• মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৫
ads
জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও সুলতান মনসুরের শপথ

লোগো জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও সুলতান মোহাম্মদ মনসুর

ছবি : সংগৃহীত

ফিচার

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও সুলতান মনসুরের শপথ

  • মো. এমদাদ উল্যাহ
  • প্রকাশিত ১৮ মার্চ ২০১৯

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আট প্রার্থী বিজয় লাভ করেন। মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া ও কমলগঞ্জ) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছেন গণফোরামের নেতা ও সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। ৩১ জানুয়ারি ঐক্যফ্রন্টের নেতারা ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেন যে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে নির্বাচিত কোনো জনপ্রতিনিধি শপথ নেবেন না। কেউ এই সিদ্ধান্ত না মানলে বহিষ্কার করা হবে। এই সিদ্ধান্ত সিলেট-২ আসন থেকে নির্বাচিত মোকাব্বির খান মেনে নিলেও যে কোনো অবস্থায় শপথ নিতে বদ্ধপরিকর ছিলেন ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। অতিসম্প্রতি তিনি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরামে যোগ দেন।

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করেই ৭ মার্চ বৃহস্পতিবার এমপি হিসেবে শপথ নিলেন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। শপথের পর সংবাদমাধ্যমকে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর জানান, জনগণ শত প্রতিকূল অবস্থার মুখে আমাকে নির্বাচিত করেছে। কারণ সংসদীয় এলাকার জনগণ চায়, আমি শপথ নিই এবং তাদের পক্ষে ভূমিকা রাখি। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি। সংসদে যাওয়ার জন্যই তো নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় রেজিস্টার্ড দলের সদস্য হিসেবে গণফোরামের সদস্য হয়েছি। কিন্তু আমি জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার একজন প্রতিনিধি এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্থায়ী কমিটির সদস্য।

অপরদিকে সুলতান মনসুর জোটের অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। সুলতান মনসুরের শপথ নেওয়ার কিছুক্ষণ পর বিএনপির সহযোগী সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর কোষাধ্যক্ষ ডা. একেএম মহিউদ্দিন ভুইয়া মাসুম তার ব্যক্তিগত দুটি ফেসবুক আইডিতে লেখেন, ‘বেইমান সুলতান মনসুর আপনার কি মনে পড়ে ধানের শীষ প্রতীকের জন্য আপনার কাকুতি-মিনতির কথা? আহা, ট্রেনে করে রাতে কুলাউড়া যাবেন, সকালে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দের চিঠি জমা দিতে হবে। কিন্তু বিএনপি থেকে এখনো আপনি প্রতীক বরাদ্দ পাননি। অনেক চেষ্টার পর বিএনপি থেকে প্রতীক পেলেন। আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হলো এয়ারপোর্ট রেলস্টেশনে গিয়ে আপনার বগিতে উঠে আপনার চিঠিটি আপনার হাতে দিতে। তখনো বিএনপির কেউ চিঠি পাননি। আমি বিএনপির সিনিয়র নেতাদের নির্দেশে আপনার চিঠি নিয়ে দ্রুত গতিতে গাড়ি হাঁকিয়ে অনেক কষ্টে আপনার হাতে চিঠিটা দেওয়ার পর আমাকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন, ‘বিএনপির এই প্রতিদান আপনি কোনোদিন ভুলবেন না এবং আজীবন বিএনপির সাথে থাকবেন।’ নির্বাচনে বিএনপি নেতাদের কাছ থেকে অনেক টাকা নিয়ে এখন বিএনপির সঙ্গে বেইমানি করছেন। আমি প্রথম থেকে আপনাকে বেইমান বলেই জানতাম। কিন্তু বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে আপনার সঙ্গে বহুবার দেখা করেছি, আমার কিছু বন্ধুসহ। আপনার মতো নীতিভ্রষ্ট রাজনীতিবিদদের জন্য আমরা লজ্জিত। আপনাকে নমিনেশন দিতে গিয়ে বিএনপির দুজন প্রার্থীকে কোরবানি দিতে হয়েছিল। মনে রাখবেন, আপনার এই বেইমানির বিচার জাতি একদিন করবেই।

উল্লেখ্য, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর সিলেট এমসি কলেজে পড়ার সময়ই ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন। আশির দশকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের ভিপি ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সরব ছিলেন। সমাজে একটি কথা প্রচলিত আছে- রাজনীতিতে শেষ বলতে কিছু নেই। সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের ভাষায়, এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করতেই তিনি এমপি হিসেবে শপথ নিয়েছেন। কারণ শপথ না নিলে তিনি এলাকার কোনো উন্নয়ন করতে পারবেন না। এখন দেখার বিষয়- সুলতান মোহাম্মদ মনসুর সংসদে জনগণের কল্যাণে কী কথা বলেন এবং কী উন্নয়ন করেন।

 

লেখক : সাংবাদিক

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads