• রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ads
চিত্রকলা অনেক স্বাধীন, অনেকটাই বিস্তৃত

ছবি : সংগৃহীত

ফিচার

চিত্রকলা অনেক স্বাধীন, অনেকটাই বিস্তৃত

  • সালেহীন বাবু
  • প্রকাশিত ০৩ আগস্ট ২০১৯

মুস্তাফা খালীদ পলাশ। পেশাগতভাবে একজন নামকরা স্থপতি হলেও তিনি একাধারে চিত্রশিল্পী, রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী ও সেতারাবাদক। এ ছাড়াও তিনি নিজ উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধা, অসহায় মানুষের জন্য গড়ে তুলেছেন ‘ডেলভিস্তা ফাউন্ডেশন’। সম্প্রতি তার ঢাকা গ্যালারিতে চলছে বাংলাদেশের প্রথিতযশা মোট ২৬ জন চিত্রশিল্পীর ৪৮টি চিত্রকর্ম নিয়ে প্রদর্শনী। ছোটবেলা থেকেই চারুকলায় পড়ার ইচ্ছে ছিল তার। ১৯৮৮ সালে বুয়েট থেকে স্থাপত্য বিভাগে সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। এর পর কিছুকাল স্থাপত্যচর্চা করার পর ডাক পরে বুয়েটে শিক্ষকতার। সেখানে সহকারী অধ্যাপক থাকাকালে পলাশ ১৯৯৮ সালে শিক্ষকতা চাকরি ইস্তফা দিয়ে পূর্ণকালে পেশাদার স্থপতি হিসেবে গড়ে তোলেন তার প্রতিষ্ঠান ভিস্তারা আর্কিটেক্স।

বর্তমানে বাংলাদেশে যে কয়জন নামি স্থপতি রয়েছেন তাদের মধ্যে খালীদ পলাশ একজন। গ্রামীণফোন ভবন, হোটেল ওয়েস্টিন, চিটাগাং রেডিসন হোটেলসহ বাংলাদেশের প্রথম সারির অনেক ব্যাংকগুলোর স্থপতি তিনি। বর্তমানে কাজ করছেন গুলশানের ২০-এরও অধিক স্থাপত্য নিয়ে।

একজন স্থপতি হয়েও মুস্তাফা খালীদ অনেক বরেণ্য চিত্রশিল্পীদের সঙ্গে কাজ করেছেন। এ পর্যন্ত মোট ৫টি একক চিত্রপ্রদর্শন করেছেন তিনি। প্রথম চিত্রপ্রদর্শনী করেন ক্লাস টেনে পড়ার সময়। সময়টা ছিল ১৯৭৮ সাল। শান্তিনগরে ‘কৃষ্টি ও কল্যাণ সংসদ ভবন’-এর উদ্যোগে সেই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন প্রথিতযশা শিল্পী কামরুল হাসান। ২য় একক প্রদর্শনী করেন ২০০৯ সালে। প্রদর্শনীটি ভাস্কর শিল্পী হামিদুজ্জামানের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘এশিয়াটিক সোসাইটি’ গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত হয়। তৃতীয় একক প্রদর্শনী হয় ২০১১ সালে ‘ঢাকা আর্ট’ সেন্টারে। ২০১৩-তে দুটি একক চিত্রপ্রদর্শনী হয় খালীদ পলাশের। এ ছাড়া দেশ-বিদেশে অনেক গ্রুপ এক্সিবিশনে তিনি অংশগ্রহণ করেন। পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কারও। ২০১৫ সালে সেরা চিত্রশিল্পী হিসেবে ‘শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন’ পুরস্কার লাভ করেন। একজন স্থপতি হয়েও বড় বড় চিত্রশিল্পীদের সঙ্গে কাজ করেছেন এই শিল্পী।

গানের প্রতি আগে থেকেই টান অনুভব করেন খালীদ পলাশ। বিশেষ করে রবীন্দ্রসংগীতের প্রতি অন্যরকম দুর্বলতা। এ পর্যন্ত তার বেশ কয়েকটি একক অ্যালবাম বেরিয়েছে। সম্প্রতি কলকাতার কসমিক হারমোনিক থেকে বের হয়েছে পলাশের একক অ্যালবাম ‘পরান সখা’। এর আগে বের হয় তার গানের অ্যালবাম ‘আঁধারে মিশে গেছে’ ও ‘রবি ও সে’। এ বছর ‘আমারে তুমি’ নামের ডুয়েট অ্যালবাম বের হয়। এখানে তার সঙ্গে ছিলেন তারই সহধর্মিণী শাহ জিয়া ইসলাম অন্তন। সেতার বাজান প্রায় ৪০ বছর ধরে। শুধু সেতার নয়, ৭-৮টি ইনস্ট্রুমেন্ট বাজাতে পারেন তিনি।

গান, যন্ত্রসংগীত, স্থাপত্য, চিত্রকলার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য গড়ে তুলেছেন ‘ডেলভিস্তা ফাউন্ডেশন’। এ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রতি মাসেই চারজন মুক্তিযোদ্ধাদের অনুদানের ব্যবস্থা করা হয়। এ ছাড়াও এ সংগঠন থেকে  এ পর্যন্ত ১০টি বই বের করা হয়েছে। সর্বশেষ বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের বই প্রকাশিত হয়েছে। ফাউন্ডেশন থেকে সুবিধাবঞ্চিত ২৫ জন শিক্ষার্থীর পড়াশোনার খরচ জোগাতে হচ্ছে। এর মধ্যে ভার্সিটিপড়ুয়া ছাত্রছাত্রীরাও আছেন।

লক্ষ করলে দেখা যায়, সর্বক্ষেত্রেই বিচরণ মুস্তাফা খালীদ পলাশের। সর্বক্ষেত্রেই সফল তিনি। কোন মাধ্যমে নিজেকে প্রকাশ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন এমন প্রশ্নের জবাবে পলাশ বলেন, ‘আসলে স্থাপত্য, চিত্রকলা, সংগীত তিনটি তিন ধরনের শিল্প। তবে তাদের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য আছে। স্থাপত্যে স্বাধীনতা প্রকাশের ক্ষমতা সবচেয়ে কম থাকে। গানে আরো কম থাকে। তবে চিত্রকলা অনেক স্বাধীন। অনেকটাই বিস্তৃত। বলতে গলে স্থাপত্য এক ধরনের ফরমায়েশি ও পরাধীন শিল্প। এটি এক ধরনের হিমায়িত সংগীত। গানে স্বাধীনতা কম এই অর্থে আপনি আপনার ইচ্ছেমতো গান গাইতে পারবেন না। যেই ধরনের গান করেন সেটা দর্শকপ্রিয় হতে হবে। অন্যদিকে চিত্রকলায় সমাজের চিত্রসহ সব ধরনের চিত্র নিমিষেই ফুটে ওঠে। এখানে আমি আপনার মতো যা যা চিন্তা করেন তাই নিয়ে কাজ করতে পারবেন। আপনার ভাবনাকেই আরেকজন অনুধাবন করবে।’

মূলত বিমূর্ত চিত্রকলা অংকন করেন এ শিল্পী। বিমূর্ত কথাটি তার কাছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘গদ্য আর পদ্যের মধ্যে কিন্তু পার্থক্য আছে। পদ্য কিন্তু বিষদ বর্ণনা নয়। সেটি কিন্তু যেকোনো বিষয়ে আপনাকে সংকেত দেয়। এখন আপনি তার সংকেত কি হিসেবে নেবেন এটি আপনার ভাবনা আর গদ্যে যেকোনো কিছুই বিস্তারিত থাকে। আমি যে বিমূর্ত চিত্র অংকন করি সেটা অনেকটাই পদ্যের মতোই। এক একটি ছবি এক এক ধরনের ইঙ্গিত। প্রতিটি ছবি প্রতিটি দর্শককে একেকভাবে ভাবায়। মোট কথা, বিমূর্ত বলতে সংকেতের মতো এক একটি ইঙ্গিত। মুস্তাফা খালীদ পলাশ তার চিত্রশিল্পের পেছনে ভাস্কর শিল্পী হামিদুজ্জামানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বলেন, ‘আমি তাকে পেয়েছি আমার চিত্রশিল্পের পথিকৃৎ হিসেবে। তিনি আমাকে সাহস জুগিয়েছেন, অনুপ্রেরণা দিয়েছেন সামনে এগিয়ে যাওয়ার।’

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads