• মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৭ কার্তিক ১৪২৬
ads
জলরঙের বর্ণিল প্রদর্শনী জলকাব্য ২

নবীন চিত্রশিল্পী নবরাজ রায়ের চিত্রকর্ম

সংগৃহীত ছবি

ফিচার

জলরঙের বর্ণিল প্রদর্শনী জলকাব্য ২

  • সালেহীন বাবু
  • প্রকাশিত ১২ অক্টোবর ২০১৯

ল্যান্ডস্কেপ, নেচার ও রিভারিন থিমে প্রদর্শিত হচ্ছে আর্ট এক্সিবিশন ‘জলকাব্য ২’। মোট ২৬ জন শিল্পীর চিত্রকর্ম নিয়ে ‘এজ’ গ্যালারিতে চলছে ওয়াটারকালারের ওপর এই বিশেষ প্রদর্শনী। নবীন-প্রবীণ সব চিত্রশিল্পীর মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে গ্যালারি।

ক্যানভাসে জলরঙের বর্ণিল উদ্ভাসন প্রদর্শনীজুড়ে। জলরঙের ২৬ জন শিল্পীর ছবি স্থান পেয়েছে এ প্রদর্শনীতে। শিল্পীরা হলেন অলকেশ ঘোষ, আল আখির সরকার, আনিসুর রহমান, আনিসুজ্জামান, আরিফুল ইসলাম, আজমীর হোসেন, বীরেন সোম, হামিদুজ্জামান খান, জামাল আহমেদ, কামরুজ্জোহা, কাউসার হোসেন, মিন্টু দে, মনিরুল ইসলাম, নবরাজ রায়, নাফিউজ্জামান নাফি, নাজমুল হক বাপ্পি, রণজিৎ দাস, সাব্বির আহমেদ, সমরজিৎ রায় চৌধুরী, শাকিরুন্নাহার কানন, শারমিন আক্তার লীনা, সোহাগ পাভেজ, সৈকত হোসেন, সুলতান ইশতিয়াক, ওয়ারিয়র রহমান সামি ও জাহাঙ্গীর আলম।

এই প্রদর্শনী সম্পর্কে ভাস্করশিল্পী হামিদুজ্জামান বলেন, ‘ওয়াটারকালার যে একটি পেইন্টিং হতে পারে, এই গ্যালারি প্রতিটি চিত্রকর্ম এত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছে এটা একটা ডেভেলপমেন্ট। এই গ্যালারি নবীন-প্রবীণদের চিত্রকর্মের মেলা। এ ধরনের কাজে বেশ একটা মহত্ত্ব আছে। ২৬ জন চিত্রশিল্পীর এই প্রদর্শনী প্রবীণ-নবীনের অদ্ভুত মিলনমেলা। এখানে গ্যালারিতে ছবি পরিবর্তন করা হয়। যেমন একজন চিত্রশিল্পীর ১টি বা ২টি ছবি একবার ডিসপ্লে করা হলো। আবার পরের সপ্তাহে তার অন্য দুটি ছবি ডিসপ্লে করা হলো।

ওয়াটারকালার আর পেইন্টিংয়ের মধ্যে মূল পার্থক্য কোথায় আছে জানতে চাইলে এই ভাস্করশিল্পী জানান, ওয়াটারকালারে লাইট থেকে ডার্ক হয়। অন্যান্য চিত্রকর্ম ডার্ক থেকে লাইট হয়। ওয়াটারকালারের বিভিন্ন সিজন লক্ষ করা যায়। যেমন আমরা সবাই জানি বাংলাদেশে ষড়ঋতু। এক এক ঋতুতে প্রকৃতি এক এক রূপ ধারণ করে। ওয়াটারকালারে এই একেক ঋতুর অবয়ব ফুটে ওঠে। এ কারণে ওয়াটারকালারের যে কোনো ছবি সবাই বুঝতে পারে। বড় বড় শিল্পীরা ওয়াটারকালারেই তাদের শিল্পের প্রথম পরিচয় দেয়। এখন অনেকেই ওয়াটারকালারের বিভিন্ন ছবি কেনে। অনেকেই ওয়াটারকালার পছন্দ করছেন। সর্বোপরি বলব, এটি একটি ভালো আয়োজন।

বীরেন সোম বলেন, এটি একটি ভালো গ্যালারি। এ গ্যালারিটি বেছে বেছে প্রদর্শনী করে। আজ থেকে প্রায় ১০ বছর আগে যে জলরং হারিয়ে গেছে, আস্তে আস্তে তা আবার ফিরে আসছে। আগে জলরং তেমন বিক্রি না হলেও এখন জলরঙের অনেক ছবি বিক্রি হচ্ছে। মানুষের ঘরে ঘরে যাচ্ছে। আমি অনেক আগে থেকেই চেষ্টা করেছি জলরং তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাক। ২০০৩ সালে গ্যালারি চিত্রকে জলরঙের প্রদর্শনী হয়। ‘সাজু’ গ্যালারিতে প্রদর্শনী হতো। এভাবেই শুরু। এখন অনেক ভালো ভালো কাজ হচ্ছে। এত সুন্দর আয়োজনের জন্য ‘এডজ’ গ্যালারিকে ধন্যবাদ জানাই।

নবীন চিত্রশিল্পী নবরাজ রায়ের চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হচ্ছে এ প্রদর্শনীতে। তিনি বলেন, ‘ওয়াটারকালারের এরকম অসাধারণ চিত্রপ্রদর্শনী করার জন্য আমি প্রথমেই ধন্যবাদ জানাতে চাই এডজ গ্যালারিকে। এই প্রদর্শনীতে অনেক বড় বড় চিত্রশিল্পীর সঙ্গে কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে। আমার আঁকা ছবিগুলোতে প্রকৃতি, গাছ, নদীমাতৃক বাংলাদেশ ফুটিয়ে তুলেছি।’

এডজ গ্যালারির ব্যবস্থাপক আবু শোয়েব জুয়েল বলেন, ‘আসলে জুনিয়র শিল্পীরা সহজে সিনিয়র শিল্পী বা মাস্টারদের সঙ্গে প্রদর্শনী করার সুযোগ পান না। এই সুযোগ করে দেওয়ার জন্যই সিনিয়র শিল্পীদের রাখা। এর শুরুটা ২০১৭ সাল থেকে। এই জলকাব্য নামটা ধারাবাহিকভাবে থাকবে। এখানে আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে যারা চিত্রশিল্পী হতে চায়। এখানে ছবি করার সময় কিছু বিষয় নির্বাচন করে দিই। এটি প্রতিবছর একমাসব্যাপী হয়। জলকাব্য হচ্ছে ওয়াটারকালার ভিত্তিক। বছরে সবসময় জলরং থাকে বিক্রির জন্য। আমরা সাধারণত বছরের শেষের তিন মাসের যে কোনো একমাসে আয়োজনটি করে থাকি। আমরা সারা বছর মাস্টারদের নিয়ে প্রদর্শনী করি। একজন চিত্রশিল্পী প্রথমেই শুরু করেন জলরং দিয়ে। জলরং আসলে হারিয়ে যাচ্ছে। জলরংই প্রকৃত ল্যান্ডস্কেপ করে। জলরঙে চিত্রশিল্পীরা সশরীরে জান, আঁকেন। অন্যান্য ছবি বাসায় বসে করা যায়। জলরঙের মাধ্যমে গ্রামীণ ঐতিহ্য রক্ষা করা যায়। অনেক বিদেশি বাংলাদেশে আসে। তখন তারা এই দেশের ঐতিহ্যবাহী কিছু খোঁজে। তখন সে চাইবে এই সম্পর্কিত যে কোনো ছবি নিয়ে যেতে। তখন তারা যখন আমাদের কাছ থেকে কিনে নিয়ে যায় তখন আমাদের সংস্কৃতি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশে সমাদৃত হচ্ছে। আমাদের মূল উদ্দেশ্য, যেভাবেই হোক এসব পেইন্টিং বিদেশে প্রমোট করা।’

১৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই প্রদর্শনী চলবে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রদর্শনী খোলা থাকবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads