• শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬
ads
চন্দ্রাবতী : মধ্যযুগের প্রথম মহিলা কবি

ছবি : সংগৃহীত

ফিচার

চন্দ্রাবতী : মধ্যযুগের প্রথম মহিলা কবি

  • প্রকাশিত ১৫ জানুয়ারি ২০১৯

কিশোরগঞ্জ মধ্যযুগের বাংলা সংস্কৃতির রাজধানী। প্রাচীন জনপদ কিশোরগঞ্জের এখানে-সেখানে ছড়িয়ে আছে শিল্প-সংস্কৃতির নানা নিদর্শন। মধ্যযুগের প্রখ্যাত ভাসান কবি দ্বিজ বংশী দাসের মেয়ে চন্দ্রাবতী তেমনি এক কিংবদন্তির নাম। তিনি ছিলেন মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মহিলা কবি। মধ্যযুগে বাংলার প্রথম সার্থক মহিলা কবি চন্দ্রাবতী ছিলেন বাবার মতো ভাসান কবি, গীতিকার আর রামায়ণ রচয়িতা। ময়মনসিংহ গীতিকার পরতে পরতে মিশে আছে কবি চন্দ্রাবতীর অমর কাব্য, প্রেম আর বিরহের উপাখ্যান।

কিশোরগঞ্জ শহর থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে পাতুয়াইর গ্রাম। একসময় নির্জন আর বন-জঙ্গলে ঘেরা অনেকটা দুর্গম পাতুয়াইর গ্রাম ছিল ফুলেশ্বরী নদীর তীরে। এখন আর নদীর কোনো চিহ্ন নেই। তবে পাথুয়াইর গ্রামেই মধ্যযুগের প্রথম মহিলা কবি চন্দ্রাবতীর শিবমন্দির ও তার পূর্বপুরুষের বাড়ির স্মৃতি বয়ে চলছে আজো। কালের নীরব সাক্ষী হয়ে আজো দাঁড়িয়ে আছে চন্দ্রাবতীর শিবমন্দির আর ভগ্নপ্রায় কয়েকশ বছরের পুরনো বাড়ি। যার প্রতিটি ইটের ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে আছে নানা কিংবদন্তি।

মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যতম রচয়িতা ও ভাসান কবি দ্বিজ বংশী দাস ও সুলোচনা দাসের মেয়ে চন্দ্রাবতীর জš§ ১৫৫০ খ্রিস্টাব্দে। ময়মনসিংহ গীতিকার সংগ্রাহক ড. দীনেশ চন্দ্র সেন চন্দ্রাবতীর লেখা রামায়ণ প্রকাশ করেন। ভাটি বাংলার মানুষের জীবন-জীবিকা ও সুখ-দুঃখ নিয়ে চন্দ্রাবতী রচিত রামায়ণ, দস্যু কেনারামের পালা ও মলুয়া লোকপালা এখনো মানুষের মুখে মুখে। এখনো বৃহত্তর ময়মনসিংহে মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে আছে চন্দ্রাবতীর গীত। বাংলা সাহিত্যের মূল্যবান সম্পদ চন্দ্রাবতীর পালা আর রামায়ণ। ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে তার মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হয়।

কবি চন্দ্রাবতীর অমর প্রেমের স্মৃতি মিশে আছে শিবমন্দিরকে ঘিরে। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার পাথুয়াইর গ্রামে কালের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে অষ্টকোণাকৃতির চন্দ্রাবতীর শিবমন্দির। পাশেই রয়েছে আরো একটি মন্দির ও ভগ্নপ্রায় একটি দ্বিতল ভবন। বাড়িটি চন্দ্রাবতীর পূর্বপুরুষ জমিদার নীলকণ্ঠ রায়ের বলে ধারণা এলাকাবাসীর। দেশ-বিদেশের অনেক পর্যটক এখানে ঘুরতে আসেন। কিন্তু মন্দিরের দৈন্যদশা দেখে হতাশ হন অনেকে। ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আগে এ ঐতিহাসিক স্থাপনাটি রক্ষার দাবি তাদের। বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তি কবি চন্দ্রাবতীর স্মৃতি ধরে রাখতে তার অমর প্রেমের স্মৃতিচিহ্ন চন্দ্রাবতী শিবমন্দির সংস্কার করে এখানে একটি সমৃদ্ধ পর্যটন কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তোলার দাবি এলাকাবাসীর।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads