• বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬
ads
এগারসিন্ধুর দুর্গ ও জঙ্গলবাড়ী দুর্গ

ছবি : সংগৃহীত

ফিচার

এগারসিন্ধুর দুর্গ ও জঙ্গলবাড়ী দুর্গ

  • প্রকাশিত ১৫ জানুয়ারি ২০১৯

এগারসিন্ধুর দুর্গ
এগারসিন্ধুর দুর্গ ঈশা খাঁর নাম বিজড়িত মধ্যযুগীয় একটি দুর্গ। এটি কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার অধীনে এগারসিন্ধুর গ্রামে অবস্থিত। ‘এগারসিন্ধু’ শব্দটি এখানে ‘এগারটি নদী’ অর্থে ব্যবহƒত হয়েছে। দুর্গটি এ নামে পরিচিত হওয়ার কারণ হলো, একসময় এটি অনেক নদীর (বানার, শীতলক্ষ্যা, আড়িয়াল খাঁ, গিয়র সুন্দা ইত্যাদি) সংযোগস্থলে অবস্থিত ছিল।
জনশ্রুতি অনুযায়ী, বেবুধ (ইবনঁরফুধ) নামে একজন কোচ উপজাতি-প্রধান দুর্গটি নির্মাণ করে এটিকে তার রাজধানীতে পরিণত করেন। এখানে পুরনো একটি দিঘি রয়েছে, যেটিকে ‘বেবুধ রাজার দিঘি’ বলা হয়ে থাকে। ধারণা করা হয়, দিঘির পাড়েই রাজপ্রাসাদ অবস্থিত ছিল। ঈশা খাঁ দুর্গটি দখল করেছিলেন। দুর্গটিকে সংস্কার করে একটি শক্তিশালী সামরিক ঘাঁটিতে উন্নীত করার কৃতিত্ব ঈশা খানের। ৫৮৯ খ্রিস্টাব্দে মানসিংহ দুর্গটি আক্রমণ করেন; কিন্তু ঈশা খাঁর সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন করে তিনি ফিরে যান। সতেরো শতকের শুরুর দিকে ‘অহম’রা এ দুর্গটি দখল করে নেয়। ইসলাম খান তাদের পরাজিত করে দুর্গটি ধ্বংস করে দেন। ১৮৯৭ সালের বিধ্বংসী ভূমিকম্পে এ ধ্বংসপ্রাপ্ত দুর্গের অবশিষ্টাংশও নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। সতেরো শতকে এখানে দুটি মসজিদ নির্মিত হয়, সাদী মসজিদ (১৬৫২ খ্রিস্টাব্দ) এবং শাহ মুহম্মদ মসজিদ (১৬৮০ খ্রিস্টাব্দ)।
দুর্গটি মাটির দেয়ালে ঘেরা ছিল, যার ভিত ছিল প্রায় ৬০ ফুট চওড়া। দুর্গটির পশ্চিমদিকে মানুষের তৈরি পরিখা এবং অন্য তিনদিকে নদী দ্বারা পরিবেষ্টিত ছিল। সম্ভবত শাহ মুহম্মদের মসজিদে ব্যবহƒত পাথরগুলো দুর্গের ধ্বংসাবশেষ থেকে সংগ্রহ করা। অসংখ্য ইট, ইটের টুকরো, মৃৎপাত্রের ভগ্নাংশ, কিছু পাথর এবং কয়েকটি মাটির ঢিবি এখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, দুর্গের কোনো কাঠামোগত চিহ্নই বর্তমানে নেই।

জঙ্গলবাড়ী দুর্গ

বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলায় অবস্থিত ঈশা খাঁর স্মৃতিবাহী একটি স্থাপনা। মসনদে-আলা-বীর ঈশা খাঁ ছিলেন বাংলার বারোভুঁইয়াদের প্রধান। ঈশা খাঁর জঙ্গলবাড়ি প্রকৃতপক্ষে ঈশা খাঁর দ্বিতীয় রাজধানী ছিল। বর্তমানে এটি বাংলাদেশের প্রতœতাত্ত্বিক অধিদফতর কর্তৃক তালিকাভুক্ত একটি প্রতœতাত্ত্বিক স্থাপনা। কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলাধীন কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের জঙ্গলবাড়ী গ্রামে নরসুন্দা নদীর তীরে দুর্গটির অবস্থান।
ঈশা খাঁর আদিনিবাস আফগানিস্তান। মোগল ও ইংরেজদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ বাংলার জমিদাররা তাকে গোয়েন্দা মারফতে বাংলায় আসার সংবাদ পাঠালে তিনি ১৪০০ ঘোড়সওয়ার, ২১টি নৌবিহার ও গোলাবারুদ নিয়ে ত্রিপুরা রাজ্যে পৌঁছান। ১৫৮৫ সালে তৎকালীন কোচ রাজা লক্ষ্মণ হাজরা ও রাম হাজরাকে পরাজিত করে জঙ্গলবাড়ি দূর্গ দখল করেন। কোচ রাজা লক্ষ্মণ হাজরা বা ঈশা খাঁর কেউ এই দুর্গের স্থপতি নয়। এটি প্রাক-মুসলিম যুগে নির্মিত বলে ধারণা করা হয়। তবে ঈশা খাঁ দুর্গ দখল করার পর এর ভেতরে কিছু স্থাপনা নির্মাণ করেন। এই দুর্গ থেকে পরে তিনি একে একে তিনি সোনারগাঁওসহ মোট ২২টি পরগণা দখল করেন। ১৫৯৭ সালে তিনি পাকুন্দিয়ার এগারসিন্দুরে মোগল সম্রাট আকবরের সেনাপতি মানসিংকে পরাজিত করেন।

দুর্গটিতে বর্তমানে উত্তর-দক্ষিণে লম্বা ইটের পাঁচিল দিয়ে ভাগ করা দুটি চত্বর রয়েছে। স্থানীয়রা পাঁচিলটি পরিচিত ‘প্রাসাদ প্রাচীর’ নামে। দক্ষিণ দিকে একটি তোরণ আছে। তোরণটির সামনের দিকে ‘করাচি’ নামে একটি পূর্বমুখী একতলা ভবন রয়েছে। তোরণের পেছনে ‘অন্দর মহল’ নামে একতলা দক্ষিণমুখী একটি ভবন রয়েছে। পুরো ইটের দেয়াল চুনকামসহ লেপন দিয়ে ঢাকা। দক্ষিণ, পশ্চিম ও উত্তর দিকে গভীর পরিখা খনন করা আছে। পরিখাটিকে পূর্বদিকে নরসুন্দা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়। বাড়ির সামনে ঈশা খাঁর সময়ের খনন করা একটি দীঘি আছে। তার পাশেই আছে একটি তিনগম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ। ধারণা করা হয়, ঈশা খাঁই মসজিদটি নির্মাণ করেছেন। মসজিদটিতে রয়েছে মোগল স্থাপত্যশৈলীর ছাপ। মসজিদের পাশেই ঈশা খাঁর বংশধরদের বাঁধানো কবর রয়েছে। ২০০৫ সালের ১২ জুন দুর্গের ভেতরের দরবারগৃহটি সংস্কার করে স্থানীয় প্রশাসন ‘ঈশা খাঁ স্মৃতি জাদুঘর ও পাঠাগার’ স্থাপন করে। সেখানে ঈশা খাঁর বিভিন্ন ছবি, তার বংশধরদের তালিকা এবং বিভিন্ন নিদর্শন রয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads