• বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৬ ফাল্গুন ১৪২৬
চট্টগ্রাম বিভাগের শ্রেষ্ঠ শিক্ষিকা রাশেদা আখতার 

রাশেদা আখতার 

সংগৃহীত ছবি

ফিচার

চট্টগ্রাম বিভাগের শ্রেষ্ঠ শিক্ষিকা রাশেদা আখতার 

  • প্রকাশিত ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮

কাজী ইফতেখারুল আলম, দাগনভূঁঞা, ফেনী

রাশেদা আক্তার ২০১৮ সালে জাতীয় শিক্ষা পদক পেয়ে চট্টগ্রাম বিভাগে শ্রেষ্ঠ শিক্ষিকা নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বর্তমানে উপজেলা হীরাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে কর্মরত আছেন। রাশেদা আখতার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নোয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে ইংরেজি বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। তিনি ফেনী পিটিআই থেকে সি.ইন.এড এবং সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ ফেনী থেকে বি.এড প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি বাউবির অধীনে সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ ফেনী থেকে এম.এড প্রশিক্ষণরত। রাশেদা আখতারের কর্মজীবন শুরু ১৮ জুন ২০১৩ সাল থেকে। প্রধান শিক্ষক হিসেবে তিনি প্রথম শিক্ষকতা শুরু করেন রাজাপুর ঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

২০১৫ সালের ১ এপ্রিল হীরাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করার পর বিদ্যালয়ের লেখাপড়ার মানসহ সব ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে বলে জানান স্কুলের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। প্রধান শিক্ষক রাশেদা আখতারের যোগদানের পর থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ঝরেপড়া রোধসহ শিক্ষার মানোন্নয়ন ও বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশে আমূল পরিবর্তন এনেছেন। বিদ্যালয়ের এ ইতিবাচক পরিবর্তন বর্তমানে চোখে পড়ার মতো। তার তত্ত্বাবধানে ২০১৬ ও ২০১৭ সালে পরপর দুবার বিদ্যালয়টি ঝরেপড়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোয় বিদ্যালয় ক্যাটাগরিতে বিদ্যালয়টি শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে। ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর ঝরেপড়া রোধ হয়েছে। এছাড়া স্কুলের পরিবেশ উন্নয়নে স্কুল প্রাঙ্গণে ফুল বাগান ও শিশু শ্রেণি দৃষ্টিনন্দনভাবে সজ্জিত করেন, যাতে শিশুবান্ধব পরিবেশ তৈরি হয় এবং শিশুরা স্কুলমুখী হয়। এ ছাড়া তার বিশেষ যত্নে প্রতিবছরই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরকারি বৃত্তি পেয়ে আসছে। ২০১৬ সালে ট্যালেন্টপুলে একজন ও সাধারণ গ্রেডে ২ জন শিক্ষার্থী বৃত্তিলাভ করে এবং ২০১৭ সালে সাধারণ গ্রেডে ২ জন শিক্ষার্থী বৃত্তিলাভ করে। বর্তমানে বিদ্যালয়ে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় পাসের হার শতভাগ রয়েছে।

শুধু সিলেবাসের পড়াশোনাই নয়, সহশিক্ষা কার্যক্রমেও দেওয়া হয়েছে জোর। শিশুরা বিদ্যালয়ের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা উন্মোচন হচ্ছে। অভিভাবক শিক্ষক ও এসএমসির মধ্যে পারস্পরিক সেতুবন্ধন তৈরি হচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে এমন প্রশংসনীয় উদ্যোগে সমাজের বিভিন্ন শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিরা সহযোগিতা করছেন।

রাশেদা আখতার বলেন, প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর থেকে বিদ্যালয়ের উন্নয়নে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে আসছি। সহকর্মী, এসএমসি, পিটিএ এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা নিয়ে বিদ্যালয়কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই আমার লক্ষ্য। রাশেদা আখতার আরো বলেন, বিদ্যালয়ে শিশুবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে শ্রেণিকক্ষ সজ্জিতকরণ, আকর্ষণীয় প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি, পর্যাপ্ত খেলনা ও শিখনসামগ্রী, প্রতিটি শ্রেণিতে পানির ফিল্টার এসবের ব্যবস্থা করেছি। বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত পরিবর্তনেও তিনি দিয়েছেন বিশেষ নজর। ইউএনও’র সহযোগিতায় বর্তমানে একটি ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। উপজেলা পরিষদের বিশেষ বরাদ্দে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ হয়েছে। 

গ্রামের পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে উদ্বুদ্ধ করাই এই শিক্ষিকের একমাত্র লক্ষ্য। তিনি বিশ্বাস করেন ভালোবেসে কাজ করার মতো এত আনন্দ আর কিছুতে হয় না। তিনি স্বপ্ন দেখেন তার বিদ্যালয়টি একদিন দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়ে পরিণত হবে।    

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এম কে ইমাম উদ্দিন বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে রাশেদা আখতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে শ্রেষ্ঠ শিক্ষিকা নির্বাচিত হওয়া রাশেদা আখতার শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ রাখছেন সবক্ষেত্রে। বর্তমানে রাশেদা আখতার নেপ ও এনসিটিবিতে কাজ করাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণে মাস্টার ট্রেইনার এবং ট্রেইনার হিসেবে কাজ করছেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads