• শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads

ফিচার

বিশেষ সাক্ষাৎকার

  • প্রকাশিত ২৮ আগস্ট ২০১৮

দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ জেলা গড়তে চাই

মোহাম্মদ আতিকুর রহমান

জেলা প্রশাসক, মাগুরা

খুলনা বিভাগের ১০ জেলার মধ্যে মাগুরা একটি অন্যতম জেলা। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা মাগুরা জেলার ওপর অনেকাংশে নির্ভর করে। আমি এ জেলায় যোগদানের পর থেকেই প্রশাসনের প্রতিটি দফতর থেকে শুরু করে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে জেলা ব্রান্ডিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। এ জেলার অনেক খ্যাতি রয়েছে। ইতোমধ্যে এ জেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ভিক্ষুকমুক্ত ও বাল্যবিয়েমুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি শিশু পরিবারের শিশুদের সক্ষম ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সমন্বিত উদ্যোগ, মাদক প্রতিরোধে মাদকমুক্ত মাগুরা শীর্ষক কার্যক্রম, কোচিং বাণিজ্য প্রতিরোধে পদক্ষেপ, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং পর্যটন গন্তব্য হিসেবে মাগুরাকে নিয়ে প্রচারের উদ্দেশ্যে পত্রিকার বিশেষ সংখ্যা প্রকাশের কাজ এগিয়ে চলছে।

 

মাদক ব্যবসা ও জঙ্গিবাদ নির্মূলের চেষ্টা করছি

খান মুহাম্মদ রেজোয়ান

পুলিশ সুপার, মাগুরা

আমি কয়েক মাস আগে মাগুরা জেলায় যোগদান করেছি। যোগদানের পর থেকেই এ জেলার আইন-শৃঙ্খলা, মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন গ্রামে দাঙ্গা সম্পর্কে অবগত হই। মাগুরা জেলায় যেসব স্থানে মাদক ব্যবসা হয়, সেসব স্থান চিহ্নিত করে অভিযান শুরু করি। মাদকের বিরুদ্ধে কয়েকটি সফল অভিযান পরিচালনা করে জেলার শীর্ষ কয়েকজন মাদকসেবীকে ধরতে সক্ষম হই। আমি জেলার মাদক ব্যবসা নির্মূল করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তাছাড়া জেলার বিভিন্ন গ্রামে দাঙ্গা-হাঙ্গামা দমন করতে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, মেম্বার ও মসজিদের ইমামদের সঙ্গে মতবিনিময় চালিয়ে যাচ্ছি। এর আগে জেলার বিভিন্ন গ্রামে যে সামাজিক দলাদলি, দাঙ্গা ছিল তা বর্তমানে অনেক সহনীয় পর্যায়ে এসেছে।  ইতোমধ্যে অনেক মাদক ব্যবসায়ী ও চোর আটক হয়েছে। সব শ্রেণির মানুষের সহায়তায় আগামীতে মাগুরাকে সন্ত্রাস, মাদক ও জঙ্গিবাদমুক্ত করতে কাজ চালিয়ে যাব।

 

পৌরসভাকে মডেল নগরী হিসেবে গড়তে কাজ করছি

খুরশীদ হায়দার টুটুল

মেয়র, মাগুরা পৌরসভা

আমার বাবা মরহুম আলতাফ হোসেন ছিলেন মাগুরার গণমানুষের নেতা। বাবার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিয়ে মাগুরার মানুষ আমাকে ভোট নিয়ে মেয়র নির্বাচিত করেছে। আগের মাগুরা পৌরসভাকে আমি দিয়েছি আধুনিক রূপ। পুরনো মার্কেট ভেঙে আমরা আধুনিক মার্কেট নির্মাণ, শহরের রাস্তা প্রশস্তকরণ, ড্রেন ব্যবস্থার উন্নয়ন, সাধারণ পথচারীদের জন্য ফুটপাত, পানি সরবরাহ, বিদ্যুৎ, নাগরিক সুবিধার সার্বিক উন্নয়নে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। মাগুরা পৌরসভাকে মডেল নগরীতে পরিণত করতে যা যা প্রয়োজন তা আমরা করতে চেষ্টা করছি। পৌর ট্যাক্স ও পৌরকর দিয়ে পৌর কর্মচারীদের বেতন ভাতা হয় না। তা বাদেও যে টাকা থাকে তা দিয়ে উন্নয়ন করা সম্ভব হয় না। কিছু প্রকল্পের টাকা নিয়ে আমরা পৌরসভার সামগ্রিক উন্নয়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আগামীতে মাগুরাবাসীকে নিয়ে উন্নত নগরী গড়তে সর্বাত্মক কাজ করে যাব।

 

 

শিল্প-কারখানা স্থাপনের চেষ্টা চলছে

আনিসুর রহমান খোকন

পরিচালক, চেম্বার অব কমার্স, মাগুরা

ঢাকাসহ সারা দেশের সঙ্গে জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত থাকা সত্ত্বেও এখানে তেমন কোনো ভারী শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠেনি। প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা না থাকা, দেশি-বিদেশি কোনো ভালো উদ্যোক্তা না থাকায় আগে থেকেই এ জেলায় কোনো শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠেনি। মাগুরা টেক্সটাইল মিলস নামে একটি বস্ত্রকল লোকসানের জন্য অনেক আগে বন্ধ হয়ে যায়। জেলার অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও আমরা অর্থনৈতিকভাবে অনেক পিছিয়ে আছি। মাগুরায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর সংখ্যা অগণিত হলেও তাদের মূলধন সামান্য। তারা বড় কোনো পুঁজি খাটাতে চায় না। ইতোমধ্যে চেম্বার অব কমার্স মাগুরায় কিছু শিল্প-কারখানা স্থাপনে সরকারের বিভিন্ন দফতরের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। আগামীতে জেলায় নতুন শিল্প-কারখানা স্থাপনের জন্য আমরা সরকারের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জোর দাবি তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads