• শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ads
দেশীয় গহনা তৈরির শিল্পের করুণ দশা

ছবি : বাংলাদেশের খবর

ফিচার

দেশীয় গহনা তৈরির শিল্পের করুণ দশা

  • প্রকাশিত ২৫ নভেম্বর ২০১৮

বিদেশি গহনার আধিপত্যে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় গহনা তৈরির শিল্প। চাহিদা কমে গেছে দেশের সাধারণ শিল্পীদের হাতে তৈরি গহনার। রাজধানী তাঁতীবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কাজের অভাবে অলস দিন পার করছেন স্বর্ণকাররা বা স্বর্ণের গহনা নির্মাণের শিল্পীরা। এরই মধ্যে অনেকে পরিবর্তন করেছেন দীর্ঘদিনের এই পেশা। ব্রিটিশ আমল থেকে এই পেশা ধারণ করছেন তাঁতীবাজারের স্বর্ণালঙ্কার কারিগররা। বহু শিল্পীর জীবন-জীবিকার একমাত্র অবলম্বন এই পেশা। অন্য কোনো কাজ না জানায় হুট করে অন্য বা ভিন্ন পেশায় যেতেও পারছেন না অনেকেই। বর্তমানে ভালো নেই এসব কারখানার মালিকরাও। বিদেশি গহনার অবাধ প্রবেশ এবং লাগামহীনভাবে স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় ধ্বংস হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী এই ব্যবসা। দিন দিন জৌলুস হারাচ্ছে এই শিল্প।

স্বর্ণ কারিগররা বলেন, প্রতিভরি স্বর্ণ তৈরির মজুরি বাবদ রাখা হয় দুই আনা। পলিশ আর কাটিং বাদ দিয়ে দুই রতি পায় কারখানার মালিকরা। গরিব কারিগররা পায় এক আনা দুই রতি। স্বর্ণ তাপে তরল করে কারিগরের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় নানা ডিজাইনের অলঙ্কারের রূপ পায়। স্বর্ণ আর মোম পুড়িয়ে আনা হয় নিখুঁত আকৃতি। এরপর দেওয়া হয় ঝালাই ও আস্তর। জমাট স্বর্ণ-রুপা পায় নানা কারুকাজ নকশায় অঙ্কিত পূর্ণাঙ্গ অলঙ্কারের অবয়ব। কারিগররা আরো বলেন, বিদেশ থেকে আমাদের দেশে প্রচুর স্বর্র্ণের গহনা আসে। দেশের স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বিদেশি গহনার প্রতি বেশি আগ্রহী। আমরা ছোটবেলা থেকে এই কাজ শিখেছি। বয়স বেড়ে যাওয়ায় অন্য কাজ করার উপায় নেই। একজন কারিগর সপ্তাহে চার থেকে পাঁচ ভরি স্বর্ণের কাজ করতে পারে। কিন্তু পর্যাপ্ত কাজ না থাকায় কোনো রকম জীবনযাপন করছেন তারা। পল্লবী কারখানার মালিক রঞ্জিত কুমার বাবু জানান, দেশীয় এই শিল্পকে বাঁচাতে হলে সর্বপ্রথম বিদেশ থেকে স্বর্ণ আনা বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি কারিগর ও কারখানাগুলোর দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে জুয়েলার্স মালিকদের। গত পাঁচ বছরে তাঁতীবাজারে কারিগরের সংখ্যা কমেছে ৯ হাজারের বেশি। কারখানা বন্ধ হয়েছে দুই হাজারের মতো। এমন অনিশ্চয়তায় কারিগরের পেশা ও কারখানা ব্যবসা ছেড়ে দিচ্ছেন অনেকেই। বাংলাদেশ জেলা জুয়েলার্স মালিক সমিতির সভাপতি জিসি মালাকার বাবু জানান, বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এখন স্বর্ণের দাম অনেক বেশি। বাংলাদেশ স্বর্ণ নীতিমালা পাস করা হয়েছে। এই নীতিমালা স্বর্ণ কারিগর-মালিক সবার জন্য ভালো। প্রতিভরি স্বর্ণের কাজ করে কারিগররা পায় পাকা স্বর্ণ দুই আনা। নীতিমালায় তা আদায় করে দিয়েছি। এখন সরকার যেমন ট্যাক্স পাবে বেশি, চোরাচালানও অনেকাংশে কমে যাবে। স্বর্ণ হলো দেশের সম্পদ। বিদেশি গহনার প্রবেশ বন্ধ করার দায়িত্ব সরকারের। বিদেশি গহনার ওপর অতিরিক্ত ট্যাক্স আরোপ করলে ৭৫ শতাংশ স্বর্ণ পাচার বন্ধ হয়ে যাবে। বর্তমানে সবাই মডার্ন কারুকাজ আর নকশার অলঙ্কার চায়। ভালো কারিগররা এখনো আছে, তাদের কাজও আছে। বৈধভাবে স্বর্ণ কেনার সুযোগ তৈরি হওয়ায় এ শিল্প আরো বিস্তৃত হবে। স্বর্ণ শিল্পীদের কাজের আরো সুযোগ সৃষ্টি হবে।

ঢাকা স্বর্ণ শিল্পী শ্রমিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ধীনেশ চন্দ্র পাল জানান, দেশীয় কারিগররা অলঙ্কার তৈরি করে হাতের দক্ষতায়। বিদেশি গহনা সম্পূর্ণ মেশিনে তৈরি করা হয়। ওজনে হালকা ও কারুকাজ হওয়া আমাদের দেশের কারিগরদের বেশ সুনাম আছে বিদেশে। ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট লাইসেন্স না থাকায় দেশের বাইরে এই শিল্পকে নিয়ে যেতে পারছি। বিদেশি স্বর্ণ বাকিতে ক্রয় করছে দোকানের মালিকরা আর নগদে বিক্রি করছে। তাই লাভের সুযোগ বেশি থাকায় কারিগরদের দিয়ে কাজ করাচ্ছে অনেক কম।

 

মো. শফিকুল ইসলাম, ঢাকা

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads