• সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৫
ads

ফিচার

বায়ুদূষণ

সবুজ প্রকৃতি নিশ্চিতে কাজ করুন

  • সাঈদ চৌধুরী
  • প্রকাশিত ২৫ এপ্রিল ২০১৯

বাজারে শ্বাসকষ্টজনিত রোগের ওষুধ বিক্রির হারের ওপরও বোঝা যায় আমাদের বায়ুদূষণের অবস্থা। বাতাস দূষিত হওয়ার নির্দিষ্ট মাত্রাকে এখন আর সামনে আনার প্রয়োজনীয়তাই নেই; কারণ কিছু রাস্তা এমন আছে যেখানে বাতাসে ভারী পার্টিকেল সব ধরনের স্ট্যান্ডার্ডকে অতিক্রম করতে পারবে। ধোঁয়ার অবস্থাও খুব আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। কয়েকদিন আগে একটি পত্রিকার তথ্যে জানানো হয়েছিল, দেশের আটানব্বই শতাংশ ইটভাটাই পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলা হয়নি। এর সঙ্গে রয়েছে গাড়ি থেকে নির্গত ধোঁয়া, মিল ফ্যাক্টরি থেকে নির্গত ধোঁয়া, কেমিক্যাল ফ্যাক্টরি থেকে বর্জ্য পানি যেখান থেকে অবমুক্ত হওয়া সালফারের গন্ধমিশ্রিত বাতাস, বিভিন্ন যানবাহন ও আবাস, অফিস থেকে এসির নির্গত গ্যাস, মোবাইল টাওয়ারের তরঙ্গ, পোল্ট্রি ও ট্যানারি শিল্প এবং আবর্জনার ভাগাড় থেকে অবমুক্ত এমোনিয়ার দুর্গন্ধ সব উপাদান মিলে বাতাস আজ নিঃশ্বাসের অনুপযোগী প্রায়। যেগুলোর নাম এসেছে, এর বাইরেও বায়ুদূষক রয়েছে এবং সেগুলোও মারাত্মক ঝুঁকির কারণ।

বিশ্বব্যাপী বায়ুদূষণ নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা দ্য স্টেট অব গ্লোবাল এয়ার-২০১৯ (এসওজিএ) শীর্ষক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ বায়ুদূষণজনিত মৃত্যুহারের দিক থেকে পৃথিবীতে পঞ্চম! অনেক বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে সামনের দিনগুলোতে। তবে দুঃখজনক ব্যাপার হলো, আমরা এখনো খুব বেশি অসচেতন। সামান্য রাস্তায় ধুলোজনিত যে পার্টিকেলগুলো বাড়ছে তা রাস্তা সঠিকভাবে পরিষ্কার না করার কারণেই। অনেক সময়ই দেখা, যারা রাস্তা পরিষ্কার করছে, তারা রাস্তার ডিভাইডার ঘেঁষে ধুলোগুলো রেখে চলে যাচ্ছে। এর ফলে কিছুক্ষণ পর রাস্তার ধুলো রাস্তায়ই ফিরে আসছে।

এখানে দায়িত্বটি আসলে কার? সিটি করপোরেশনের অনেক কাজ করার আছে এ ধরনের ছোট ছোট বিষয়গুলোতে। কারণ এ ছোট বিষয়গুলোই বড় সমস্যা হয়ে সামনে দাঁড়াচ্ছে। রাস্তা মেরামত দীর্ঘস্থায়ী হওয়াতেও এর প্রভাব পড়ছে। মূলত রাস্তার ধুলোর জন্য বায়ুদূষণের হার অনেক বেশি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে চলাচলকারী শিশুদের ওপর, নারীদের ওপর ও বয়স্ক মানুষের ওপর।

উন্নত বিশ্বের মতো স্ট্যাক ইমিশন কমিয়ে আনার জন্য মেশিন সঠিকভাবে মেইনটেন্যান্স করা, সঠিক উচ্চতায় চুল্লী স্থাপন করা, কিছু কিছু ক্ষেত্রে ফিল্টারিং সিস্টেম করা হয়ে থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে অনেক কোম্পানির এগজস্ট বের করার জন্য যে চিমনি তা সরাসরি রাস্তা অভিমুখে দেওয়া। যখন বিদ্যুৎ যাচ্ছে এবং জেনারেটর চালু হচ্ছে, তখনই কালো ধোঁয়ায় ভরে যাচ্ছে রাস্তা! এগুলো শিল্পায়নের কোনো নিয়ম হতে পারে না। গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে ময়মনসিংহগামী মহাসড়কেই দেখা যাবে এমনটা। আঞ্চলিক সড়কে তো কথাই নেই! নির্দিষ্ট উচ্চতার চিমনি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা খুব প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসিগুলোতে সিএফসি ফ্রি গ্যাস ব্যবহারের কথা জানে কতজন মানুষ! এসি চলছে, ঠান্ডা হচ্ছে তাতেই যেন শান্তি। কিন্তু আমি পরিবেশের কী ক্ষতি করছি, এ ব্যাপারে কোনো মাথাব্যথা নেই। এ বিষয়গুলো সামনের দিনগুলোতে ভাবতে হবেই।

বায়ুদূষণের কথা চিন্তা করেই ইটভাটাগুলোকে সম্পূর্ণ নিয়মের মধ্যে আনতে হবে। এখানে বড় বাধা হলো পরিকল্পনা। ইটভাটাগুলোকে নিয়মের মধ্যে আনার জন্য প্রয়োজন তদারকি ও কোম্পানিগুলোকে সরকারের পরিকল্পনা গ্রহণে সহায়তা করা। কখনো কখনো ঋণদানও বড় বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। আধুনিক ইটভাটায় কোম্পানিগুলোকে নিতে সরকার অর্থনৈতিক সুবিধা প্রদানের জন্য কোম্পানি ও ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বসতে পারে। যদি সরকার থেকে এ ধরনের সহায়তার কথা বলা হয়, তাহলে ইটভাটার মালিকরাও এগিয়ে আসবে এই সমস্যাটির সমাধানে।

রাস্তার বায়ুদূষণ কমানোর ক্ষেত্রে কোনো উদ্যোগই তেমন পরিলক্ষিত হয় না, যেটা প্রবন্ধের শুরুতেই আলোচনা করা হয়েছে। রাস্তা ধূলিমুক্ত করার জন্য যেমন প্রয়োজন ধুলোবালি একেবারে সরিয়ে নেওয়া, তেমনি প্রয়োজন রাস্তার ধার ঘেঁষে সঠিক ফুটপাতের ব্যবস্থা করা এবং ফুটপাতের বাকি অংশে ঘাস লাগানো। বায়ুদূষণ বন্ধে বৃক্ষরোপণেও আরো মনোযোগী হতে হবে। এমন কিছু বৃক্ষ আছে যেসব বৃক্ষে পরিবেশের ওপর প্রভাব তেমন ভালো নয়। সতেজ অক্সিজেন প্রদান করে এমন বৃক্ষ বেশি রোপণ করতে হবে। শহরের বায়ুকে সতেজ করার জন্য বিশেষ করে ঢাকার বায়ুকে দূষণমুক্ত রাখার জন্য পাশের অঞ্চলের বনভূমিগুলোকে রক্ষাও বড় প্রয়োজন বলে মনে করি। যদি বনভূমি বাঁচানো না যায়, তাহলে বাতাসকে দূষণমুক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়বে।

আইনকেও যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। যারা জেনারেটর ব্যবহার করছেন, তার চিমনি যদি সঠিক উচ্চতায় না দিয়ে থাকেন তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এসিগুলোর গ্যাস ব্যবহারে সঠিক মানের গ্যাস ব্যবহার, ময়লার ভাগাড় সরিয়ে নিয়ে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনসহ বড় বড় কিছু পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে। একদিকে দূষণ অন্যদিকে অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যাওয়া-সব মিলিয়ে আমরা পতিত হচ্ছি সর্দিজ্বরের কারণে মৃত্যুবরণ করার হুমকির দিকে! তাই এখনই ভাবুন দূষণ কমানো নিয়ে আর সবুজ প্রকৃতি নিশ্চিতে কাজ করুন একাগ্রচিত্তে।

 

লেখক : সদস্য, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি

শ্রীপুর, গাজীপুর

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads