• বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৫
ads

ফিচার

ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করবে অবকাঠামো

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১১ নভেম্বর ২০১৮

সরকারি বিনিয়োগ বছর বছর বাড়লেও স্থবির হয়ে আছে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ। গ্যাস, বিদ্যুৎ, পরিবহন ব্যবস্থা, বন্দর অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতার কারণে বিপুল সম্ভাবনাও কাজে আসছে না। এ অবস্থায় জাতীয় নির্বাচনে অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে পদ্মা সেতুসহ সাত মেগা প্রকল্পের বাস্তবায়ন বিশেষভাবে তদারক করা হচ্ছে। সম্প্রতি সেতু বিভাগে এ বিষয়ে আয়োজিত পর্যালোচনা সভায় সাতটি প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্রের তথ্য অণুযায়ী, সেতু বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সাপোর্ট টু ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রজেক্ট, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, গ্রেটার ঢাকা সাসটেইনেবল আরবান ট্রান্সপোর্ট করিডোর (বিআরটি গাজীপুর-এয়ারপোর্ট), কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বহু লেন টানেল নির্মাণ, সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২ (এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ), ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ঢাকা শহরে সাবওয়ে (আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রো) নির্মাণে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা প্রকল্পে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সভায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় এসব প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সভায় জানানো হয়, পদ্মা সেতুসহ সেতু বিভাগের সাত বড় প্রকল্পে অর্থ ব্যবহারে ধীরগতি বিরাজ করছে। চলতি অর্থবছরের এডিপিতে এসব প্রকল্পে বরাদ্দ আছে ৯ হাজার ১৫৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। তিন মাসে এ খাতে ব্যয় হয়েছে ৪৩৫ কোটি ৫৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। বাস্তবায়ন হার দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। বাস্তবায়নে আরো গুরুত্ব বাড়াতে বৈঠকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

সেতু বিভাগের সিনিয়র সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে বলেন, উচ্চমাত্রার কারিগরি বিষয় থাকায় এসব প্রকল্পে নতুন নতুন সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। সে জন্য সেসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পদ্মা সেতুতে কিছু সমস্যা হচ্ছে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজ করতে গিয়ে দেখা গেছে মাটির নিচে গ্যাস পাইপলাইন রয়েছে। এ রকম ডিজাইনের বাইরে যেকোনো নতুন সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

তিনি আরো জানান, অর্থবছরের প্রথম তিন মাস তো বর্ষাকাল, তাই প্রকল্পে কাজের বিপরীতে অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। ফলে এ সময় টাকা একটু কম খরচ হয়।

সভায় বিআরটি প্রকল্প সম্পর্কে সভায় জানানো হয়, প্রকল্পের সাইট অফিস স্থাপন এবং ১৬৪টি সাব-সয়েল ইনভেস্টিগেশনের মধ্যে ১৬২টির কাজ শেষ হয়েছে। এ ছাড়া জয়েন্ট সার্ভে ও ইআইএ’র কাজও শেষ হয়েছে। টঙ্গী সেতুর পর থেকে চেরাগ আলী পর্যন্ত ড্রেনেজকাজের জন্য তিন হাজার ৮০০টি আরসিসি পাইপের মধ্যে ৩২০টি তৈরি করা হয়েছে। প্রকল্প এলাকার রিপিয়ার কাজ চলছে। বেশ কিছু কাজ চলমান থাকলেও প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি মাত্র ১ শতাংশ।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্পের বিষয়ে সভায় বলা হয়েছে, এক হাজার ২৪২টি ওয়ার্কিং পাইল ড্রাইভিং, ২৬০টি পাইল ক্যাপ, ৩৫টি ক্রস বিম, ১৩৮টি কলাম এবং ১৬২টি আই গার্ডার নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। এ প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ঋণচুক্তি স্বাক্ষর ত্বরান্বিত করার ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সভায়।

কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় পতেঙ্গা ও আনোয়ারায় ভূমি অধিগ্রহণ চলছে বলে জানানো হয়েছে সভায়। প্রকল্প সাইটে পানি সরবরাহের জন্য তিনটি গভীর নলকূপ স্থাপন, পতেঙ্গা ও আনোয়ারার উভয় প্রান্তে ২ মেগাওয়াট করে এবং পতেঙ্গা প্রান্তে ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য স্থায়ী সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এ অংশে ওয়াকিং স্থান নির্মাণ শেষ হয়েছে। এখন সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

সভায় পদ্মা সেতু প্রকল্পের হালনাগাদ অগ্রগতি তুলে ধরেন প্রকল্পটির পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, প্রকল্পের ৬০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। মূল সেতুর অগ্রগতি ৭০ শতাংশ এবং নদী শাসনকাজের অগ্রগতি ৪৫ শতাংশ। ইতোমধ্যে জাজিরা প্রান্তে সংযোগ সড়ক, মাওয়া প্রান্তে সংযোগ সড়ক এবং সার্ভিস এরিয়া-২-এর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সভায় মূল সেতু এবং নদীশাসন কাজের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার তাগিদ দেওয়া হয়।

সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২-এর সেতু কর্তৃপক্ষের ৩৪ কিলোমিটার কাজের ঠিকাদার নিয়োগে কারিগরি প্রস্তাব মূল্যায়নের ওপর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) সম্মতি পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে সভায়। আর্থিক প্রস্তাব মূল্যায়ন করে এডিবির কাছে অনুমতির জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া পরামর্শক নিয়োগে কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব মূল্যায়নের ওপর এডিবির সম্মতি পাওয়া গেছে। ঠিকাদার ও পরামর্শক নিয়োগের বিষয়টি ত্বরান্বিত করার বিষয়ে সভায় তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটির এলএপি এবং আরএপি প্রণয়নের জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের কাজ চলমান রয়েছে বলে সভায় জানানো হয়েছে। এ ছাড়া ডিজাইন রিভিউ এবং সুপারিভিশন কনসালট্যান্ট নিয়োগে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের জন্য মূল্যায়ন কার্যক্রম চলছে। ইতোমধ্যে ২ জন সহকারী প্রকৌশলী এবং ৫ জন উপসহকারী প্রকৌশল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা শহরে সাবওয়ে (আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রো) নির্মাণে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনায় পরামর্শক নিয়োগে আর্থিক প্রস্তাব সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে অনুমোদনের পর পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়েছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে কাজও শুরু করেছে। সমীক্ষার কাজ যথাসময়ে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে সভা থেকে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads