• রবিবার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৫
ads
সন্তানকে গড়ে তুলুন দায়িত্ববান করে

ছবি : ইন্টারনেট

ফিচার

সন্তানকে গড়ে তুলুন দায়িত্ববান করে

  • প্রকাশিত ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮

প্রত্যেক মা বাবাই চান সন্তান দায়িত্ববোধসম্পন্ন হোক। আর সন্তানকে দায়িত্ববোধ শিক্ষা দেওয়ার পেছনে মূল ভূমিকাই পালন করেন বাবা-মা। অনেকেরই প্রশ্ন এ দায়িত্ববোধ শিক্ষা কীভাবে দেওয়া যায়? এর সহজ উত্তর হলো, দায়িত্ববোধ শিক্ষা দিতে হলে তাকে পরিবারের ছোট ছোট কাজের দায়িত্ব দিতে হবে। সেক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে কাজগুলো অবশ্যই যেন তার উপযুক্ত হয়। যেমন— নিজের কাপড় নিজে গুছিয়ে রাখা, ঘর পরিষ্কার করা, পোষা প্রাণীকে খাবার দেওয়া ইত্যাদি ছোট ছোট কাজ। 

ছোটবেলা থেকেই শিশুরা নানা ধরনের কাজ নিজে নিজে করতে চায়। কিন্তু আমরা তাদের এই প্রবণতাকে উপেক্ষা করি। তাদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বাড়ির কাজে অংশগ্রহণ করতে দিই না। আন্তরিকতার সাথে যদি শিশুদের কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়, তারা সেটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করে। পরিবারে অবদান রাখার জন্য শিশুদের যদি সুযোগ দেওয়া হয় তাহলে সে কাজে নিজেদের প্রমাণ করতে বেশি মনোযোগী হয়, যার ফলে শিশুর দায়িত্বশীলতা বেড়ে যায়।

১. দায়িত্ববোধ শিক্ষা দেওয়ার যথাযথ সময়

অল্প বয়স থেকেই শিশুদের পরিবারের ছোট ছোট দায়িত্ব গ্রহণ করতে উৎসাহিত করুন। সাধারণত তিন বছর বয়স হলেই শিশুরা ছোট ছোট দায়িত্ব নিতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। কিন্তু আমরা এত অল্প বয়সী শিশুকে কোনো দায়িত্ব নেওয়ার জন্য উপযুক্ত মনে করি না। এমনকি তোমার এখনো এসব করার বয়স হয়নি বলে শিশুকে অনুৎসাহিত করি। শিশুর প্রতি এমন মানসিকতা ত্যাগ করুন। আপনার সন্তানকে অল্প বয়স থেকেই পরিবারে ছোট ছোট কাজে অবদান রাখার প্রশিক্ষণ দিন। মনে রাখবেন, সব শিশু একই বয়সে সমান শেখে না। তাই শিশু স্কুলে পাঠানোর উপযুক্ত হওয়ার আগেই নিজের ছোট ছোট কাজ করতে শেখান। একটা কাজ শেষ হলে নতুন একটা কাজের দায়িত্ব দিন। এভাবে পর্যায়ক্রমে নতুন নতুন বিষয়ে তাকে দক্ষ করে তুলুন।

২. পরিবারে তার গুরুত্ব কতটুকু বোঝান

পরিবারে এমন কিছু কাজ থাকে যা সাধারণত বড়রা করে থাকে। সেসব কাজের কিছু অংশ যদি শিশুকে করতে দেওয়া যায় তবে তারা অনেক বেশি অনুপ্রাণিত হয় এবং নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ ভাবতে শুরু করে। যেমন আপনার শিশু সন্তানকে প্রতিদিন বাসন-কোসন পরিষ্কার করায় আগ্রহী করে তুলতে পারেন। ছোট ভাই বা বোনকে স্কুলের জন্য প্রস্তুত করার দায়িত্ব দিতে পারেন। কিশোরদের বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার করা, ফুল বাগান করাসহ বাড়ির সৌন্দর্য বর্ধনের দায়িত্ব দিতে পারেন। সন্তানকে এসব কাজ করতে দিলে তারা যেমন নিজেকে দায়িত্বশীল মনে করে, তেমনি নিজের কার্যক্ষমতা দেখে অবাক হয়।

৩. বাস্তবসম্মত কাজ

শিশুকে দেওয়া দায়িত্ব যেন বাস্তবসম্মত হয়। শিশুকে দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তাকে কোনোভাবেই মিথ্যা কাজ দেওয়া উচিত হবে না। পড়ার টেবিল প্রস্তুত করা, খাবার টেবিল প্রস্তুত করা, শোবার ঘর প্রস্তুত করা, ঘর পরিষ্কার রাখা ইত্যাদি কাজ বাস্তবসম্মত। তবে নিজে এ জাতীয় কাজ সম্পন্ন করে সন্তানকে তা আবার করতে বলবেন না, অর্থাৎ সত্যিই তাকে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।

দায়িত্বশীল করার জন্য তাকে মিথ্যা কাজ দিলে সে দ্বিধান্বিত হবে। বিপরীতে সত্যিই তাকে কাজ করতে দিলে অন্যকে সাহায্য করা ও অন্যের সাহায্য গ্রহণ করার প্রয়োজনীয়তা সে উপলব্ধি করবে, যা তার মানসিক বিকাশ ঘটাতে সহায়ক হবে।

৪. নিজের কাজ নিজেকে করতে উৎসাহিত করুন

অনেক সময় শিশুরা তার জন্য নির্ধারিত কাজ করতে ভুলে যায়। অভিভাবকরা তার হয়ে কাজটা করে রাখেন। এতে কিন্তু শিশুর দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি পায় না। যখন কোনো কাজ আপনি সম্পন্ন করলেন, তখন সেটা আপনার দায়িত্ব হয়ে গেল।

কিন্তু শিশুর জন্য নির্ধারিত কাজ যদি তাকে দিয়েই সম্পন্ন করান, তবে সেটা তার দায়িত্ব হয়। তাই শিশুর ভুলে যাওয়া কাজ সম্পন্ন করার জন্য তাকে স্মরণ করিয়ে দিন। প্রয়োজনে তাকে সহযোগিতা করুন। কিন্তু কাজটি সম্পন্ন করার প্রধান দায়িত্ব শিশুকে পালন করতে দিন। এই চর্চার ফলে শিশুর মধ্যে দায়িত্ববোধ স্থায়ী রূপ লাভ করবে।

৫. কর্মতালিকা- দায়িত্ববোধ শিক্ষার অন্যতম অনুষঙ্গ

অফিস আদালতে কাজের মতো বাড়িতে শিশুদের ওপর ন্যস্ত বিভিন্ন কাজ নিয়ন্ত্রণের জন্য কর্মতালিকা ব্যবহার করতে পারেন। বাড়িতে সুবিধাজনক জায়গায় একটা বড় বোর্ড বসিয়ে তাতে শিশুদের দৈনন্দিন কাজ লিখে রাখতে পারেন। এখান থেকে দেখে দেখে একে একে তার সব কাজ শেষ করবে এবং শেষ করা কাজটি মুছে দেবে বা টিক চিহ্ন দেবে। এই পদ্ধতি আপনাকে শিশুদের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি থেকে মুক্তি দিবে। আবার শিশুকে অনেক বেশি দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে। সার্বিকভাবে শিশুর দায়িত্ববোধ পরিবারের দায়িত্ববোধের ওপর নির্ভর করে। পরিবার শিশুদের ব্যাপারে যতটা দায়িত্বশীল হবে শিশুরাও ঠিক ততটাই দায়িত্ববোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে। আপনার পরিবার ও বাড়ির পরিবেশ শিশুর উপযুক্ত করে তুলুন এবং শিশুকে নিয়মিত দায়িত্ব  গ্রহণের সুযোগ দিন।

 

ফারজানা বীথি

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads