• বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩ আশ্বিন ১৪২৫
ads
বরিশালের গৈলা উচ্চ বিদ্যালয় গৌরবের ১২৬ বছর

ছবি : বাংলাদেশের খবর

ফিচার

বরিশালের গৈলা উচ্চ বিদ্যালয় গৌরবের ১২৬ বছর

  • প্রকাশিত ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

২৩ জানুয়ারি বরিশালের আগৈলঝাড়ার ঐতিহ্যবাহী গৈলা সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১২৬ বছর পূর্ণ হলো। যখন এ বিদ্যালয়টি গড়ে তোলা হচ্ছিল, তখন বরিশালের উত্তরাঞ্চলে অন্য কোনো ‘হাই স্কুল’ ছিল না। এখন এ উপজেলায় প্রায় ‘পাড়ায় পাড়ায়’ বিদ্যালয়, কিন্তু গৈলার স্কুলটি জ্ঞানচর্চার সেরা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ধরে রাখায় সর্বদা যতœবান থেকেছে। যাত্রালগ্ন থেকেই কো-এডুকেশন, এটাও বড় আকর্ষণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির প্রখ্যাত অধ্যাপক অমিয় দাশগুপ্ত এ বিদ্যালয়েরই ছাত্র ছিলেন। তিনি নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের পিএইচডির থিসিস গাইড ছিলেন। গৈলা দাশের বাড়ির সম্মান ছিলেন রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ-এর মাতা ‘আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে...’ কবিতার রচয়িতা কবি কুসুম কুমারী দেবী। এই দাশের বাড়িতেই গৈলা স্কুলের প্রকৃত স–চনা হয়েছিল ১৮৭৬ সালে মাইনর স্কুল হিসেবে। ছাত্র সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে পরবর্তী সময়ে স্কুলটির জন্য দাশের বাড়ির বিদ্যানুরাগিরা সুবিশাল খেলার মাঠসহ বর্তমান স্থানটি দান করেন। জ্ঞান চর্চায় গৈলা স্কুল সেদিন যে আলোড়ন তুলেছিল তার দুয়েকটা দৃষ্টান্ত দেওয়া যেতে পারে। ১৮৯৩ থেকে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত এই গ্রাম থেকে অন্তত ৪০ জন ছাত্রছাত্রী ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেছিলেন। মেয়েরাও সেদিন সমান তালে বিদ্যা চর্চার প্রতিযোগিতায় নেমেছিল। এই স্কুলের সিঁড়ি পেরিয়ে সেই স্বর্ণ যুগে এম এ, এমকম, এমএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় কলকাতা এবং অনন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণি পেয়েছিলেন ২২ জন। এমবিবিএস ডিগ্রিধারী চিকিৎসক ছিলেন ৩৩ জন এবং বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার ৪৩ জন।

এ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সাবেক সচিব আবদুর রব সেরনিয়াবাত, সাবেক ছাত্র ও শিক্ষক সুনীল কুমার গুপ্ত, সাবেক ছাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল মালেক ও সাবেক ছাত্র সৈয়দ আবুল হোসেন বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছিলেন। বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন গ্রামের কৃতী সন্তান কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েট কৈলাস চন্দ্র সেন। এই মহাত্মন সরকারি উচ্চ পদের চাকরি ছেড়ে তিন দশকের অধিক কাল পরম নিষ্ঠা ও সফলতার সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে বিদ্যালয়টিকে উপমহাদেশের একটি শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠের মর্যাদায় আসীন করেন। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে।
গৈলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২৩ জানুয়ারি বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ২৭ জানুয়ারি ছিল বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ও শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. এস এম ইমামুল হক।

তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শৈশবের বিদ্যাপীঠের অনুষ্ঠানে এসে আমি নিজেকে গর্বিত মনে করছি।

তিনি প্রস্তাব করেন, একাত্তরের দিনগুলোতে মুক্তিকামী মানুষের শক্তি জোগাত ‘জয় বাংলা’ স্লোগান। তাই এটি আমাদের মুক্তির স্লোগান। এই স্লোগান জাতীয় স্লোগান হিসেবে সংসদে পাস করা হোক। সেই সঙ্গে সব প্রতিষ্ঠানে জয় বাংলা স্লোগানটি বাধ্যতামূলক করা হোক।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও গৈলা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বিপুল চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান মোহসিনা হোসাইন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান শরিফা শিরিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাত, উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম মোর্তুজা খান প্রমুখ।

 

অজয় দাশগুপ্ত

লেখক : গৈলা সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads