• সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৫
ads
‘ফ্যাব ল্যাব মেক-আ-থন’ প্রতিযোগিতা

শিক্ষার্থীরা ফ্যাব ল্যাবে কাজ করার সুযোগ পান

সংগৃহীত ছবি

ফিচার

‘ফ্যাব ল্যাব মেক-আ-থন’ প্রতিযোগিতা

  • প্রকাশিত ২২ অক্টোবর ২০১৮

নাবিল তাহমিদ ও আশিকুর রহমান

গভীর রাত পর্যন্ত কয়েক শিক্ষার্থী একটা ফ্যাব ল্যাবে কাজ করছেন। কৃষিসহ দেশের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য তাদের নিজস্ব ধারণার ওপর প্রোটোটাইপ তৈরি করছেন। কেউ ড্রোন তৈরি করছেন, কেউবা গাড়ি তৈরি করছেন, কেউবা নানা রকমের যন্ত্রের প্রোটোটাইপ তৈরি করছেন। কাজ শেষে সবার মুখে দেখা যায় বিজয়ের হাসি। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ফ্যাব ল্যাব আয়োজিত মেক-আ-থনের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা ফ্যাব ল্যাবে কাজ করার সুযোগ পান। ফ্যাব ল্যাব শব্দটি বাইরের দেশে ব্যাপক পরিচিত হলেও আমাদের অনেকের কাছেই খুব একটা পরিচিত নয়। প্রশ্ন আসতেই পারে, ফ্যাব ল্যাবটা কী? সেখানে কী ধরনের গবেষণা হয়? নাহ, সেই ল্যাবে গবেষণা হয় না, ফেব্রিকেশনের কাজ করা হয়। ফ্যাব ল্যাব হলো ছোট পরিসরের ফেব্রিকেশন ল্যাবরেটরি। ফ্যাব ল্যাবকে শিল্প ও সৃজনশীল কাজের আঁতুড়ঘর হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।

শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও গবেষকদের মধ্যে উদ্ভাবনী ধারণা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে ২০১৬ সালে দেশের ৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্যাব ল্যাব (ফেব্রিকেশন ল্যাবরেটরি) প্রতিষ্ঠা করার বিষয়ে চুক্তি সম্পন্ন করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। ফ্যাব ল্যাব প্রতিষ্ঠার দিক থেকে দেশের ৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম ভূমিকা পালন করছে। তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে নতুন নতুন জনকল্যাণমূলক প্রযুক্তি উদ্ভাবনের লক্ষ্যে এ বছরের ১৪ মে হেকেপ-এআইএফ সাব প্রজেক্টের উদ্যোগে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ফ্যাব ল্যাব’-এর উদ্বোধন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিশক্তি ও যন্ত্র বিভাগের ওয়ার্কশপের তিনটি রুম নিয়ে ওই ল্যাব করা হয়। বাকৃবির ফ্যাব ল্যাবে আধুনিক প্রযুক্তির থ্রি-ডি প্রিন্টার, সিএনসি মিলিং মেশিন, পিসিবি মিলিং মেশিন, লেজার কাটার ও ভিনাইল কাটারসহ বিভিন্ন রকমের যন্ত্রপাতি রয়েছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদীয় কনফারেন্স রুমে মেক-আ-থনের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মেক-আ-থনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ৮টি টিম বিভিন্ন ধরনের উদ্ভাবনী আইডিয়া জমা দেন এবং তারা ফ্যাব ল্যাবের সহায়তায় তাদের নিজেদের প্রকল্পের প্রোটোটাইপ তৈরি করেন। প্রতিযোগিতায় হাতচালিত মেশিন দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ‘গ্রীন পাওয়ার ব্যাংক’, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে ‘সেইফ রোড ট্রান্সপোর্ট’, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ‘জিরো ওয়েস্ট চ্যালেঞ্জ’, ফলের বাজার ও বাগানকে সমন্বয় করতে ‘পিক অ্যান্ড ফান’, প্রতিটি বাড়িতে বায়োগ্যাস প্যাটেন্ট তৈরিতে ‘ডিএইচওডব্লিউপি’, হাওর এলাকা পর্যবেক্ষণের জন্য ‘ড্রোন সার্ভিলেন্স’, যেকোনো জায়গায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে অতিরিক্ত পানি অপসারণ করতে ‘স্মার্ট ওয়াটার লেভেল কন্ট্রোল’ এবং মোবাইলের মাধ্যমে জমিতে পানির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে ‘মোবাইল সিকিউরিট কন্ট্রোল সিস্টেম’ নামের মোট ৮টি প্রজেক্ট প্রদর্শন করা হয়। মেক-আ-থনের চ্যাম্পিয়ন হয় ‘মোবাইল সিকিউরিট কন্ট্রোল সিস্টেম’, ১ম রানার আপ ‘মনিটরিং অব হাওর বেসিন ইউজিং ড্রোন সার্ভিলেন্স’ ও ২য় রানার আপ যৌথভাবে ‘গ্রীন পাওয়ার ব্যাংক’ ও ‘সেইফ রোড ট্রান্সপোর্ট’ প্রকল্প। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জসিমউদ্দিন খান বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে ফ্যাব ল্যাব প্রকল্পের ম্যানেজার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জসিমউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের হেকেপ এআইএফ ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট অধ্যাপক ড. মো. আলী আশরাফ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার পরিচালক অধ্যাপক ড. এমদাদুল হক চৌধুরী। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ফ্যাব ল্যাব প্রকল্পের ডেপুটি ম্যানেজার অধ্যাপক ড. মো. আলমগীর হোসেন ও প্রকল্প সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আশিক-ই-রব্বানী। এ ছাড়াও বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

ফ্যাব ল্যাব সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলী আকবর বলেন, ‘শিক্ষা ও গবেষণায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়ভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে। আমাদের এই অগ্রগতি ধরে রাখতে হবে। যুগের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে গবেষণা কার্যক্রম আরো দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে। এই ফ্যাব্রিকেশন ল্যাবরেটরিকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। এ জন্য জনগণের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য তৈরি ও সঠিক বিপণনের ব্যবস্থা করতে হবে।’

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads