• সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৫
ads

ফিচার

ঢাকায় চার লাখ ভবন ঝুঁকিপূর্ণ

  • সালেহীন বাবু
  • প্রকাশিত ২৩ মার্চ ২০১৯

‘ফায়ার’ শব্দটি অনেক ছোট হলেও এর ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা অনেক। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে ভয়াবহ আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেছেন বহু মানুষ। ধ্বংসযজ্ঞ আরো ভয়াবহ হতে পারত, যদি বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের অকুতোভয় সদস্যরা সঠিক সময়ে ঝাঁপিয়ে না পড়তেন। আজ বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স দেশ ও দশের কল্যাণে অগ্রগণ্য। আগুন লাগার কারণ, বর্তমান প্রেক্ষাপটে বহুতল ভবন ও হাসপাতালে আগুন নির্বাপন ব্যবস্থাসহ সার্বিক বিষয়ে কথা হয় বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) মেজর শাকিল নেওয়াজের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সালেহীন বাবু

বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর...

বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর অগ্নিকাণ্ডসহ যে কোনো দুর্ঘটনা-দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রথম সাড়াদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হচ্ছে। গতি-সেবা-ত্যাগের মন্ত্রে দীক্ষিত এ প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি প্রশিক্ষিত ও দক্ষ কর্মী অতন্দ্র প্রহরীর মতো জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে সর্বদা নিয়োজিত। সারা দেশে বর্তমানে ৪০২টি ফায়ার স্টেশন চালু রয়েছে এবং লোকবল সংখ্যা ১২ হাজার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের প্রতিটি উপজেলায় অন্তত একটি করে ফায়ার স্টেশন স্থাপনের লক্ষ্যে ৪টি প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়িত হচ্ছে। এসব প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে মোট ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা হবে ৫৪৯টি এবং জনবল হবে ১৫ হাজারের অধিক। নিঃসন্দেহে অধিদফতরের সেবার পরিধি বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। অধিদফতরের সেবার মান উন্নয়ন এবং আধুনিকায়নের জন্য সরকার বিভিন্নমুখী পরিকল্পনা ও কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি ও উদ্ধার সরঞ্জাম দিয়ে এ অধিদফতরকে অধিকতর সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসে অত্যাধুনিক কেমিক্যাল, ফায়ার ফাইটিং সরঞ্জাম সংযুক্ত করা হয়েছে। এসব অগ্নিনির্বাপনী ও উদ্ধার সরঞ্জাম নিঃসন্দেহে এ বিভাগের কর্মক্ষমতা অধিকতর শক্তিশালী করতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে সমর্থ হবে।

 

ঢাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংখ্যা কত?

ঢাকায় চার লাখ ভবন ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে ৩০০ বছর আগের ভবনও আছে। ঢাকায় ১ হাজার ১২৬টি বিপণি বিতান আছে। এর মধ্যে উচ্চ ঝুঁকিতে ৬৭৯টি, ঝুঁকিতে ৪০১টি আর নিরাপদ মাত্র ৪৬টি।

বহুতল ভবনের বর্তমান পরিস্থিতি...

পুরনো কায়দায় বালু বা পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসবেন এটা আর এখন ভাবলে চলবে না। কারণ এখন আবাসিক ভবন বানানো হচ্ছে বাণিজ্যিক। বহুতল ভবনের ডেকোরেশনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন মারাত্মক দাহ্য পদার্থ। শুধু তা-ই নয়, প্রচুর পরিমাণে ইলেকট্রো মেকানিক্যাল যন্ত্রাদি ব্যবহারের ফলে ঝুঁকি দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে।

 

চকবাজারে অগ্নিকাণ্ড...

পুরান ঢাকার ভবনে ভবনে যেন সেলফ মেইড এক্সপ্লোসিভ রাখা হয়েছিল, যা যে কোনো মুহূর্তে এমন বড় বড় দুর্ঘটনা ঘটাতে সক্ষম। এ ছাড়া সরু রাস্তা, পানির সঙ্কটসহ স্ট্রাকচারাল সমস্যা তো রয়েছেই। পুরান ঢাকাকে অবকাঠামোগতভাবে নতুন করে সাজাতে না পারলে অদূর ভবিষ্যতে আরো বেশি মূল্য দিতে হবে। আবাসিক এলাকায় বেআইনিভাবে প্লাস্টিক দানা ও কেমিক্যালসহ বিভিন্ন ধরনের দাহ্য পদার্থ সংরক্ষণ করা হচ্ছে, যা সেলফ মেইড এক্সপ্লোসিভের (নিজ থেকেই বিস্ফোরকে পরিণত হওয়া) মতো বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখনই এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া না হলে যে কোনো মুহূর্তে আরো বড় বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

 

অগ্নিঝুঁকি মোকাবেলায় ঢাকা মহানগরীর হাসপাতাল ও ক্লিনিক কতটুকু ঝুঁকিপূর্ণ বলে আপনি মনে করেন? এ ব্যাপারে সার্বিক করণীয় কী?

অগ্নিঝুঁকি মোকাবেলায় ঢাকা মহানগরীর হাসপাতাল ও ক্লিনিক যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ বলে মেজর শাকিল জানান। ফায়ার সার্ভিস থেকে হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে সার্ভে পরিচালনা করে ঝুঁকি নির্ধারণ করা হয়। ঝুঁকির ওপর ভিত্তি করে তা নিরসনের জন্য সুপারিশমালা প্রণয়ন, অগ্নি দুর্ঘটনা মোকাবেলার জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রদান, নিয়মিত মহড়া অনুশীলন, অগ্নি দুর্ঘটনা বিষয়ক হাসপাতালে সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত আছে। হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদারে সুপারিশমালা তুলে ধরে তিনি বলেন, নিরাপত্তা কমিটি গঠন, ফায়ার রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট, আপৎকালীন কর্মপরিকল্পনা (ফায়ার অ্যান্ড সেফটি প্ল্যান), ফায়ার সেফটি অফিসার এবং ফায়ার ফাইটিং টিম (২৪/৭) সংরক্ষণ, নিয়মিত অগ্নি নির্বাপণের প্রশিক্ষণ ও মহড়া পরিচালনা, ইভাকুয়েশনের জন্য বহির্গমন পথ সবসময় বাধামুক্ত ও আলোকিত রাখা, ফায়ার অ্যালার্ম ও ডিটেকশন সিস্টেম স্থাপন, পিএ সিস্টেম সংরক্ষণ, বহনযোগ্য অগ্নি নির্বাপণ যন্ত্র সংরক্ষণ, রিফিউজ এলাকা এবং সেফটি লবি সংরক্ষণ, অ্যাসেম্বলি এরিয়া সংরক্ষণ, ফায়ার পাম্প সিস্টেম সংরক্ষণ, পর্যাপ্ত পানির রিজার্ভার সংরক্ষণ, স্ট্যান্ডপাইপ সিস্টেম সংরক্ষণ, ফায়ার হোজ এবং ফাস্ট এইড হোজ কানেকশন সংরক্ষণ, ফায়ার ডিপার্টমেন্ট কানেকশন এবং ফায়ার হাইড্রেন্ট সংরক্ষণ, ফায়ার লিফ্ট ও হাসপাতাল লিফট সংরক্ষণ, ফায়ার কমান্ড স্টেশন স্থাপন করতে হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads