১৬। এর ২ হাজার ৯৪২ এজেন্ট গ্রামের। বাকি ২৭৫ এজেন্ট শহরের। আর মোট আউটলেটের সংখ্যা ৪ হাজার ৯০৫। যার ৪ হাজার ৫২৬টির অবস্থান গ্রামে। এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করে বেসরকারি খাতের ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড। ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী আবুল কাশেম মোহাম্মদ শিরিন বলেন, ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে মোবাইল ব্যাংকিং জনপ্রিয়তা পেলেও কিছু কারণে এটি প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সেদিক থেকে এজেন্ট ব্যাংকিং নিয়মিত নীতির মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। 

জানা গেছে, ২০১৩ সালের প্রথম নীতিমালায় প্রথমে শুধু পল্লী এলাকায় এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের অনুমতি দেওয়া হলেও পরের বছর নীতিমালায় কিছুটা সংশোধন আনা হয়। সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী যেখানে ব্যাংকের শাখা নেই এমন পৌর ও শহর অঞ্চলেও এজেন্ট নিয়োগ দেওয়া যায়।

এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবহার করে ঋণ দিতেও আগ্রহী হচ্ছেন অনেকে। সর্বশেষ হিসাব মতে এজেন্ট ব্যাংকে হিসাব পরিচালনা করে ১২২ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন গ্রাহকরা। নারী গ্রাহকরা ঋণ নিয়েছেন ৭৬ কোটি টাকা। আর পুরুষ গ্রাহক নিয়েছেন ৩৮ কোটি টাকা ঋণ। অপরদিকে, শহরের ঋণ গেছে ১৫ কোটি। গ্রামের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০৬ কোটি টাকা। 

আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক কার্যক্রমের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক মোবাইল ফোনে আর্থিক সেবা কার্যক্রম চালুর অনুমতি দিয়েছে। বর্তমানে ২১টি ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করলেও এর প্রায় ৭০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিকাশের হাতে।

ফলে মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় একটি অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। পিছিয়ে থাকা ব্যাংকগুলো ভালো করতে পারছে না। তবে এরই মধ্যে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ব্যবহার করে ডিজিটাল হুন্ডির তথ্য বেরিয়ে আসে। বাংলাদেশ ব্যাংক অনুসন্ধান করে ঘটনার সত্যতাও পায়। প্রমাণের ভিত্তিতে বিকাশের প্রায় ৩ হাজার এজেন্টের লাইসেন্স বাতিল করার নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads