• শনিবার, ২৫ মে ২০১৯, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
ads
একটি বয়স্কভাতা কার্ডের অপেক্ষায় বৃদ্ধা আজিরন নেছা

বয়স্কভাতা কার্ডের অপেক্ষায় বৃদ্ধা আজিরন নেছা

ছবি : বাংলাদেশের খবর

ফিচার

একটি বয়স্কভাতা কার্ডের অপেক্ষায় বৃদ্ধা আজিরন নেছা

  • আসাদুজ্জামান আসাদ, ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ)
  • প্রকাশিত ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮

বয়স তার ৭০ পেরিয়েছে। শীর্ণ শরীরে বয়সের সে ছাপ স্পষ্ট। বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে আসা দেহখানি লাঠিতে ভর করে কোনোমতে বয়ে বেড়ান। চোখের জ্যোতিও বেশ খানিকটা ক্ষীণ হয়ে এসেছে। কিন্তু গরিব অসহায় এ বিধবার ভাগ্যে জোটেনি বয়স্ক ভাতা বা বিধবা ভাতা কার্ডের মতো সরকারি কোনো সাহায্যের কার্ড। বলছিলাম ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ৮ নং রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের আক্তা গ্রামের মৃত মহর আলীর স্ত্রী বিধবা আজিরন নেছার কথা।

দেড় বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর বড় কষ্টে কাটে তার দিন। পেটে ভাত নেই, পরনে কাপড় নেই, অসুখে ওষুধ খাওয়ার পয়সা নেই। তিন ছেলের জননী তিনি। তিন ছেলেই দিনমজুরি করে তাদের সংসার চালায়। আজিরন নেছা বলেন, অভাবের সংসার, দিনমজুরি করে তাদের ছেলেমেয়ে নিয়ে চলাই কষ্টকর। তারপরও আমাকে যতটুকু সম্ভব ছেলেরা দেখার চেষ্টা করে। সন্তানদের ওপর বোঝা হয়ে থাকতে নারাজ আজিরন নেছা। নিজে যদি কিছু সরকারি সাহায্য পেতেন, তাহলে ছেলেদের আর তার খরচের কথা ভাবতে হতো না বলে মনে করেন তিনি। বয়স্ক ভাতা বা বিধবা ভাতা পাওয়ার মতো অবস্থা থাকলেও স্থানীয় মেম্বারদের কাছে বার বার গিয়েও কোনো কাজ হয়নি। ফিরে আসতে হয়েছে শূন্যহাতে। শুনেছি আমার মতো গরিব অসহায় মহিলাদের সরকার সাহায্য দেয়। একটা সরকারি সাহায্যের কার্ড পাইলে ওষুধ কিইন্না খাইতাম। আর কতদিনই-বা বাঁচমু বলে কাঁদতে শুরু করেন বৃদ্ধা আজিরন নেছা।

স্থানীয় লোকজন বলেন, আজিরন নেছার মতো বয়স্ক মহিলার সংখ্যা খুব কম হবে এ গ্রামে। সরকার যখন বিভিন্ন পেশার মানুষের মাঝে সাহায্য ভাতা দিচ্ছে, তখন দরিদ্র এই পরিবারের অসহায় বৃদ্ধাও সেই সরকারি সহযোগিতার দাবিদার। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এই বৃদ্ধা সেই সাহায্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সচেতন মহলের দাবি, ৭০ বছরের বৃদ্ধা গরিব অসহায় পরিবারের বিধবা যেন সরকারি ভাতাটা তার জীবদ্দশায় পান। আজিরন নেছার মনে এখন একটাই প্রশ্ন- আর কত বয়স হলে সরকারি ভাতার একটি কার্ড পাওয়া যাবে?

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads