• সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
৯ প্রকল্পে বরাদ্দ ৩০ হাজার ৭৫৪ কোটি টাকা

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

সংগৃহীত ছবি

ফিচার

৯ প্রকল্পে বরাদ্দ ৩০ হাজার ৭৫৪ কোটি টাকা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

চলতি  অর্থবছরে (২০১৮-১৯) ১ লাখ ৮০ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের কাজ চলছে। এর মধ্যে ১৭টি খাতে বরাদ্দ আছে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা। ১ হাজার ৪৫১ প্রকল্পে এ অর্থ ব্যয় করা হবে। তবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণেই এক বছরের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১১ হাজার ৯৯ কোটি ২৬ লাখ টাকা। মোট এডিপি বরাদ্দের ৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ বরাদ্দ পেয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বড় আকারের প্রকল্পটি।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অর্থ বরাদ্দে চলতি অর্থবছরের এডিপিতে বড় প্রকল্পগুলোকে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অগ্রাধিকার তালিকা ফাস্ট ট্র্যাকের ৯ প্রকল্প বরাদ্দ পেয়েছে ৩০ হাজার ৭৫৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এডিপি বরাদ্দের ১৮ দশমিক ১৪ শতাংশ ব্যয় হবে ৯ প্রকল্পে। বছর শেষে সম্ভাব্য নির্বাচন সামনে রেখে ভোটার আকর্ষণে অবকাঠামো খাতের বড় প্রকল্পকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ছাড়াও এডিপিতে বড় বরাদ্দ পেয়েছে পদ্মা সেতু নির্মাণ, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ, মেট্রোরেল নির্মাণ, মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ, কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার ও রামু থেকে ঘুমধুম সীমান্ত পর্যন্ত রেলপথ ও পায়রা বন্দর প্রকল্প।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ শেষ হলে একই সঙ্গে গাড়ি ও রেল পারাপারের ঘোষণা রয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। বিষয়টি বিবেচনায় আগামী অর্থবছরে পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পে এডিপিতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৫ হাজার ৩৩০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।

পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ৪ হাজার ৩৯৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সেতুটির চারটি পিলারের ওপর তিনটি স্প্যান স্থাপনের মাধ্যমে তা দৃশ্যমান হয়েছে। ভোটের আগে বেশ কয়েকটি স্প্যান বসানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ রয়েছে এ প্রকল্পে।

মেট্রোরেল দৃশ্যমান করতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩ হাজার ৯০২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে এয়ারপোর্ট থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১২ কিলোমিটারের কাজ শেষ করার কথা ২০১৯ সালে।

চট্টগ্রামের দুই অংশের যোগাযোগ সুগম করতে নেওয়া কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বহুলেন সড়ক টানেল নির্মাণ প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৯০৫ কোটি টাকা। প্রায় ৮ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকার এ প্রকল্পে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার ও রামু হয়ে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী ঘুমধুম পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণে নেওয়া প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। এ প্রকল্পে গত অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ১ হাজার কোটি টাকা। এ হিসাবে বরাদ্দ বেড়েছে ৪৫০ কোটি টাকা।

মাতারবাড়ী ২*৬০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড পাওয়ার শীর্ষক প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২ হাজার ১৭১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। অন্যদিকে পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৫০০ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে প্রবৃদ্ধি সঞ্চালক ১০টি বৃহৎ প্রকল্পকে মেগা প্রকল্প হিসেবে চিহ্নিত করে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নজরদারিতে আনা হয়েছে। এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও পরিবীক্ষণের জন্য ‘ফাস্ট ট্র্যাক প্রজেক্ট মনিটরিং কমিটি’ নামে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণের জন্য গঠন করা হয়েছে ‘ফাস্ট ট্র্যাক টাস্কফোর্স’।

বিশেষজ্ঞ অভিমত

regular_3677_news_1536427234

বাড়বে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান

-ড. শামসুল আলম

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম বলেন, ফাস্ট ট্র্যাকের আওতায় নেওয়া অগ্রাধিকার প্রকল্পের অধিকাংশই অবকাঠামো খাতের। এসব প্রকল্পের কাজ শেষ হলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির অভাব পূরণ হবে। যাতায়াত ব্যবস্থায় যোগ হবে নতুন মাত্রা। ফলে পণ্য পরিবহনে ব্যয় অনেক কমে আসবে। সময়ও লাগবে তুলনামূলক কম। এক কথায় মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যবসার খরচ কমে আসবে বলে তিনি মনে করেন।

এ অর্থনীতিবিদ আরো বলেন, পরিস্থিতির উন্নতি হলে বিনিয়োগে উৎসাহী হবেন উদ্যোক্তারা। ফলে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়বে। চলমান প্রকল্পের কাজ শেষ হলে মোট দেশজ উৎপাদনে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য পূরণ হবে বলে মনে করেন তিনি। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে মাথাপিছু আয় বাড়িয়ে দারিদ্র্য কমাতে এসব প্রকল্প বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

reg

দ্রুত শেষ করতে হবে কাজ

-ড. জাহিদ হোসেন

সুফল পেতে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেন, চলমান প্রকল্পের কাজ শেষ হলে দেশের অর্থনীতি অনেক এগিয়ে যাবে। তবে নির্ধারিত সময় ও ব্যয়ের মধ্যে কাজ শেষ করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, বড় প্রকল্পের একটিও নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি। আবার কয়েক বছর চলে গেলেও কিছু প্রকল্পের মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু হয়নি। এসব প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, প্রকল্প প্রণয়নের সময় নকশায় ত্রুটির কারণে অনেক সময় কাজ বাধাগ্রস্ত হয়। সংশোধনী অনুমোদন নিতে বাড়তি সময় লাগে। প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় দক্ষ জনশক্তির অভাব রয়েই গেছে। তা ছাড়া দাতা সংস্থার অনুমোদন, পরামর্শক নিয়োগ, প্রক্রিয়ায় দরপত্র মূল্যায়নসহ প্রতিটি পর্যায়ে বাড়তি সময় ক্ষেপণ হচ্ছে বলে মনে করেন এ অর্থনীতিবিদ। তা ছাড়া সামর্থ্যের বেশি প্রকল্প নেওয়ায় বড় প্রকল্পগুলো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেও মনে করেন তিনি।

1536427234

সুফল পেতে সময় লাগবে

-ড. আহসান এইচ মনসুর

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, বাংলাদেশের অভীষ্ট লক্ষ্যের সঙ্গে বড় প্রকল্প নির্বাচনের মিল আছে। তবে বাস্তবায়ন লক্ষ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ না। প্রকল্পে ধীরগতির কারণে কাঙ্ক্ষিত সুফল পেতে বাড়তি সময় লাগছে। তিনি আরো বলেন, প্রকল্পের ডিজাইন, অনুমোদন ভালোভাবে হয় না। শুরুর পরেই বড় ধরনের সংশোধন করতে হয়। ঠিকাদাররা এ সুযোগটা নেয়। দেশের সুনাম খুব বেশি ভালো না থাকায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ভালো ঠিকাদার এখানে কাজ করতে আসে না। অর্থ পরিশোধের রেকর্ডও খারাপ। ফলে চীন ও ভারতের মতো দেশের ঠিকাদাররাই এখানে কাজ করে থাকেন। কাজ বুঝে নেওয়ার ক্ষেত্রেও দুর্বলতা আছে বলে মনে করেন তিনি।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads