• শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৫
ads
হারিয়ে যাওয়া মুদ্রা

হারিয়ে যাওয়া মুদ্রা

সংরক্ষিত ছবি

ফিচার

হারিয়ে যাওয়া মুদ্রা

  • সৈয়দ ফয়জুল আল আমীন
  • প্রকাশিত ১১ নভেম্বর ২০১৮

প্রাচীন মুদ্রা নয়, নব্বই দশকে যারা বেড়ে উঠেছেন তারাও দেখেছেন চোখের সামনে থেকে প্রচলিত কত মুদ্রা হারিয়ে গেছে! একসময় দশ পয়সার মুদ্রা পকেটে রাখা হতো ফুটবল কিংবা ক্রিকেট খেলায় টস করার জন্য। একপাশে শাপলা, আরেক পাশে সিল। শাপলা হেড, পেছন দিকটা টেল। দোকানিরাও দশ পয়সা জমা রাখতেন ভিক্ষা দেওয়ার জন্য। দশ পয়সা দিয়ে একটি সুপার বিস্কুট পাওয়া যেত। এক টাকায় দশটি। দশটি দশ পয়সা মিলে এক টাকা। এক টাকার তখন পয়সা ছিল না, ছিল কাগুজে নোট। সেই এক টাকার নোটও একসময় হারিয়ে গেল। ছিঁড়েফেড়ে একসারা, নতুন নোট বাজারে ছাড়ে না, কেউ সেই টাকা নেয় না, পাওয়াই যায় না প্রয়োজনমতো। দরকারের সময় এক টাকার বদলে দোকানদাররা একটি চকোলেট ধরিয়ে দেন। এক টাকার মূল্যমান হয়ে গেল একটি চকোলেট! পরে এক টাকার কয়েন এলো বাজারে। যদিও তার মূল্যমান আর নেই বললেই চলে। এক টাকা দিয়ে এখন কিছু পাওয়া যায় না। ভিক্ষুকরাও নিতে চায় না। ভিক্ষুকদের এখন কমপক্ষে দুই টাকা দিতে হয়। ভিক্ষুকদের সর্বনিম্ন কত দেওয়া যায়, তা দিয়েই সম্ভবত নির্ধারণ করা যায় সর্বনিম্ন মুদ্রার মূল্যমান।

হারিয়ে যাওয়া মুদ্রার মধ্যে দশ পয়সার প্রতিই মায়া বেশি। তবে পাঁচ পয়সাও ছিল তখন দেদার ক্ষমতাবান। এটা কি এখন বিশ্বাস করা যায় যে পাঁচ পয়সারও একসময় প্রচলন ছিল! মাত্র বিশ-পঁচিশ বছর আগে। ভিক্ষুকদেরও অনেকে পাঁচ পয়সা দিতেন। চার আনা, আট আনারও তখন ব্যাপক ব্যবহার ছিল। চার আনা, আট আনার পয়সা ছিল। সেগুলোরও খুচরা ছিল। দুটি দশ পয়সা আর একটি পাঁচ পয়সা মিলিয়ে দিলেই পঁচিশ পয়সা হয়ে যেত। পঁচিশ পয়সায় আচার, চকোলেট, আখের টুকরো পাওয়া যেত ’৯৫-৯৬ সালের দিকেও। অনেক কাছাকাছি দূরত্বের রিকশাভাড়া ছিল আড়াই টাকা। বিড়ি, সিগারেট কিনতে তো আট আনা, চার আনা লাগতোই। একটি আকিজ বিড়ির দাম ছিল দশ পয়সা, আবুল বিড়ির পাঁচ পয়সা। আনা-পাইও তখন দেখা যেত কদাচিৎ। যদিও স্বাধীনতার পরেই এক আনা, দুই আনা বাতিল করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আশির দশক পর্যন্ত গ্রামাঞ্চলে এগুলোর প্রচলন ছিল। অনেকে হয়তো শখ করে জমিয়ে রাখতেন। মাটির ব্যাংকে খুচরা পয়সা জমিয়ে রাখার স্মৃতি যার আছে, তিনি জানেন সেই আনন্দ। আনা পাই গেছে বহু আগে, এখন তো এক টাকা, দুই টাকার কয়েনই যাওয়ার জোগাড়। অদূর ভবিষ্যতে হয়তো পাঁচ টাকার কয়েনও বাতিল হয়ে যাবে। যেভাবে টাকার মূল্য কমছে, দশ টাকার নিচে আর কোনো নোটই হয়তো থাকবে না। ভিক্ষুককে দশ টাকার নিচে ভিক্ষা দিলে মাইন্ড করবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads