• বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬
ads
বেহাল দশায় কামার শিল্প

ছবি : বাংলাদেশের খবর

ফিচার

বেহাল দশায় কামার শিল্প

  • জাহাঙ্গীর হোসেন জুয়েল, কুষ্টিয়া
  • প্রকাশিত ২৫ নভেম্বর ২০১৮

কয়লা ও লোহার মূল্যবৃদ্ধির ফলে কুষ্টিয়া জেলায় কামার শিল্প এখন বিলুপ্তির পথে। এ পেশার শিল্পীরা পৈতৃক পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় মনোনিবেশ করছেন। অবস্থা এমন যে, পূর্বপুরুষের ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প ধরে রেখেছে এখন হাতেগোনা কয়েকটি পরিবার। কালের আবর্তনে এ শিল্প এখন বিলুপ্তপ্রায়। কর্মচাঞ্চল্য নেই আর কামারপাড়ায়। অনেকে এ পেশা ছেড়ে দিয়েছে। অনেকে পাড়ি জমিয়েছে অন্য দেশে। আগের মতো লোহা আর হাতুড়ির ঝনঝনানি কামার বাড়িতে শোনা যায় না।

শহরের রথপাড়া এলাকার শুম্ভ কর্মকার বলেন, বর্তমানে আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে তৈরি দা, ছুরিসহ বিভিন্ন লৌহযন্ত্র বাজার দখল করে ফেলায় কামার শিল্পে এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। ফলে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা পেশা বদলে জীবিকার তাগিদে অন্য পেশায় ঝুঁকছেন। বাপ-দাদার পেশা কামার শিল্পকে আঁকড়ে ধরে ঠিকমতো সংসারের খরচ জোগাতে কষ্ট হয় তার। ধারদেনায় জড়িয়ে কোনোমতে সংসারের ঘানি টানছেন তিনি। রুগ্ণ এই শিল্পটিকে বাঁচাতে হলে বিদেশ থেকে আমদানি করা মালামালের ওপর আরোপিত কর (ট্যাক্স) বাড়িয়ে দিতে হবে। তা ছাড়া এই শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের সহজ শর্তে ব্যাংক থেকে ঋণের ব্যবস্থা করে দিলে হয়তো ঘুরে দাঁড়ানোর পথ সুগম হবে তাদের। সুনীল কর্মকার জানান, একসময় কামার শিল্পের অনেক কদর ছিল। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এসে তাদের হাতে তৈরি দা, বঁটি, টাকশাল, ছুরি, কাস্তে, কোদাল, খুন্তি, শাবলসহ বিভিন্ন লৌহযন্ত্র কিনে নিয়ে যেতেন। সে সময় তাদের সুখের দিন ছিল। এখন আধুনিকতার ছোঁয়ায় দুর্দিন তাদের ঘিরে ফেলেছে। অপেক্ষাকৃত কম দামে এসব জিনিস বাজারে বিক্রি হচ্ছে বলে তাদের কদর অনেকটা কমে গেছে। তিনি বলেন, আমার মতো কামার শিল্পের সঙ্গে জড়িত অনেকেরই সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বাপ-দাদার ঐতিহ্য ধরে রাখতে গিয়ে লাভের মুখ দেখতে পারছি না।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads