• রবিবার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৫
ads
মেশিনেই হবে সব লেনদেন

এটিএম মেশিন

সংগৃহীত ছবি

ফিচার

মেশিনেই হবে সব লেনদেন

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৮ অক্টোবর ২০১৮

বড় আকারের কোনো লেনদেন ছাড়া মানুষ এখন আর শাখায় যেতে চান না। প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করেন ব্যাংকের কার্ড দিয়ে। আবার একটি নির্ধারিত সীমার অর্থ তুলতেও যান ব্যাংকের বুথে। ব্যাংকিং পরিষেবায় অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে এটিএম (অটোমেটেড টেলার মেশিন) বুথ। টাকা ওঠানোর সহজ এই যন্ত্র এখন হাতের নাগালে। ছড়িয়ে পড়েছে ঢাকাসহ সারা দেশে। উপজেলা শহরগুলোতেও এখন ব্যাংকগুলো স্থাপন করেছে বুথ।   

প্রায় দুই দশক ধরে এটিএম সেবার প্রসারে টাকা ওঠাতে ব্যাংকে মানুষের চাপ অনেকটাই কমেছে। তবে টাকা জমা দিতে এখনো ব্যাংকে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে গ্রাহকদের হয়রান হতে হয়। তাই এবার শুধু টাকা ওঠানোর মধ্যে এ সেবাকে সীমিত না রেখে জমার ব্যবস্থাও করেছে ব্যাংকগুলো। ঢাকা শহরের কিছু মেশিনে টাকা জমা ও উত্তোলন দুই সেবাই চালু করেছে কিছু ব্যাংক। এ ধরনের মেশিন ‘ক্যাশ রিসাইকেলার মেশিন’ বা সিআরএম নামে বিশ্বব্যাপী পরিচিত।  

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, প্রযুক্তির উৎকর্ষতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত তিনটি ব্যাংক এই সেবা শুরু করেছে। সেগুলা হলো বেসরকারি খাতের ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি), সাউথইস্ট ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক। এই তিন ব্যাংক ৫৫টি মেশিন চালু করেছে। এর ফলে ব্যাংকের গ্রাহকরা এখন শাখায় না গিয়েও প্রতিবার সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা করে নিজের অ্যাকাউন্টে জমা করতে পারছেন। ইউসিবির ৩৪, সাউথইস্ট ব্যাংক ১৬ ও সিটি ব্যাংকের ৫টি সিআরএম চালু হয়েছে। এই তিনটি ব্যাংক আগামী বছরের জুনের মধ্যে এ ধরনের আরো ১০০টির বেশি সিআরএম চালু করতে কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এর বাইরে আরো কয়েকটি ব্যাংক সিআরএম চালুর প্রক্রিয়ায় রয়েছে।  

সাউথইস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম কামাল হোসেন জানান, আরো ৫০টি সিআরএম চালুর লক্ষ্যে তারা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। আগামী মার্চের মধ্যে এসব চালু হতে পারে। বর্তমানে ঢাকার মধ্যে ১৬টি সিআরএম বসানো হয়েছে। ভবিষ্যতে সারা দেশেই এ ধরনের মেশিন আমরা বসাবো। এতে গ্রাহকের সময় বাঁচবে। ইদানীং ব্যাংকের শাখায় টাকা জমা দেওয়ার জন্য অনেক বড় লাইন তৈরি হয়। সিআরএম চালুর ফলে এই ভিড় অনেক কমে আসবে। তা ছাড়া একই মেশিনে টাকা জমা ও তোলার সুযোগ থাকায় ব্যাংকেরও ‘ক্যাশ ফিডিং’-এর খরচ কমে আসবে। সিআরএম বুথে টাকা জমা করতে গ্রাহককে এটিএম কার্ড সঙ্গে নিয়ে আসতে হবে। এটিএম বুথের মতো সিআরএমে কার্ডটি প্রবেশ এবং পিন ভেরিফিকেশনের পর টাকা তোলা ও জমা উভয় ‘অপশন’ দেখা যাবে মনিটরে। সেখান থেকে ‘ক্যাশ ডিপোজিট’ বা জমার অপশন নির্বাচন করে টাকার পরিমাণ লিখে এন্টার বাটনে ক্লিক করলে টাকা জমা দেওয়ার বক্স খুলে যাবে। গ্রাহক ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট জমা দিতে পারবেন। নোট কোনো রকম ছেঁড়া-ফাটা বা ভাঁজ করা অবস্থায় দিলে ওই নোটটি সিআরএম গ্রহণ করবে না। এমন নোট মেশিন ফেরত দেবে। 

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রমে এই সেবা যুক্ত হচ্ছে। মেশিনগুলো চালুর আগে ব্যাংকগুলো প্রায় দুই বছর ধরে মেশিনের কার্যক্ষমতা পরীক্ষা করেছে। বিভিন্ন অঙ্কের নোট এবং অচল নোট বা বিদেশি মুদ্রা দিয়ে দেখা হয়েছে। সিআরএম জাল নোট থেকে শুরু করে ছেঁড়া-ফাটা বা ময়লাযুক্ত নোট শনাক্ত করতে সক্ষম। 

গত বছরের জুনে দেশে প্রথম রিসাইকেলার এটিএম চালু করে সিটি ব্যাংক। তবে চলতি বছরের শুরুতে আনুষ্ঠানিকভাবে রিসাইকেলার এটিএম চালুর ঘোষণা দেয় ইউসিবি।  

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads