• সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬
ads
যাদের পরিচয়ে গর্বিত পঞ্চগড়বাসী

যাদের পরিচয়ে গর্বিত পঞ্চগড়বাসী

সংরক্ষিত ছবি

ফিচার

যাদের পরিচয়ে গর্বিত পঞ্চগড়বাসী

  • সৈয়দ ফয়জুল আল আমীন
  • প্রকাশিত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

রাজনীতিক মির্জা গোলাম হাফিজ

মির্জা গোলাম হাফিজ ১৯২০ সালের ২ জানুয়ারি পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলাধীন মির্জাপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার স্কুল ও কলেজ জীবন কাটে যথাক্রমে জলপাইগুড়ি ও রাজশাহীতে। ১৯৪১ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এমএ এবং ১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএল ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৫৪ সালে তিনি পঞ্চগড় নির্বাচনী এলাকা থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৮ সালের ২৯ জুন তিনি ভূমি প্রশাসন ও ভূমি সংস্কারমন্ত্রী নিযুক্ত হন। ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে তিনি ঢাকা থেকে (রমনা, মতিঝিল থানা) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ সালের ২ এপ্রিল তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন। ১৯৮২ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে তিনি আটোয়ারী-তেঁতুলিয়া-পঞ্চগড় সদর নির্বাচনী এলাকা থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং ১৯৯১ সালের ২৩ মার্চ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী নিযুক্ত হন। ২০০০ সালের ২০ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 

 

ভাষাসৈনিক মোহাম্মদ সুলতান

মোহাম্মদ সুলতান ১৯২৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর বোদা উপজেলার মাঝগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫৩ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মোহাম্মদ সুলতান স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। কৈশোরেই ‘ভারত ছাড়’ ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে আকৃষ্ট হন রাজনীতিতে। ১৯৪৬ সালে পাকিস্তান আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীকালে ১৯৪৮ সালে রাজশাহীতে ভাষা আন্দোলন এবং ছাত্র আন্দোলনে সুলতান অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৫১ সালে যুবলীগে যোগ দেন এবং যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম কালো পতাকা উত্তোলনকারী ছাত্র। সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর যে ১১ জন সংগ্রামী ছাত্রনেতা ফজলুল হক হলের পুকুর পাড়ের সিঁড়িতে বসে রাতে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, মোহাম্মদ সুলতান ছিলেন তাদের অন্যতম। ভাষা আন্দোলনের পর তিনি এমআর আখতার মুকুলের সঙ্গে পুস্তক বিক্রয় কেন্দ্র ‘পুথিপত্র’ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 

 

চিত্রনায়ক আবদুর রহমান

উপমহাদেশের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র অভিনেতা আবদুর রহমান ওরফে নায়ক রহমান ১৯৩৭ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি আটোয়ারী উপজেলার রসেয়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পুরো নাম আবদুর রহমান। একদিন বাবাকে না বলে বাড়ি থেকে লুকিয়ে পাড়ি দেন ঢাকায়। ১৯৫৯ সালে কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা আবু নূর মোহাম্মদ এহতেশামুল হক পরিচালিত ‘এ দেশ তোমার আমার’ চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে তার। খলচরিত্র দিয়ে অভিনয় শুরু হলেও তিনি ধারাবাহিকভাবে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন ‘উত্তরণ’, ‘তালাশ’, ‘চান্দা’, ‘জোয়ার ভাটা’ ও ‘হারানো দিন’ চলচ্চিত্রে। তার বিপরীতে অভিনেত্রী শবনম। এই জুটি হয়ে ওঠে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে প্রথম জনপ্রিয় ও সার্থক জুটি। ১৯৬৫ সালে মুক্তি পাওয়া জহির রায়হানের ‘বাহানা’ ব্যাপক জয়প্রিয়তা এনে দেয় তাকে। অভিনয়ের পাশাপাশি রহমান ১৯৬৭ সালে ‘দরশন’ চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। বাংলা, উর্দু ও পশতু ভাষার চলচ্চিত্রে সমানভাবে জনপ্রিয় অভিনেতা রহমান অভিনীত উল্লেখ্যযোগ্য চলচ্চিত্রগুলো হলো উর্দুতে ‘চান্দা’, ‘তালাশ’, ‘মিলন’, ‘বাহানা’, ‘দর্শন’, ‘কঙ্গন, ‘দোস্তি’, ‘নাদান’; বাংলায় ‘এ দেশ তোমার আমার’, ‘রাজধানীর বুকে’, ‘এই তো জীবন’, ‘হারানো দিন’, ‘জোয়ার ভাটা’, ‘দেবদাস’। বাংলাদেশের জাতীয়, বাচসাসসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হন রহমান। ২০০৫ সালের ১৮ জুলাই তার জীবনাবসান ঘটে।

 

কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদ

মোহাম্মদ ফরহাদ ১৯৩৮ সালে বোদা উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দিনাজপুর জিলা স্কুল থেকে প্রবেশিকা, সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও গ্র্যাজুয়েশন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন এবং ১৯৫৪ সালে কারাবরণ করেন। ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র থাকা অবস্থায় পাকিস্তানের আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে জঙ্গি ছাত্র আন্দোলনে ও শিক্ষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ১৯৬৮ সালে কমিউনিস্ট পার্টির প্রথম কংগ্রেসে (সম্মেলন) কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর অন্যতম সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। সিপিবি, ন্যাপ ও ছাত্র ইউনিয়নের যৌথ গেরিলা বাহিনীর (মুক্তিবাহিনী) প্রধান সংগঠক ও অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৩ সালে কমিউনিস্ট পার্টির দ্বিতীয় কংগ্রেসে কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তিনি অন্যতম প্রধান সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন। ১৯৮৬ সালে তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন।

 

বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম

অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বোদা উপজেলার মহাজন পাড়ায় চল্লিশের দশকে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন। ’৫২-র ভাষা আন্দোলন, ’৬২-র শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৬-র ছয় দফা এবং সর্বোপরি ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক এবং ডাকসুর সহ-সম্পাদকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসীন ছিলেন। ১৯৭০ সালে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য হিসেবে পঞ্চগড় থেকে নির্বাচিত হন। পরবর্তীকালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ৬ নং সেক্টরের বেসামরিক উপদেষ্টা হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে তেঁতুলিয়াকে মুক্তাঞ্চলের তীর্থভূমি হিসেবে সারা বিশ্বে পরিচিত করান। বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লব কর্মসূচির ডাকে সাড়া দিয়ে বাকশালের ঠাকুরগাঁও জেলার সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন। এ ছাড়া তিনি একাধিকবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৭ সালের ২ জুন তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads