• শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬
ads
সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

ছবি : বাংলাদেশের খবর

ফিচার

সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

  • প্রকাশিত ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

খেলাধুলা : সুনামগঞ্জে বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার মধ্যে ফুটবল, ক্রিকেট, হ্যান্ডবল, ভলিবল, অ্যাথলেটিকস, ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস ইত্যাদি প্রধান। এসব খেলাধুলা প্রায় সারা বছর ধরেই অনুষ্ঠিত হয়। এ জেলায় ১৯৪৭ সালে ফুটবল ও ১৯৬৭ সালে ক্রিকেট খেলা শুরু হয়। এসব খেলাধুলার জন্য জেলা সদরের স্টেডিয়াম ছাড়া কোনো স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি।

 

বিনোদন : গান, নাটক, কবিতার বর্ণে-গন্ধে শোভিত এ জনপদ হাজার বছর ধরে তার বিনোদন ঐতিহ্যের ধারা বহন করে চলেছে। এ জনপদের শিল্প-সংস্কৃতির ধরন যেমন অন্য জনপদ থেকে ভিন্ন, তা চর্চার ক্ষেত্রেও স্বতন্ত্র রীতি-পদ্ধতি অনুসরণ করে।  এ জনপদ কৃষিপ্রধান এবং কৃষিকে কেন্দ্র করে মানুষের জীবন আবর্তিত। এ জনপদের ৮০ ভাগ মানুষই চাষাবাদ ও শিকারবৃত্তিকে আঁকড়ে ধরে জীবন নির্বাহ করে আসছে। এ জীবন নির্বাহের পেছনে শুধু শ্রমদান মুখ্য তা নয়, তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে শিল্পচর্চার বিষয়টিও। সাধারণ মানুষ কৃষি উপকরণ, মৎস্য আহরণের উপকরণগুলো একসময় ঘরে বসে তৈরি করেছে। এর মধ্যে লাঙ্গল, জোয়াল, ফুফা, মই, জাল, বাগুড়া, রোঙ্গা, কুচা, ফলো, কুইন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এখনো এসব উপকরণ গ্রামেই তৈরি হয়। এটি এ অঞ্চলের শিল্প। বিনোদনের জন্য শিল্প। বিষয়টি গ্রামীণ জনপদে মানুষের অন্তরকে নাড়া দেয়। হাতে তৈরি রুমাল, রুমালের জমিনে আঁকা সুচিশিল্প, হাতপাখা, বেত থেকে তৈরি শীতলপাটি এখানকার মানুষের জীবন থেকে উৎসারিত শিল্প। এখানে বেত, বাঁশ ও কাঠশিল্পের ছোট ছোট কারখানা এবং কুটিরশিল্প রয়েছে। হোগলার চাটাই, বাঁশের চাটাই, মূর্তার চাটাই, বাঁশের তৈরি ডোলা, কুলা, পাইলা, কাটা, বড় ডোলা ইত্যাদি লোকজীবনের প্রতীক। মাইজবাড়ি জলযান শিল্প এখন ইতিহাসের অংশ। বারকি নৌকা তৈরির উদ্যোগ আজো অব্যাহত আছে।

 

শিল্প-সংস্কৃতি : এখানকার শিল্প-সংস্কৃতির আরেকটি ধারা হলো গ্রাম্যমেলা। এ জনপদে যে স্থানে মেলা হয়, তার মধ্যে সুনামগঞ্জ সদরে পাইকাফনের মেলা, মাইজবাড়ীর মেলা ও আলমপুরের মেলা। ছাতকে ছনখাইড়ের মেলা, পীরপুরের মেলা। দোয়ারাবাজারে মাছিমপুরের মেলা, পানাইলের মেলা। বিশ্বম্ভরপুরে রাধানগরের মেলা, ফুলবড়ির মেলা। দিরাইয়ে ধলমেলা, সজনপুরের মেলা, রাজারগাঁওয়ের মেলা, পাঁচগাছির মেলা, বরার গাঁওয়ের মেলা। তাহিরপুরে পণাতীর্থ মেলা। ধর্মপাশায় শিবরাত্রির মেলা, বারুণী মেলা। শাল্লায় সমেশ্বরীর মেলা, হুমাই ঠাকুরানীর মেলা। জগন্নাথপুরে কামারখালের মেলা, রৌওলির মেলা, মীরপুরের মেলা। জামালগঞ্জে নোয়াগাঁয়ের মেলা, সাচনার মেলা। চৈত্রসংক্রান্তি নবান্ন, মহররমপূর্ব লাঠিখেলা, লৌকিক অনুষ্ঠান বা উৎসবের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আজো গান গাওয়া হয়, কবিতা, ছড়া। পাশাপাশি লোক খেলার মধ্যে ষাঁড়ের লড়াই, নৌকাবাইচ, হাডুডু খেলা, মোরগের লড়াই, কুস্তি, লাঠিখেলা আয়োজন করা হয়। হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির লৌকিক ক্রিয়া অনুষ্ঠান হলো পুঁথিপাঠের আসর। এ জেলার প্রত্যেক উপজেলায় পুঁথিপাঠের রেওয়াজ প্রচলিত আছে। এ জনপদে চিরায়ত ঐতিহ্যের মধ্যে পুঁথিপাঠ অনাড়ম্বর প্রয়াস। লৌকিক প্রেমযুদ্ধ, পৌরাণিক মিথ পুঁথির উপজীব্য বিষয়। এ অঞ্চলের সংস্কৃতি লোকঐতিহ্যনির্ভর। এ সংস্কৃতি চর্চাকারীর বৃহৎ গোষ্ঠীই বসবাস করে গ্রামে। কবি নজরুলকে যতটা জানে শহরের মানুষ, তার চেয়ে অনেক বেশি চিনে-জানে সৈয়দ শাহনূর, রাধারমণ, হাসন রাজা, শাহ আবদুল করিমকে। গীতপ্রধান এ অঞ্চল সমগ্র দেশে স্বতন্ত্রভাবে পরিচিত শুধু লোককবি, আউল-বাউল ও পীর-ফকিরদের অবদানের জন্যে। তিন শতাধিক লোককবির জন্মভিটা এ সুনামগঞ্জ জেলা। সেই সঙ্গে ধান-পাথর। এখনো এ জনপদে ষাট হাজারের বেশি লোকগান পড়ে আছে। প্রবাদ-প্রবচন, ডাকের কথা, ছিলক, কিচ্ছাকাহিনি আজো লোকমুখে শোনা যায়। প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান হিসেবে প্রাচীন জমিদার বাড়ি, লাউরের ধ্বংসাবশেষ, প্রাচীন মসজিদ রয়েছে। ঐতিহ্য-সংস্কৃতির স্বতন্ত্র আড়ত হিসেবে শিল্প-সংস্কৃতির ইতিহাস বিবেচনায় সম্প্রতি শিল্প-সংস্কৃতি ও লোকায়ত ঐতিহ্য সংরক্ষণ করার অভিপ্রায় নিয়ে যুদ্ধজয়ের দিন ২০০৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর  সবার জন্য একটি স্বতন্ত্র মিউজিয়াম গড়ে তোলা হয়েছে। জেলা প্রশাসন এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করায় সুধীসমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমর্থ হয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads