• বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬
ads
প্রাচ্যের ডান্ডি ও বাংলার প্রাচীন রাজধানী

সংগৃহীত ছবি

ফিচার

ইতিহাসের অক্ষয় সাক্ষী

প্রাচ্যের ডান্ডি ও বাংলার প্রাচীন রাজধানী

  • এস এম মুকুল
  • প্রকাশিত ৩০ জুলাই ২০১৯

বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নদী-বন্দর, প্রাচ্যের ডান্ডি এবং বাংলার প্রাচীন একটি রাজধানী যে বিশেষণেই অভিহিত করা হোক- মূলত এসব ঐতিহাসিক আভিজাত্যের ওপর ইতিহাসের অক্ষয় সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে যে জেলাটি, তার নাম নারায়ণগঞ্জ। শুধু ইতিহাস নয়- অর্থনৈতিক দিক দিয়েও নারায়ণগঞ্জ একটি প্রাচীন সমৃদ্ধ জেলা। তবে অর্থনৈতিক তৎপরতার কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার কারণে এই জেলাটি সবসময় থাকে আলোচনামুখর। দৈনিক বাংলাদেশের খবরের প্রতি সপ্তাহের নিয়মিত ফিচার জেলা পরিক্রমায় এবারের আয়োজন দেশের প্রাচীন সমৃদ্ধ জেলা নারায়ণগঞ্জ নিয়ে।

‘প্রাচ্যের ডান্ডি’ বলে পরিচিত এ জেলা রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ১৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এর উত্তরে নরসিংদী ও ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলা, পূর্বে কুমিল্লা, পশ্চিমে ঢাকা জেলা এবং দক্ষিণে মুন্সীগঞ্জ জেলা। নারায়ণগঞ্জের মধ্য দিয়ে শীতলক্ষ্যা নদী প্রবাহিত হয়েছে। পূর্ব সীমানা দিয়ে মেঘনা নদী, পশ্চিম সীমানার কিছু অঞ্চল দিয়ে বুড়িগঙ্গা এবং দক্ষিণ-পশ্চিম সীমানায় ধলেশ্বরী নদী প্রবাহিত হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ ১৯৪৭ সালে মহকুমায় এবং ১৯৮৪ সালে জেলায় উন্নীত হয়।

বাণিজ্যের সূতিকাগার-প্রাচ্যের ডান্ডি

নারায়ণগঞ্জ জেলা বাংলাদেশের অত্যন্ত প্রাচীন এবং প্রসিদ্ধ অঞ্চল। নারায়ণগঞ্জ পাটশিল্পের জন্য বিখ্যাত ছিল। বিশ্বের সবচেয়ে বড় পাটকল আদমজী পাটকলটির অবস্থান ছিল এই জেলায়। ঐতিহাসিক এই আদমজী পাটকল বন্ধ করে এখানে ইপিজেড গড়ে তোলা হয়েছে। এই জেলাটি সোনালি আঁশ পাটের জন্য প্রাচ্যের ড্যান্ডি নামে পরিচিত। রপ্তানি শিল্পে পাট যখন বাংলাদেশের প্রধানতম পণ্য, তখন নারায়ণগঞ্জ ‘প্রাচ্যের ডান্ডি’ নামে খ্যাত থাকলেও বর্তমানে নিট গার্মেন্ট ও হোসিয়ারি শিল্পের জন্য সুপরিচিত। নিটওয়্যার রপ্তানিকারকদের সংগঠন ‘বিকেএমইএ’ ও হোসিয়ারি শিল্প উদ্যোক্তাদের প্রধান কার্যালয় ‘হোসিয়ারি সমিতি’ নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত। শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে অবস্থিত একটি বিখ্যাত নদীবন্দর। পাট ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশন বা বিজেএ’র প্রধান কার্যালয় নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত। দেশের প্রধান নদীবন্দর নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত যা শতবছরের পুরনো। সবচেয়ে বড় সারের পাইকারি বাজার নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত। দেশের প্রধানতম লবণ কারখানা ও নির্মাণ সামগ্রীর পাইকারি বাজারের জন্য ফতুল্লা বিখ্যাত। ফতুল্লা এনায়েতনগর এলাকায় অবস্থিত বিসিক শিল্পনগরীতে প্রয় ৭০০ গার্মেন্টস আছে। সারা নারায়ণগঞ্জ শহরে প্রায় ১ হাজার রপ্তানিমুখী গার্মেন্ট আছে। এগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই নিট গার্মেন্টস। দেশের প্রধানতম সিমেন্ট কারখানাগুলো সোনারগাঁ উপজেলার মেঘনা নদীর তীরজুড়ে গড়ে উঠেছে। এছাড়া লবণ, গম, আটা ও ময়দা পাইকারি ব্যবসা ক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জ উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।

বাংলার প্রাচীন রাজধানী

সোনারগাঁ বাংলাদেশের ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল প্রাচীন জনপদ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যবেষ্টিত সোনারগাঁ বাংলার প্রাচীন একটি রাজধানী। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি উপজেলা সোনারগাঁ। সোনারগাঁর প্রাচীন নাম ছিল সুবর্ণগ্রাম। ১৩শ’ শতকে রাজা দানুযম দেব দশরথ দেব তার রাজধানী বিক্রমপুর থেকে সোনারগাঁয়ে নিয়ে আসেন। ১৪শ’ শতকের মাঝামাঝি সময়ে সুলতান শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহ সোনারগাঁ অঞ্চল অধিকার করেন। সুলতান ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ ছিলেন বাংলার স্বাধীন সুলতান, সোনারগাঁ ছিল তার রাজধানী। বাংলার বারোভুঁইয়ার অন্যতম ঈশা খাঁর রাজধানী ছিল এই সোনারগাঁ। এই সোনারগাঁয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সোনালি অতীতের এক সুবর্ণ অধ্যায়ের উল্লেখযোগ্য স্মৃতি। সোনারগাঁয়ের নামকরণে মতভেদ রয়েছে। গবেষকদের মতে, সোনারগাঁয়ের প্রাচীন নাম ছিল সুবর্ণবীথি বা সুবর্ণগ্রাম। এই সুবর্ণগ্রাম থেকেই মুসলিম আমলের সোনারগাঁও নামের উদ্ভব। প্রবাদ আছে, মহারাজ জয়ধ্বজের সময় এ অঞ্চলে সুবর্ণবৃষ্টি হয়ছিল বলে এ স্থান সুবর্ণগ্রাম নামে পরিচিতি লাভ করে। কেউ কেউ বলেন, বারোভুঁইয়া প্রধান ঈশা খাঁর স্ত্রী সোনাবিবির নামানুসারে এর নাম হয়েছে সোনারগাঁও। সোনারগাঁ মধ্যযুগে ছিল মুসলিম সুলতানদের রাজধানী। বর্তমানে সোনারগাঁ নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা। সোনারগাঁ উপজেলার বর্তমান আয়তন ১১৭.৬৬ বর্গ কিলোমিটার এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা সদর থেকে এটি প্রায় ২১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এখানে সুলতানী আমল ও মোগল আমলের বেশ কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রয়েছে। এ অঞ্চলের চারু ও কারুশিল্প এবং বস্ত্র বয়ন শিল্প সারা ভারতীয় উপমহাদেশে বিখ্যাত ছিল।

রাজধানী ঢাকা থেকে ২৫ কিলোমিটার পূর্বদিকে সবুজের সমারোহ আর বনানীর শ্যামলিমায় মনোরম স্থাপত্যশৈলী এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ছায়া-ডাকা, পাখি-ডাকা, হূদয়-ছোঁয়া নৈসর্গিক পরিবেশ পর্যটকদের মন কেড়ে নেয় সোনারগাঁ। এখানে লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের বিশাল চত্বরে রয়েছে বেশ কয়েকটি পিকনিক স্পট। কেননা এখানে রয়েছে গ্রাম বাংলার ঐতিহাসিক নানান সব স্মৃতি। এগুলো হলো লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন জাদুঘর, ঐতিহাসিক পানাম নগর, গোয়ালদী মসজিদ, গিয়াস উদ্দিন আযম শাহের মাজার ছাড়াও আরো অনেক ঐতিহাসিক স্থান। বিশেষ করে পিকনিক স্পটে শীতকালে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার দর্শনার্থী এখানে ভ্রমণে আসে। প্রাচীন রাজধানী সোনারগায়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা নিতে চাইলে যে কেউ পারবেন খুব অল্প সময়ের মধ্যে। নদী-নালা, খাল-বিল পরিবেষ্টিত এবং অসংখ্য গাছপালা সবুজের সমারোহ আপনাকে সহজেই আকৃষ্ট করবে। ঈশা খাঁর বাড়িটি অসাধারণ স্থাপত্যশৈলীর আর মধ্যযুগে পানাম নগরী আপনাকে কিছুক্ষণের জন্য হলেও ভুলিয়ে দেবে আপনার ব্যস্ততা, দুঃখ, আর গ্লানিকে।

বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ : জামদানি

রঙ-বেরঙের সুতা আর প্রধানত প্রকৃতিনির্ভর গ্রামীণ নকশায় কারুশিল্পীদের সুনিপুণ হাতে নান্দনিক রূপ ও বৈচিত্র্যের এক অনবদ্য সৃষ্টি জামদানি। অতি সাধারণ উপাদানে আমাদের কারুশিল্পীদের মনের মাধুরী মেশানো রঙের বহুবিধ ব্যবহার ও কারুকাজের সমন্বয় ঘটছে জামদানি তৈরিতে। জামদানি শাড়ি অতীত বাংলার মসলিনের গৌরবদীপ্তের আংশিক রেশ নিয়ে আজো অনন্য। একান্তভাবে দেশীয় যন্ত্রপাতি ও কাঁচামালের ব্যবহারে শিল্পীদের মৌলিক শিল্পবোধ ও ধ্যান-ধারণায় সৃষ্টি এই জামদানি। সবচেয়ে বড় কথা, আজ পর্যন্ত পৃথিবীর আর কোনো দেশের কারিগরদের পক্ষে জামদানি তৈরি সম্ভব হয়নি। জামদানি প্রাচীনকালে তাঁত বুনন প্রক্রিয়ায় কার্পাস তুলার সুতা দিয়ে মসলিন নামে সূক্ষ্ম বস্ত্র তৈরি হতো এবং মসলিনের ওপর যে জ্যামিতিক নকশাদার বা বুটিদার বস্ত্র বোনা হতো তারই নাম জামদানি। জামদানি বলতে সাধারণত শাড়ি বোঝানো হলেও প্রকৃতপক্ষে ঐতিহ্যবাহী নকশায় সমৃদ্ধ ওড়না, কুর্তা, পাগড়ি, ঘাগরা, রুমাল, পর্দা, টেবিল ক্লথ সবই জামদানির আওতায় পড়ে। সপ্তদশ শতাব্দীতে জামদানি নকশার কুর্তা ও শেরওয়ানির ব্যবহার ছিল। মোগল আমলের শেষের দিকে নেপালে ব্যবহূত আঞ্চলিক পোশাক রাঙ্গার জন্য বিশেষ ধরনের জামদানি কাপড় তৈরি হতো। কালের আবর্তে আমাদের অনেক কিছু হারিয়ে গেলেও ঐতিহ্যবাহী মসলিনের উত্তরাধিকার জামদানি শিল্প স্বকীয়তার মাঝে আজো বিকশিত হচ্ছে। এখন দেশের বাজারে জামদানি পণ্যের চাহিদা ক্রমেই বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশ্ববাজারে জামদানি পণ্যের চাহিদা ক্রমেই বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশ্ববাজারও প্রসারিত হচ্ছে। এ পণ্যের আলাদা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এর শিল্পীরা সারা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে নেই। আদিকাল থেকেই রাজধানী ঢাকা থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে নারায়ণগঞ্জ জেলাধীন রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো ইউনিয়নের বেশ কিছু গ্রাম, সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার কিছু এলাকায় জামদানি কারুশিল্পীদের বংশানুক্রমিক বসবাস।

রূপগঞ্জের জামদানি পল্লি

ঢাকার অদূরে রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো ইউনিয়নের ১৪টি গ্রাম ও সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়নের ১টি গ্রাম মোট ১৫টি গ্রামে মূলত জামদানি শিল্প কেন্দ্রীভূত। গ্রামগুলো হলো : নোয়াপাড়া, দক্ষিণ রূপসী, রূপসী কাজীপাড়া, গন্দবপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ, মুগুরাকুল, খিদিরপুর, ইমকলী, তারাবো, খালপাড়া, দিঘবরার, খাদুন, পবনকুল ও সুলতানবাগ। তাছাড়া গঙ্গানগর, কাহিনা, মীরগদাই, মাহিমপুর, হরিণা নদীর পাড়, মীরকুটিরছেও ও সোনারগাঁয়ের কিছু কিছু এলাকায় জামদানি তৈরি হয়। বর্তমানে বোয়ালমারী উপজেলায় উন্নতমানের জামদানি পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে। ১৯৮২ সাল থেকে জামদানি শিল্পকে আরো উন্নত ও মুনাফামুখী করার জন্য ইধহমষধফবংয ঝসধষষ ওহফঁংঃৎরবং ঈড়ৎঢ়ড়ৎধঃরড়হ (ইঝওঈ) নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করে।

জামদানি শিল্প বিকাশের জন্য ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ সরকার এ খাতের কারুশিল্পীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দানের নিমিত্তে অবকাঠামোগত সুবিধাদি প্রদান, জামদানি উদ্যোক্তাদের পুনর্বাসন, দক্ষ জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন, কারুশিল্পীদের অন্য পেশায় চলে যাওয়া রোধ, নতুন প্রজন্মের কারুশিল্পীদের উৎসাহ প্রদান, বাজার চাহিদা অনুযায়ী নকশা ও নমুনা সরবরাহ করা, লাগসই প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে জামদানি পণ্যের গুণগতমান ও উৎকর্ষতা বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও বিপণনের সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে জামদানি শিল্পনগরী ও গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের জন্য বিসিককে দায়িত্ব প্রদান করে। সে প্রেক্ষিতে বিসিক জুলাই ১৯৯৩ থেকে জুন ১৯৯৯ মেয়াদে ৫৮৫.৬৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো ইউনিয়নের নোয়াপাড়া গ্রামে জামদানি শিল্পনগরী ও গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করে। জামদানি শিল্পনগরীর বর্তমান অবস্থা (২০১০) মোট জমির পরিমাণ ২০ একর তার মধ্যে শিল্প প্লটের জন্য জমির পরিমাণ ১৪.৩৯ একর, অফিস ও অন্যান্য কাজে ব্যবহূত জমির পরিমাণ ৫.৬১ একর, মোট প্লট সংখ্যা ৪১২টি (প্রতিটি ১২০০ থেকে ২০০০ বর্গফুট বিশিষ্ট), মোট বরাদ্দপ্রাপ্ত প্লট ৩৯৯টি, উৎপাদনরত শিল্প ইউনিট ৯০টি, নির্মাণাধীন শিল্প ইউনিট ১০৪টি এবং নির্মাণের অপেক্ষায় শিল্প ইউনিট ৬০টি।

অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়বে জাপানের সুমিতোমো

বিদেশি বিনিয়োগের বিপুল সম্ভাবনা নিয়ে নারায়ণগঞ্জের আড়াই হাজার উপজেলায় প্রস্তাবিত ‘জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ চূড়ান্ত ধাপে উন্নীত হয়েছে। প্রায় এক হাজার একর জমির ওপর জিটুজি ভিত্তিতে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় জাপানিজ কোম্পানি সুমিতোমো করপোরেশনের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ-বেজা। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২২ সালের মধ্যে এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন শুরুর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ, ভূমি উন্নয়ন, সংযোগ সড়ক নির্মাণ, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ স্থাপনসহ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা। ইতোমধ্যেই এই প্রকল্পের জন্য ৫০০ একর জমির অধিগ্রহণ চূড়ান্ত হয়েছে। বেজা আশা করছে, অর্থনৈতিক অঞ্চল চালু হলে সেখানে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের জাপানি বিনিয়োগ আসবে। এর ফলে দক্ষ জনশক্তি তৈরি হওয়ার পাশাপাশি জাপানের অনেক প্রযুক্তিবিদ্যা আসবে বাংলাদেশে। জাপানের সুপরিচিত প্রতিষ্ঠান সুমিতোমো ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমারে এ ধরনের প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন করেছে। বাংলাদেশেও রয়েছে জাপানের ২৫০টির বেশি কোম্পানির কার্যক্রম। নতুন করে সুমিতোমো অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় যুক্ত হলে দেশে জাপানি বিনিয়োগে বড় ধরনের অগ্রগতি হবে বলে মনে করছে বেজা।

কারাগারে প্রথম তৈরি পোশাক কারখানা

নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের ভেতরে একটি তৈরি পোশাক কারখানা স্থাপন করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশে কারাগারের ভেতরে বন্দিদের নিয়ে এমন একটি রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানা এটিই প্রথম। এই পোশাক কারখানায় কাজ করার জন্য প্রায় তিনশ বন্দিকে কাপড় সেলাই করার প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে এবং তাদের তৈরি পোশাক খোলা বাজারে বিক্রি করা হবে বলেও ঠিক হয়েছে। জানা গেছে, এজন্য বন্দিদের বেতনও দেওয়া হবে এবং সেই উপার্জিত অর্থ তারা বাইরে পরিবারের কাছে পাঠাতে পারবেন, অথবা চাইলে কারাবাসের মেয়াদ শেষে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পুরো টাকা তুলে নিতে পারবেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads