• সোমবার, ৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ফিচার

মেধাস্বত্ব সংরক্ষণে কাজ করছে বাংলাদেশ আইপি ফোরাম

  • সালেহীন বাবু
  • প্রকাশিত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

বাংলাদেশ আইপি ফোরাম। পূর্ণাঙ্গ অর্থ দাঁড়ায় বাংলাদেশ ইনটেলেকচুয়াল প্রোপার্টি ফোরাম। ২০১০ সাল থেকে এ প্রতিষ্ঠানটি কাজ শুরু করে। এটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ২০১১ সাল থেকে। সে বছর ঢাকা ভার্সিটির ল’ স্টুডেন্টদের নিয়ে প্রথম কর্মশালা করে বাংলাদেশ আইপি ফোরাম। প্রতিষ্ঠানটির আট বছর হতে চলল। প্রতিষ্ঠানটি মেধাস্বত্ব নিয়ে কাজ করে।

২০১৪ সালের এপ্রিলে ঢাকার ১৪টি থানায় মেধাস্বত্বের ওপর ট্রেনিং করায় প্রতিষ্ঠানটি। এ বছর এনবিআরের সঙ্গে দুটি কর্মশালার আয়োজন করে। মোট ৩৬ জন এনবিআরের কর্মকর্তা এ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। আইসিটি ডিভিশনের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি যুক্ত আছে।

প্রতিষ্ঠানের আলাদা ট্রাস্টি বোর্ড আছে। কোনো সরকারি বা ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড দ্বারা এটি পরিচালিত হয় না বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ব্যারিস্টার হামিদুল মিসবাহ। তিনি বলেন, ‘আমাদের ট্রাস্টি বোর্ড থেকে আমরা যাবতীয় খরচ বহন করি। আমরা বাংলাদেশ আইপি একাডেমি করেছি। এখানে ছোট ছোট কোর্স থাকবে। এ কোর্সগুলো প্রফেশনালরা বা যারা গ্র্যাজুয়েট তারা করতে পারবে।’

মেধাস্বত্ব সম্পর্কে মিসবাহ বলেন, মেধাস্বত্বের প্রয়োগে কিছু আইনকানুন আছে। এটি ব্যবসাক্ষেত্রে বা চাকরিক্ষেত্রে কীভাবে ব্যবহার করা যায় এটি জানা জরুরি। এটি না জানলে ব্যবসার কি ক্ষতি পারে এগুলো সম্পর্কে মানুষকে বোঝানো। ব্যবসার ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য এটি খুবই দরকার।

মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করেছে। বর্তমানে অনেকেই গানের সুর নকল করেন। বাংলাদেশে একজন শিল্পী অনেক গান করলেও তা সংরক্ষণে রাখেন না। বিদেশি শিল্পীরা গান সংরক্ষণের জন্য আলাদা সংগঠন করেছেন। যা প্রত্যেক দেশেই আছে। তাদের কাছে গান সংরক্ষিত থাকে। কেউ গান বাজাতে চাইলে শিল্পীর কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়। সে অনুসারে ওই শিল্পীর গান তারা টাকা দিয়ে কিনে নেয়। ওই সংগঠন তখন গানটি এক বছরের জন্য ব্যবহারের অনুমতি দেয়। তারা যে টাকা পায় তার ১০% রেখে বাকি টাকা মিউজিশিয়ান বা ওই শিল্পীকে দিয়ে দেয়। ফলে একজন শিল্পী তার প্রাপ্ত অর্থ পান। হামিদুল মিসবাহ বাংলাদেশে বামবা ও এসএগিল্ডকে এক করে অর্থাৎ সুরকার, গীতিকার, শিল্পীকে এক করে একটা সংগঠন করেন। সংগঠনটির নাম দেওয়া হয় বাংলাদেশ লিরিসিক্স কম্পোজার অ্যান্ড পারফরমার সোসাইটি। সাবিনা ইয়াসমীন এ সংগঠনের চেয়ারম্যান হন। মোট ১৩ জন মূল বোর্ডে থাকেন। তাদের মধ্যে আছেন আলাউদ্দীন আলী, এন্ড্রু কিশোর, সাবিনা ইয়াসমীন, শুভ্র দেব, আলাউদ্দীন আলী, হামীন ভাই, রেজোয়ানা হক চৌধুরী বন্যাসহ প্রমুখ। মিসবাহ জানান, ‘নানা কারণে সংগঠনটি তাদের কাজ পুরোদমে শুরু করেনি।’

যেকোনো ক্ষেত্রে মেধাস্বত্বের প্রয়োগ অনেক বলে জানান মিসবাহ। তিনি বলেন, ‘যেমন আপনি একটা গান গাইলেন, লিখলেন এটা একটা মেধাস্বত্ব। আপনি যে নিউজ, স্ক্রিপ্ট লিখছেন সেটাও মেধাস্বত্বের মধ্যে পড়ে। বাংলাদেশের খবর ব্র্যান্ড নেম এটা একটা মেধাস্বত্ব। কেউ কিছু আবিষ্কার করল এটা মেধাস্বত্ব। আমি যেটা তৈরি করেছি সেটা কীভাবে সুরক্ষিত রাখব, কীভাবে তা থেকে টাকা উপার্জন করব। সেটা যাতে লোকজন চুরি করে না নিয়ে সেটা কীভাবে প্রটেক্ট করব-এটা একটা দিক। আবার আমি ব্যবসা করব। আমি নিজেই অন্য কারো মেধাস্বত্ব লংঘন করলাম। আমি লংঘন না করলাম।’

তিনি আরো বলেন, ‘আপনি দেখবেন করপোরেট হাউজে অনেক অডিওভিজ্যুয়াল বানানো হয়। একটি বড় কোম্পানি তার লোককে বলল তুমি একটা অডিওভিজুয়্যাল বানাও। সে কর্মকর্তা দেখা গেল আরেকজনের মিউজিক নিয়ে নিল। আবার দেখা যায় অনেকে আরেকজনের মিউজিক নিয়ে নিলেন। যেমন কোনো কর্মকর্তা কোম্পানির জন্য লোগো বানাবেন। তিনি ইন্টারনেট থেকে একটি লোগো পছন্দ করলেন। কিংবা একটি ব্র্যান্ডের নাম নিলেন। অথচ দেখা গেল এটা আরেকজনের। অথচ ওই কোম্পানি সরল বিশ্বাসে ওইটা নিয়ে ব্র্যান্ডিং করল। টাকা খরচ করল। পরে দেখা গেল এটা কফি। মামলা হলো। ওই মালিকের টাকা খরচ হবে, সম্মানহানি হবে, সময়েরও অপচয় হবে। এ রকম তখনই হয় যখন মেধাস্বত্ব সম্পর্কে আমাদের পরিষ্কার জ্ঞান না থাকে।’

প্রাইভেট সেক্টর এবং গর্ভমেন্ট সেক্টর এখন মেধাস্বত্বের ব্যাপারে অনেক সচেতন বলেন জানান মিসবাহ। প্রতিষ্ঠানটির মূল বোর্ডের সদস্য মঞ্জুরুর রহমান (সাবেক অতিরিক্ত সচিব) বলেন, ‘আমাদের দেশে ইনটেলেকচুয়াল প্রোপার্টি সম্পর্কে অনেকেই জানেন না। গত কয়েক বছরে আইপি ফোরাম যে কাজগুলো করেছে তাতে সামগ্রিক অগ্রগতি হয়েছে। আইপি একাডেমি নিয়ে তারা কাজ করছে। নতুনদের এ বিষয়ে তারা সচেতন করছে, ট্রেনিং করাচ্ছে। এ দেশে মেধাস্বত্ব নিয়ে  সবাই সচেতন নয়। এ বিষয়ে সচেতনতা জরুরি। একটা মানুষ প্রতিদিন অসংখ্য ইনটেলেকচুয়াল প্রোপার্টি ব্যবহার করছে। যেমন আপনি যে শার্ট ব্যবহার করেন এটি কোনো কোম্পানির। আপনি যে প্লেটে খান এটি কোনো কোম্পানির। পায়ের জুতার যে ব্র্যান্ড, বাসায় ফার্নিচারের যে ব্র্যান্ড এগুলো ইনটেলেকচুয়াল প্রোপার্টি। এ রকম অসংখ্য আছে। এ বিষয়ে মানুষের ব্যবহার কম। মেধাস্বত্ব বলতে একজন মানুষ তার বুদ্ধি দিয়ে যে জিনিস তৈরি করে। যেমন একটা কাঠের প্লেটে যখন একজন শিল্পী খোদাই করে ছবি তৈরি করে তার মেধা দিয়ে একটি চিত্রকর্ম তৈরি করে। এটি একটি মেধা সম্পদ। তবে আইডিয়ার কোনো কপিরাইট হয় না।’

বাংলাদেশ আইপি ফোরামের মূল বোর্ডে আছেন এ বি এম হামিদুল মিসবাহ (ফাউন্ডার-চিফ এক্সিকিউটিভ), মঞ্জুরুর রহমান (সাবেক অতিরিক্ত সচিব), ড. রফীক উল্লাহ খান, কাজী জাহিন হাসান (প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান), ওয়াজেদ আলী খান বন্নী, জে স্ট্রিংলিংসহ প্রমুখ।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads