• বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
শিশুর ভাষা শিক্ষায় করণীয়

বেশি বেশি কথা বলুন

ছবি : ইন্টারনেট

ফিচার

শিশুর ভাষা শিক্ষায় করণীয়

  • বেদৌরা বিনতে আফাক
  • প্রকাশিত ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

জন্মের পর থেকেই শিশুরা হাত-পা নাড়িয়ে হাসি-কান্নার মাধ্যমে অভিব্যক্তি প্রকাশ করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুর ভাষার বিকাশ শুরু মাতৃগর্ভ থেকে। তখন থেকেই শব্দের প্রতি সচেতন হয়। এ সময় উচ্চারণ করতে না পারলেও বাবা-মায়ের কণ্ঠস্বর শুনতে পায় ও বুঝতে চেষ্টা করে এবং শব্দভান্ডারে শব্দ সঞ্চয় করতে থাকে। তাই গর্ভাবস্থা থেকেই শিশুকে উদ্দেশ করে কথা বলুন এবং জন্মের পর থেকেই তা বাড়িয়ে দিন। এ সময় শিশু কিছু উচ্চারণ করতে না পারলেও বাবা-মায়ের কণ্ঠস্বর শুনতে পায় ও বুঝতে চেষ্টা করে। তখন থেকেই নতুন শব্দ খোঁজে সে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু তার চারপাশের মানুষের মুখের কথা শুনে তা থেকে পাওয়া নতুন শব্দগুলো মস্তিষ্কে জমাতে শুরু করে। কারণ জন্মের পর শিশুর মস্তিষ্ক শূন্য থাকে। সে শূন্যস্থান পূরণের জন্য খুব দ্রুত নতুন  জিনিসগুলো আত্মস্থ করে ফেলে। এভাবেই একসময় তাদের শব্দভান্ডার বৃদ্ধি পেলে তারা কথা বলা শুরু করে। তাই যত কম বয়স থেকে সন্তানদের সঙ্গে কথা বলা যায়, তত তাড়াতাড়ি সে কথা বলতে শিখবে। তবে মনে রাখতে হবে, শিশুকে যথাযথ ভাষা শিক্ষা দিতে হলে অভিভাবককে শিশুর সঙ্গে স্পষ্ট ও চলিত ভাষার উচ্চারণে কথা বলতে হবে। এতে আঞ্চলিকতা অবশ্যই বর্জনীয়।

আসুন, জেনে নেওয়া যাক শিশুদের ভাষা শেখাতে বাবা-মাকে কী কী ভূমিকা পালন করতে হবে :

বেশি বেশি কথা বলুন

শিশুর সঙ্গে যত বেশি কথা বলা যায়, তত দ্রুত সে কথা বলতে শেখে। বুঝতে পারুক বা না পারুক, শিশুর সঙ্গে প্রচুর কথা বলুন। শিশুটি ছোট্ট কথা বুঝবে না- এটা ভেবে কথা না বলা ঠিক নয়। সে কথা বুঝতে পারুক আর না পারুক, শিশুর সঙ্গে প্রচুর কথা বলুন। শিশুর সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের গল্পের ছলে খেলার মাধ্যমে কথা বলুন। এতে সে দ্রুত কথা বলা শিখবে।

আপনার কথার প্রায় প্রতিটি শব্দই শিশু তার শব্দভান্ডারে সঞ্চিত রাখে। মাঝে মাঝেই শিশু তার কথায় এমনসব শব্দ ব্যবহার করে, যা আমাদের অবাক করে দেয়। ভাবনায় পড়ে যেতে হয় এ শব্দ সে কোথায় শিখল। ভেবে দেখুন, এমন শব্দের ব্যবহার শিশু তার আশপাশের কারো কাছ থেকেই শিখেছে, যা তার শব্দভান্ডারে ছিল। শিশুর ভাষাশিক্ষাকে ত্বরান্বিত করতে কথায় নতুন নতুন শব্দ ব্যবহার করুন। সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের খেলার মাধ্যমে, গল্পের মাধ্যমে কথা বলুন। এতে শিশু দ্রুত কথা বলা ও শুদ্ধ ভাষা শিখবে।

গল্পের বই পড়ে শোনান

গল্পের বই শিশুর জন্য বরাবরই আকর্ষণের বিষয়। শুদ্ধ উচ্চারণ শেখাতে বই পড়ে শোনানো খুব কার্যকর একটি মাধ্যম। গল্প, ছড়া, কবিতাসহ বিভিন্ন ধরনের শিশুতোষ বই পড়ে শোনান শিশুকে। শিশু তা খুব মনোযোগ সহকারে শুনবে এবং মনে গেঁথে রাখবে। এতে একদিকে শিশু যেমন শুদ্ধ উচ্চারণ ও বিভিন্ন ধরনের প্রকাশভঙ্গি শিখতে পারে, অন্যদিকে সমৃদ্ধ হয় শিশুর শব্দভান্ডারও।

ভুল উচ্চারণকে নিরুৎসাহিত করুন

কথা বলতে শেখার শুরুতে শিশুরা বেশ কয়েক বছর ভুল এবং অশুদ্ধ উচ্চারণ করে। এক্ষেত্রে বড়দের কাজ হলো, তার সঙ্গে সঠিক উচ্চারণে কথা বলা। আধো আধো ভাঙা বা ভুল উচ্চারণ শুনতে ভালো লাগলেও বড়দের তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সুরে কথা বলা উচিত নয়। এতে শুদ্ধ উচ্চারণ শিখতে দেরি হয়। আবার অনেকের মধ্যে বেশ বড় হওয়ার পরও অশুদ্ধ উচ্চারণ থেকে যায়।

ভাষা ব্যবহারে আঞ্চলিকতা বর্জন করুন

অনেক শিশুই কথা শেখার শুরু থেকে আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহার করতে থাকে। শিশুর মুখে এ ধরনের ভাষা শুনতে আমরা অনেকেই পছন্দ করি না। আবার অভ্যাসটি অনেক সময় বড় হয়েও থেকে যায়। সমস্যাটি দূর করতে পরিবারের সবাই শিশুর সঙ্গে কথা বলতে আঞ্চলিকতা পরিহার করুন। কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরিবারের কাছ থেকেই এটি রপ্ত করে।

শিশুর সামনে ভাষা প্রয়োগে সতর্ক হোন

শিশুদের সামনে যা কথা বলা হয়, তা-ই তারা শিখে ফেলে। তাই ওদের সামনে ভাষা প্রয়োগে সতর্ক থাকতে হবে। কখনোই বাজে শব্দ ব্যবহার করবেন না।

শিশুর ভাষা শিক্ষাকে দ্রুততর করতে

অনেক শিশুই দেরিতে কথা বলতে শেখে, যা বাবা-মায়ের জন্য দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। এজন্য প্রথম থেকেই সতর্ক থাকুন। শিশুর ব্যাবলিং করার সময় থেকেই অর্থাৎ যখন থেকে বা-বা, দা-দা, মা-মা ডাকতে শুরু করে, তখন থেকেই তার সঙ্গে কথা বলতে থাকুন, ডাকুন, গল্প করুন এবং বলানোর চেষ্টা করুন। এতে সে বুঝতে পারবে কেউ কথা বললে তার প্রতিক্রিয়াতেও কথা বলতে হয়। ফলে শিশু দ্রুত কথা বলতে শিখবে।

মনে রাখতে হবে, স্বাভাবিক শিশুর ক্ষেত্রে চার-পাঁচ বছর বয়সের মধ্যেই ভাষার মৌলিক কাঠামো গড়ে ওঠে, তবে শব্দাবলি আয়ত্তকরণের প্রক্রিয়াটি পূর্ণবয়স্ক হওয়ার পরও চলতে থাকে। কোনো শিশু চার-পাঁচ বছর বয়সের মধ্যে দৈনিক পাঁচ থেকে দশটি শব্দ দিয়ে পরিবেশ এবং প্রতিবেশ অনুযায়ী যদি মনের ভাব প্রকাশ করতে না পারে, তাহলে তা উদ্বেগজনক। এক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads