• সোমবার, ২৭ মে ২০১৯, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
ads

ফিচার

ফেসবুক ব্যবহারে নীতিমালা প্রয়োজন

  • মুহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন
  • প্রকাশিত ২৪ এপ্রিল ২০১৯

ফেসবুক একটি অন্যতম যোগাযোগমাধ্যম। গত বছরের একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ঢাকা শহর ফেসবুক ব্যবহারে দ্বিতীয়। কিন্তু এই ফেসবুক ব্যবহারে বাঙালি নারীরা কতটা নিরাপদ! একটি ব্যক্তিগত জরিপে দেখেছি, একটি মেয়ে তার প্রোফাইল ছবি দিয়ে একটি আইডি খোলার পর একদিনেই প্রায় ৩ থেকে ৫ হাজার বন্ধুত্বের অনুরোধ আসে। আর এটি নিরানব্বই শতাংশই ছেলেরা পাঠিয়ে থাকে। একটি মেয়ে ফেসবুকে কোনো পোস্ট করলে শত শত কমেন্ট আসে ছেলেদের কাছ থেকে। মেয়েদের প্রোফাইল ঘাঁটলে দেখা যাবে, তাদের অনেক ফেসবুক অনুসারী অথচ বাস্তবে তার দ্বারা এমন চারআনারও কোনো উপকার হয়নি কারো বা জাতির যে তাকে অনুসরণ করবে। তবে ছেলেদের ক্ষেত্রে এটি শূন্যের কোটায়। যারা কিছু কাজ করে চারআনা উপকার সাধন করেছেন তাদেরই শুধু কিছু ফেসবুক অনুসারী থাকে। কিন্তু বেশিরভাগ মেয়ে তাদের শুধু নারী ট্যাগের জন্য অনুসারী এবং কমেন্ট পেয়ে থাকেন। কিন্তু এটি তেমন সমস্যা নয়। কারণ অনুসারী থাকতেই পারে।

কিন্তু সমস্যা হলো এখানে যে, একটি মেয়ে যখন নেট চালুর পর ফেসবুক চালু করে, তখন দেখা যায় এত এত অপরিচিত-পরিচিত ছেলের আইডি থেকে হাই-হ্যালো আসে কিংবা বাজে বাজে কথা এবং পিকচার আসে যা বলার বাইরে। যার জন্য মেয়েদের ফেসবুক ব্যবহার অনেক বেশি অনিরাপদ হয়ে উঠছে দিন দিন। অনেক ভালো মেয়ে ফেসবুকে আসতে ভয় পান। তারা দেখেন এখানে পাগলদের আড্ডাখানা। অনেক সময় এ কারণে পরিচিত মেয়েদের সঙ্গে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে তাকে খুঁজে পাওয়া যায় না ফেসবুকে বা রিপ্লাই পাওয়া যায় না। এর অন্যতম কারণ ছেলে নামধারী পাগলদের ভিড়ে গুরুত্বপূর্ণ মেসেজটি অনেক দূরে ঢাকা পড়ে যায় খুঁজে পাওয়া যায় না বা বিরক্ত হয়ে কোনো মেসেজ না দেখায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিও বাদ পড়ে যায়।

আবার কোনো মেয়ে এটাকে সুযোগ মনে করে পর্নোগ্রাফির ব্যবসায় মাতে। খোলামেলা লাইভে আসেন। ভিডিও চ্যাট করেন অপরিচিতদের সঙ্গে। এর দ্বারা নিজের অনুসারী বাড়িয়ে যেমন নিজের কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকলে টাইমলাইনকে মার্কেটিংয়ের কাজে ব্যবহার করেন। তবে বেশিরভাগ মেয়ে এর দ্বারা টাকা হাতিয়ে নেন। অশ্লীল কথাবার্তা বলে, খোলামেলা করে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দেখিয়ে যেগুলোর প্রতি ছেলেদের চাহিদা বেশি, সেগুলো দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে বলেন। এভাবে টাকা হাতান। এক্ষেত্রে ভুক্তভোগী সবচেয়ে বেশি প্রবাসী বাঙালি ছেলেরা।

তাই আমি মনে করি, ফেসবুক ব্যবহারে সচেতনতা সৃষ্টি বিষয়ক সেমিনার হওয়া জরুরি, যাতে শেখানো হবে ফেসবুকে কী করা উচিত এবং কী করা উচিত নয়। আর মানসিক বিকারগ্রস্ত ছেলেমেয়েদের ফেসবুক ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখার ব্যবস্থা করা উচিত। সবচেয়ে যেটা জরুরি সেটি হলো, ফেসবুকে কেউ অশোভন আচরণ করলে তার প্রতি আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মতো ফেসবুকে ভেজালকারীদের জরিমানা ও শ্রীঘরে পোরার ব্যবস্থা করা। পাশাপাশি বিয়ের বয়সসীমার মতো নির্দিষ্ট করে দেওয়া যে, কত বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত কেউ ফেসবুক ব্যবহার করতে পারবে না। শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ফেসবুক ব্যবহার নিয়ন্ত্রিত হওয়া দরকার। নইলে মেধাহীন, হতাশাগ্রস্ত, বিকারগ্রস্ত, আত্মহত্যাপ্রবণ, ধর্ষক, ধর্ষিতা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ছাড়া আমরা আর কিছু পাব না।

 

লেখক : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads