• বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬
ads

ফিচার

টাঁকশাল- টাকা তৈরি হয় যেখানে

  • এনামুল হক, গাজীপুর
  • প্রকাশিত ১১ নভেম্বর ২০১৮

টাঁকশাল শব্দটির সঙ্গে আমরা সবাই কমবেশি পরিচিত। এই টাঁকশালেই টাকা তৈরি করা হয়। এটি রাজধানী থেকে প্রায় ৪২ কিলোমিটার উত্তরে গাজীপুর মহানগরের শিমুলতলী এলাকায় অবস্থিত। ৬৬ দশমিক ৫২ একর জমির ওপর এর বিভিন্ন স্থাপনা রয়েছে। শুরুতে এর নাম ছিল সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেস প্রকল্প। ১৯৮৩ সালে সরকারের জাতীয় অর্থনীতি পরিষদের নির্বাহী কমিটি একনেকে প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। পরে ১৯৯২ সালে এর নামকরণ করা হয় দি সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেস করপোরেশন (বাংলাদেশ) লিমিটেড। এখানে টাকা ছাড়াও বাংলাদেশে প্রচলিত সব মূল্যমানের ব্যাংক নোট ও মুদ্রা নোটসহ সব ধরনের ডাকটিকেট, জুডিশিয়াল ও নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, ট্যাক্স লেবেল ইত্যাদি মুদ্রিত হয়। এখানে অনুমোদিত ৬৪১ জনবলের মধ্যে প্রায় ৫৭৫ জনবল রয়েছে। তাদের মধ্যে ১২০ জন কর্মকর্তা, অন্যরা কর্মী। কোম্পানি আইন অনুযায়ী এটি একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি, যার সম্পূর্ণ শেয়ার বাংলাদেশ ব্যাংক ধারণ করায় মূলত বাংলাদেশ ব্যাংক এ কোম্পানিটির মালিক। বাংলাদেশ ব্যাংকের চাহিদা মোতাবেক উন্নত কাগজে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নোট ও অন্যান্য নিরাপত্তা কাগজ ছাপানো হয়। প্রতিষ্ঠানটিতে বছরে ১১০০ মিলিয়ন টুকরা কাগুজে নোট এবং অন্যান্য নিরাপত্তা পণ্য ৪ হাজার বিলিয়ন টুকরা উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। এখানে উৎপাদিত নোটগুলো ১০ হাজার বার ভাঁজ করার ক্ষমতা বিশিষ্ট। এর বেশিবার ভাঁজ হলে টাকা নষ্ট হতে থাকে।

এ অঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ বিল এবং হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের সুনাম রয়েছে এ প্রতিষ্ঠানটির। সারা বিশ্বে ৬৫টি দেশে এ ধরনের টাঁকশাল রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা ও নীতিনির্ধারণের জন্য সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি পরিচালক পর্ষদ রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পর্ষদ সভার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। বাংলাদেশ ব্যাংক মনোনীত একজন ডেপুটি গভর্নর, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একজন করে প্রতিনিধি (যুগ্ম সচিব বা তদূর্ধ্ব), বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মহাপরিচালক এবং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সমন্বয়ে পরিচালক পর্ষদ গঠিত। এ প্রতিষ্ঠানের মুদ্রিত স্ট্যাম্পের মান এবং একটি টাকার ডিজাইন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশংসা অর্জন করেছে। ১৯৯৬-৯৭ সালে নেপালের পোস্টাল সামগ্রী ছাপানোর কাজ পেয়েছিল গাজীপুরের ওই টাঁকশালটি।

১৯৮৮ সালে এক টাকা কারেন্সি নোট এবং ১০ টাকা মূল্যমানের ব্যাংক নোট মুদ্রণের মাধ্যমে বাংলাদেশে কাগজের নোট মুদ্রণের সূচনার পর পর্যায়ক্রমে সব মূল্যমানের কাগুজে নোটের পাশাপাশি ডাক বিভাগ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, ব্যাংক, শিক্ষা বোর্ড, রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো, বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা সামগ্রীর মুদ্রণ এ প্রতিষ্ঠানে হচ্ছে।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর নিজস্ব কারেন্সি ও ব্যাংক নোট মুদ্রণের ব্যবস্থা দেশে না থাকায় প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়ে বিভিন্ন দেশ থেকে তা ছাপিয়ে আনা হতো। একই সঙ্গে ডাক বিভাগের বিভিন্ন স্ট্যাম্পও বিদেশ থেকে ছাপিয়ে আনা হতো। পরে বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচাতে দেশেই কারেন্সি ও ব্যাংকনোটসহ অন্যান্য নিরাপত্তাসামগ্রী মুদ্রণের লক্ষ্যে সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেস স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় সরকার এবং তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় বাংলাদেশ ব্যাংককে।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads