• মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৮

সমাজ বিনির্মাণে আগ্রহী চাটগাঁর ছবিয়াল

চাটগাঁর ছবিয়ালের সদস্যরা

ছবি : বাংলাদেশের খবর

ফিচার

সমাজ বিনির্মাণে আগ্রহী চাটগাঁর ছবিয়াল

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮

কালুরঘাট ব্রীজ। একটা সিটি বাস থেকে নামলো বিশ-পঁচিশজনের একটা দল, সবার কাঁধে ঝুলছে ক্যামেরা।

একজন সংক্ষিপ্ত করে ব্রিফিং দিলেন, আশেপাশের কি আছে, কতদূর যাবেন, কতক্ষণ থাকবেন, এরপর কয়টায় শেষ হবে এই আরকি, এরপর শুরু হলো ক্যামেরা হাতে ঘোরাঘুরি । কেউ ব্রীজের নীচে ট্রাকে শ্রমিকদের বালু উঠানোর ছবি তুলতে ব্যস্ত, কেউ ক্যামেরা তাক করেছেন নদীতে বয়ে চলা নৌকার দিকে। ওদিকে একজন খুব কসরত করে মনের মতো একটা ফ্রেম পেয়েছেন বলে হাসি এ কান-ও কান হয়েছে। নদীর ধারে হাটতে হাটতে সবাই ঢুকে পড়লো পাশবর্তী গ্রামে। এরই মধ্যে কেউ কেউ হয়তো তাঁদের সাংবাদিক ভেবে বসল, কাছে এসে গড়গড় করে বলতে শুরু করল নানান রকম সমস্যার কথা। কেউ-বা এগিয়ে এসে আবদার করেন, ‘একটা ছবি তুলে দেবেন প্লিজ! চাটগাঁর ছবিয়ালের সদস্যদের এমন অভিজ্ঞতা হয় হরহামেশাই।

কেবল কালুরঘাট নয়, বটতলী রেলওয়ে স্টেশন, রিয়াজউদ্দিন বাজার, সি আর বি, ফিশারী ঘাটসহ চট্টগ্রামের যেকোনো জায়গায় হঠাৎ কখনো আপনার দেখা হয়ে যেতে পারে এই ছবিয়াল দলটির সঙ্গে।

২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করা সংগঠনটির ফেসবুকে মোট সদস্যসংখ্যা বর্তমানে সাড়ে ছয় হাজারেরও বেশি, সদস্যদের জন্য সারা বছর নানা রকম আয়োজন থাকে সংগঠনে পক্ষ থেকে। কেমন আয়োজন? ‘নিয়মিত ফটোগ্রাফি বিষয়ক কর্মশালা , ফটো আড্ডা, আর্টিস টক, ফটো ওয়াক হয় বললেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা এডমিন মুহাম্মদ রুবেল।

ফটো আড্ডা বা ফটো ওয়াক ব্যাপারগুলো কী, সেটা একটু বুঝতে চেষ্টা করি সংগঠনে আরেকজন সিনিয়র এডমিন মঈন চৌধুরী থেকে। জানা গেল, সুযোগ পেলেই যে দল বেঁধে ছবি তুলতে বের হন, এই আয়োজনকে তাঁরা বলছেন ফটো ওয়াক। চেনা শহরটাকেও যে কত ভিন্ন ভিন্ন চোখে দেখা যায়, তারই প্রমাণ মেলে এই ‘ছবি হণ্টন’ থেকে। একই জায়গা, অথচ একেকজন ছবিয়ালের ক্যামেরায় ফুটে ওঠে একেক রূপ। ফটো আড্ডায় আলাপ হয় নিজেদের তোলা ছবিগুলো নিয়ে। ভুল করলে সমালোচনা হয়, ভালো করলে সবাই পিঠ চাপড়ে দেয়। আড্ডায় অভিজ্ঞরা নিজেদের মতো করে দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করেন।

এসব কার্যক্রমের ফলাফলও হাতেনাতে পাচ্ছেন চাটগাঁর ছবিয়ালের সদস্যরা। সংগঠনের এডমিন কাজী মোঃ জহিরুল ইসলামের অর্জনের কথা বলতে গিয়ে বেশ কয়েকটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার নাম বললেন। এবং জানালেন, ‘প্রতিষ্ঠার পর থেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অনেক প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কারসহ অনেকগুলো অ্যাওয়ার্ড জিতেছে আমাদের সদস্যরা।’ কথা গুলো বলছিলেন সংগঠন আরেকজন সহকারী এডমিন ইমরান হোসাইন ইমু।

কিন্তু এত কিছুর লক্ষ্যটা আসলে কী? আলাপের শেষে মুহাম্মদ রুবেল বলছিলেন, ‘ছবি তুলতে হলে ভালোবাসাটা জরুরি, ছবির জন্য আপনার ভালোবাসা থাকলে এ পথে আপনি সহজেই আগাতেন পারবেন, তরুণ ছবিয়ালের মাঝে সেই ভালোবাসা টা ঢুকিয়ে দিতে চাই, চাই তাদেরকে উৎসাহিত করতে, এবং যারা নতুন ফটোগ্রাফিতে আসতে চায়, তাদেরকে সঠিকভাবে গাইডলাইন দেওয়া।’

আর বর্তমানে ফটোগ্রাফি একটি বড় শক্তি, এরমাধ্যমে আমরা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে এবং সমাজ বিনির্মাণে কাজ করতে ও তুলে ধরতে চাই বিশ্ববাসীর কাছে আমাদের এই অপরূপ বাংলাদেশকে। এই লক্ষেই কাজ করছে চাটগাঁর ছবিয়াল।

 


লেখক

ইমরান হোসাইন

সাংষ্কৃতিক কর্মী ও

তরুণ আলোকচিত্রী

চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ।

মোবাইল : ০১৮৩১৮৬৬৬৫৪

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads