• শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
কলবের ব্যাধি ও তার চিকিৎসা

আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে প্রয়োজন বিশুদ্ধ কলব

সংগৃহীত ছবি

ফিচার

কলবের ব্যাধি ও তার চিকিৎসা

  • প্রকাশিত ১৯ অক্টোবর ২০১৮

এস এম আরিফুল কাদের

বিশ্বে সব পদার্থের বস্তু ময়লা বা অপরিষ্কার হয়। মানবদেহে বাম স্তরের নিচে একটি গোশতের টুকরা আছে, সেই টুকরাটির নাম কলব বা আত্মা। সেটি বালেগ হওয়ার পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জানা-অজানা বিভিন্ন গোনাহে অপরিষ্কার বা রোগাক্রান্ত হয়। আর তা পাপের দরুন রোগাক্রান্ত বা ময়লা হলে সমস্ত শরীর অসুস্থ বোধ হয় এবং তা সুস্থ হলে সমস্ত শরীর সুস্থ মনে হয়। হাদিসের ভাষায়, ‘জেনে রাখো! নিশ্চয়ই মানুষের শরীরের মধ্যে এমন একটি গোশতের টুকরা আছে সেটা যখন পরিশুদ্ধ হয়, তখন পুরো শরীর ঠিক হয়ে যায়। আর যখন তা ময়লা হয় তখন সমস্ত শরীর দূষিত হয়ে যায়। সেটা হচ্ছে কলব তথা আত্মা।’ (সহিহ বুখারি)

মহান আল্লাহপাক জন্মগতভাবে কলব নির্মল করে দান করেছেন। সেই কলবকে সব রকম মলিনতা থেকে হেফাজত রাখতে আদেশও করেছেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, ‘যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না, সেদিন উপকৃত হবে কেবল সে, যে আল্লাহর কাছে আসবে বিশুদ্ধ কলব নিয়ে।’ (সুরা শুয়ারা, আয়াত : ৮৮-৮৯)

আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে প্রয়োজন বিশুদ্ধ কলব। অথবা রোগাক্রান্ত কলবই একসময় রোগ বৃদ্ধি পেয়ে মৃত্যু ঘটে কুফরি অবস্থায়। পবিত্র কোরআনের ভাষায়, ‘যাদের কলবে ব্যাধি আছে, তার কলব আরো বেশি কলুষিত হয় এবং অবশেষে মৃত্যু ঘটে কাফির অবস্থায়।’ (সুরা তওবা, আয়াত : ১২৫) জেনে রাখা উচিত যে, শরীরের বাহ্যিক অসুস্থতা, যেমন- জ্বর, সর্দি, কফসহ নানা ধরনের ব্যাধি হয়। ঠিক তেমনি কলবেরও কিছু ব্যাধি আছে যা অভিজ্ঞ আলেমরা দশ ধরনের বলে অভিমত দিয়েছেন। এসব রোগ হলো- ১. অহংকার। ২. আত্মাভিমান, গর্ব, দম্ভ, অহমিকা ইত্যাদি। ৩. দ্বীনের বিষয়ে উদাসীনতা প্রদর্শন। ৪. অকারণে কাউকে ঘৃণা করা, কারণ ছাড়া অন্যের সঙ্গে শত্রুতা পোষণ করা ইত্যাদি। ৫. হিংসা-বিদ্বেষ। ৬. মিথ্যা বলা। ৭. অন্যের ব্যাপারে কুধারণা করা। ৮. ওয়াদা ভঙ্গ করা। ৯. লৌকিকতা করা। ১০. গীবত করা। উল্লেখিত বিষয়াবলি ছাড়াও আরো কিছু রোগ আছে। যেমন- কাউকে অপবাদ দেওয়া, দোষারোপ করা, কারো প্রতি কুদৃষ্টি দেওয়া ইত্যাদি।

কলব সংশোধনকে আরবি ভাষায় তাজকিয়াতুন নফস বলা হয়। আত্মশুদ্ধি এমন একটি বিষয়, যার দ্বারা কলবকে সংশোধন করা যায়, আল্লাহপাকের সন্তুষ্টি অর্জন করা যায় এবং তার মারেফাত অর্জন করা যায়। পারতপক্ষে কলব সংশোধন ছাড়া কখনো একজন মানুষ ভালো মানুষ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না। সেজন্যই কলবকে সংশোধনের বিভিন্ন উপায় রয়েছে। তার মধ্যে কলবকে বেশ কয়েকটি অবস্থায় বিশুদ্ধতা অর্জন করানো যায়। যেসব বিষয়ে আত্মিক পরিশুদ্ধতা অর্জন করা যায়, তা হলো নিম্নরূপ- ১. ঈমান পরিশুদ্ধকরণ : তাজকিয়াতুন নফসের চাবি হলো ঈমান। আল্লাহর প্রতি ঈমান না আনলে আত্মশুদ্ধি হবে না। ২. তাকওয়া : আল্লাহপাকের ভয়ে যাবতীয় পাপকাজ থেকে বিরত থাকার নাম হলো তাকওয়া। তাকওয়ার দ্বারা যে কেউ নিজের কলবকে পরিশুদ্ধ করতে পারেন। ৩. তওবা : আল্লাহর হুকুম অমান্য করে বা সীমা লঙ্ঘনকারী ব্যক্তি কর্তৃক চরম অনুশোচিত হয়ে আল্লাহর কাছে অপরাধ স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে বিনয়ের সঙ্গে ক্ষমাপ্রার্থনা করার নাম হলো তওবা। আর তওবার মাধ্যমেই কলবের রোগ দূরীভূত হয়। ৪. তাওয়াক্কুল : সর্বাবস্থায় এক আল্লাহের ওপর কেবল নির্ভর হওয়াকে তাওয়াক্কুল বলে। তাওয়াক্কুল ছাড়া কলব সংশোধন সম্ভব নয়। ৫. জিকির : আল্লাহকে স্মরণ করার নাম জিকির। কলবের যত ধরনের ময়লা আবর্জনা আছে, তা থেকে পাক-সাফ হওয়ার অন্যতম মাধ্যম জিকির।

লেখক : আলেম ও প্রাবন্ধিক

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads