• বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯, ৬ আষাঢ় ১৪২৫
ads
প্রধানমন্ত্রীকে দেখাই শেষ ইচ্ছা ভাষা সৈনিক আজিমের

ছবি : বাংলাদেশের খবর

ফিচার

প্রধানমন্ত্রীকে দেখাই শেষ ইচ্ছা ভাষা সৈনিক আজিমের

  • নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১১ জুন ২০১৯

মানুষ এর নানান রকম ইচ্ছা থাকে । একজন ভাষা সৈনিক নাম মোঃ আজিম উদ্দিন আহমেদ । নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলায় তার বাড়ি। প্রায় নব্বই বছর বয়সে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে শেষ ইচ্ছা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেখতে চান। তিনি আওয়ামী লীগ এর রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে অনেকের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি কিন্তু এখনো পর্যন্ত সম্ভব হয় নি। এই আবেগের টানে ভাষা সৈনিক এর দৌহিত্র আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রচার সম্পাদক ও ছাত্রলীগ সক্রিয় কর্মী মোঃ জোনায়েদ আনসারী প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি খোলা চিঠি লিখেছেন। দৈনিক বাংলাদেশের খবর এর পাঠকদের জন্যে খোলা চিঠিটি হুবহু দেওয়া হলো।

বরাবর

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

বিষয়ঃ একজন ভাষা সৈনিকের জীবনের শেষ ইচ্ছা পূরণ প্রসঙ্গে ।

দেশরত্ন,

প্রবীণ রাজনীতিবিদ মো আজিম উদ্দিন আহমেদ, পিতা মরহুম শেখ শমসের আলী, মাতাঃ তাহমিনা রতিজন, গ্রাম জারিয়া নাটেরকোনা, থানাঃ পূর্বধলা, জেলাঃ নেত্রকোনা, ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনে আজীবন ছাত্রত্ব হারানো ভাষা সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, সংগ্রাম পরিষদের চেয়ারম্যান,নেত্রকোনা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি। ভাষা আন্দোলনের সময় তিনি নবম শ্রেনীর ছাত্র, মাতৃভাষা বিসর্জন দিয়ে অন্য ভাষাকে মুখের বুলি করতে রাজি ছিলেন না। আঞ্জুমান আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সাহিত্য আসরে, সরকারকে ব্যাঙ্গ করে স্বরচিত হে বিলাসী ও আজব ভূড়ি, এই দুটি কবিতা পাঠ করলে তার নামে হুলিয়া জারি হয়, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে আজীবনের জন্য বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করেন। মেধাবী ছাত্রটির জন্য শেরে বাংলা, সোহরাওয়ার্দী, ভাসানী ও বঙ্গবন্ধু বারবার তদবির করেন, তার ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দিতে অনুরোধ করেন। কিন্তু ভাগ্যে আর বিদ্যালয়ে যাওয়া নেই তার।

১৯৭০ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নির্বাচনী সফরে নেত্রকোনা এলে খুব সহজেই চিনে নেন আজিম উদ্দিন কে, তাইতো ভালোবেসে কাছে রেখেছিলেন আর বলেছিলেন জীবনে অনেক বড় হবি নীতি বিবর্জিত কাজে কখনো আপোষ করবিনা।

২০১৪ সালে নেত্রকোনায় আঞ্জুমান আদর্শ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০০ বছর পূর্তিতে, জেলা প্রশাসক তরুন কান্তি সিকদার, ক্রীড়া উপ-মন্ত্রী আরিফ খান জয় এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের উপস্থিতিতে উনার বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করা হয় ।

সাদা মনের সরল মানুষ টি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের গান গেয়ে গেছেন সারাটি জীবন, আওয়ামী লীগের দুঃর্দিনে নির্যাতন সহ্য করেও দলের জন্য লড়ে গেছেন । স্বার্থান্বেষী লোভীদের মতন টাকার পাহাড় গড়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও নীতি বিবর্জিত কাজে দলের বদনাম ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পরিপন্থী কাজ হবে বলে নিজেকে সব সময় বিতর্কের উর্ধ্বে রেখেছেন । ৬ ছেলে ও ৩ মেয়ের জনক আজিম উদ্দিন প্রতিটি সন্তানকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন । ৯০ বছর উর্ধ্ব মানুষ টি আজ পাগল প্রায় হন্যে হয়ে ঘুরছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করবেন বলে, প্রিয় নেতার সন্তানকে এক নজর দেখে দুটি কথা বলবেন বলে। হন্যে হয়ে ঘুরেছেন অনেকের কাছে আশ্বাস মিলেছে কিন্তু দেখা মেলেনি প্রিয় নেত্রীর, জীবনের শেষ অধ্যায়ে একজন ভাষা সৈনিক তার ইচ্ছে টা পূরণ করতে পারবে বলে এলাকাবাসীর কামনা।

প্রাণ প্রিয় নেত্রী একজন ভাষা সৈনিক ও দলের ত্যাগী কর্মীর শেষ ইচ্ছা পূরণ হবে... আমরা জানি আপনি জনমানুষের প্রাণ, আর ত্যাগী কর্মীরা আপনার প্রাণ।

 

জয় বাংলা

জয় বঙ্গবন্ধু

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads