• বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৫
ads

ফিচার

কবি বীরেন মুখার্জীর ৫০ বছর উদযাপন

  • শুদ্ধ কল্যাণ
  • প্রকাশিত ১৮ মে ২০১৯

নব্বইয়ের অন্যতম কবি ও চলচ্চিত্র নির্মাতা বীরেন মুখার্জীর ৫০তম জন্মবার্ষিকী পূর্তি উপলক্ষে সম্প্রতি রাজধানীর ‘কবিতা ক্যাফে’তে অনুষ্ঠিত হলো ‘আনন্দ আয়োজন’। অনুষ্ঠানে কবি বীরেন মুখার্জীর কবিতা নিয়ে আলোচনা, পাঠোন্মোচন, কবিতাপাঠ ও কবি নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ঘোর’ প্রদর্শিত হয়। কবি মতিন বৈরাগীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আনন্দ আয়োজনে কবি গোলাম কিবরিয়া পিনু, কবি আলোময় বিশ্বাস, কবি তপন বাগচী, কবি হাসান মাহমুদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সুজিত কুমার দে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে স্বাগত বক্তব্য দেন ‘পটভূমি’ সম্পাদক সুমন ইসলাম। এরপর আমন্ত্রিত অতিথিরা ‘বীরেন মুখার্জী : দীপ্তিমান ৫০’ শীর্ষক ‘পটভূমি’র বিশেষ সংখ্যার পাঠোন্মোচন করেন এবং বীরেন মুখার্জীর কবিতা ও ব্যক্তি বীরেন মুখার্জীর সৃজনশীলতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোকপাত করেন বক্তারা। আলোচনায় কবি ও গবেষক গোলাম কিবরিয়া পিনু বলেন, বীরেন মুখার্জী কবিতায় নিরলস এবং পরিশ্রমী। তার অন্যান্য সৃজনশীল কর্মকাণ্ড সম্পর্কেও আমরা পরিচিত। তিনি নিভৃতেই এতদূর হেঁটে এসেছেন। তার কবিতা বাংলা সাহিত্যের পরম্পরা হয়ে উঠেছে। কবি-সম্পাদক আলোময় বিশ্বাস বলেন, বীরেন মুখার্জী বয়সে ছোট হলেও তাকে আমি ‘দাদা’ সম্বোধন করি। তার কবিতা আমাকে বিশেষভাবে টানে। কবিতার মধ্য দিয়েই তার সঙ্গে আমার পরিচয় এবং ঘনিষ্ঠতা। বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সুজিত কুমার দে বলেন, বীরেন মুখার্জী আমার অল্পদিনের পরিচিত হলেও তার নমনীয়তা এবং শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি সম্পর্কে তার অগাধ টান ও কর্মকা্ল আমার ভালো লাগে। আমি তার ভালো কাজের সঙ্গী হতে পেরে আনন্দিত। কবি-প্রযোজক ও ‘সাহিত্য দিগন্ত’ সম্পাদক জায়েদ হোসাইন লাকীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বীরেন মুখার্জীকে পঞ্চাশতম বর্ষপূর্তির শুভেচ্ছা জানিয়ে কবিতা পাঠ করেন কবি ত্রিশাখ জলদাস, নাহিদা আশরাফী, মাহবুব মিত্র, আবৃত্তিশিল্পী ফারজানা ইসলামসহ আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ডা. পলাশ বসু, যুগ্ম আহ্বায়ক অনু ইসলাম ও আজাদ মণ্ডল।

দ্বিতীয় পর্বে কবির সাহিত্যকর্মের মূল্যায়ন করতে গিয়ে কবি-গবেষক ও গীতিকার তপন বাগচী বলেন, বীরেন মুখার্জী কবিতায় যেমন ছন্দ সচেতন তেমনিভাবে আধুনিক। তার নতুন শব্দ নির্মাণের ঝোঁক অত্যন্ত প্রবল। ব্যক্তিগতভাবেও তিনি সৎ ও কর্মঠ। তার সম্পাদিত ছোটকাগজ ‘দৃষ্টি’ আমার বক্তব্যের সপক্ষে সবচেয়ে বড় প্রমাণ। সম্প্রতি তিনি ‘ঘোর’ নামে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন, যা কলকাতায় অনুষ্ঠিত সেকেন্ড সাউথ এশিয়ান শর্টফিল্ম উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে। এটি আমাদের জন্য গৌরবের।

সভাপতির বক্তব্যে কবি-গবেষক মতিন বৈরাগী বলেন, স্বতঃপ্রণোদিত হয়েই আমি বীরেন মুখার্জীর কবিতা নিয়ে আলোচনা করেছি। কেননা, তাকে আমার সত্যিকারের কবি মনে হয়েছে। একজন প্রকৃত কবির যেসব বৈশিষ্ট্য, বিশেষ করে কবিতার শক্তি থাকতে হয়। বীরেন মুখার্জীর কবিতায় সেই অন্তর্নিহিত শক্তি রয়েছে। তার কবিতা আধুনিক, তিনি ছন্দ সচেতন এবং নতুনত্বের প্রত্যাশী। পুঁজিবাদের থাবা থেকে নিজেকে মুক্ত রেখেই বীরেন মুখার্জী কবিতা চর্চা অব্যাহত রেখেছেন। এটা তার একটি বড় গুণ।

পরিশেষে বীরেন মুখার্জী তার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, একজন কবির জীবনে মানুষের ভালোবাসা ছাড়া আর কিছু পাওয়ার নেই। ‘আনন্দ আয়োজন’-এর আয়োজক কমিটি, পটভূমি পরিবার ও উপস্থিত কবি-সাহিত্যিক, শুভাকাঙ্ক্ষীদের তিনি কৃতজ্ঞতা জানান। আনন্দ আয়োজনের শেষ পর্বে বীরেন মুখার্জী নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ঘোর-দ্য ইনটেন্স অব লাইফ’ প্রদর্শিত হয়। 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads