• সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ১০ কার্তিক ১৪২৬
প্রকৃতি প্রেমীদের কাছে টানছে কাশফুল

ছবি : বাংলাদেশের খবর

ফিচার

প্রকৃতি প্রেমীদের কাছে টানছে কাশফুল

  • কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
  • প্রকাশিত ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

শরতের আগমনে হাসছে কাশফুল। জীবনের নানা ব্যস্ততার মাঝে যেন আমাদের অগোচরেই এসেছে শরৎ। শরৎ মানেই নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা এবং কাশফুলের শুভ্রতা। স্বচ্ছ নীল আকাশে সাদা মেঘ, মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ ও সাদা কাশফুল যখন বাতাসের দোলায় দুলতে থাকে তখন মনটাও যেন আন্দোলিত হয়। প্রকৃতিতে যখন শরৎকাল আসে তখন কাশফুলই জানিয়ে দেয় এর আগমনী বার্তা। এই ঋতুতে পালকের মতো নরম ও ধবধবে সাদা রঙের কাশফুল ফোটে। কাশফুলের অপরূপ সৌন্দর্য পুলকিত করে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দায়।

প্রতিটি ঋতুর রয়েছে আলাদা রূপ ও বৈচিত্র। আর তাই প্রকৃতির ধারাবাহিকতা শরত এসেছে তার অপরূপ নিজস্বতা নিয়ে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা পরিষদ চত্বর এলাকা, আখাউড়া- সুলতানপুর সড়ক এলাকার বিজিবি (ক্যাম্প) ব্যাটালিয়নে পাশ, কাউতলী মোড় এলাকার দক্ষিণ পাশে ডিসি প্রজেক্ট নামে পরিচিত এলাকা ঢেকে গেছে কাশফুলে। ঝকঝকে নীল আকাশে ভেসে বেড়ানো সাদা মেঘের ভেলা প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে টানছে।

সেইসাথে সড়ক দিয়ে আসা যাওয়া পথচারিদের মন কাড়ছে সেই কাশফুল। তাছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার পাশে নদীর ধারে অপরূপ সাদা কাশফুল বাতাশে দোলা খাওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। ওইসব স্থানে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা আসছেন।

বাংলা সাহিত্যে শরৎ ও কাশফুলের কথা এসেছে নানাভাবে। শরৎ ও কাশফুলের বন্দনা তাই তো কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতায়, কাশফুল মনে সাদা শিহরণ জাগায়, মন বলে কত সুন্দর প্রকৃতি, স্রষ্টার কি অপার সৃষ্টি। রবীন্দ্রনাথ প্রাচীন গ্রন্থ কুশজাতক’র কাহিনী অবলম্বন করে শাপমোচন নৃত্যনাট্য রচনা করেছেন। কবি জীবনানন্দ দাশ শরৎকে দেখেছেন এভাবে,বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি,তাই পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর। শরতের অপরূপ এই রূপ দেখে মুগ্ধ কবি অবলীলায় পৃথিবীকে আর দেখার প্রয়োজন মনে করেননি।

এভাবেই প্রতি বছর ফিরে আসে শরত, বাংলার প্রকৃতিকে করে তোলে রূপময়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সবকটি উপজেলায় কম বেশি শরতের কাশফুল ফুটেছে। কাশফুলের ছোঁয়া পেতে দর্শনার্থীরাও ছুটে আসছেন। তারা অনুভূতিগুলো ক্যামেরায় বন্দি করতে ভোলেন না। এমন মনোমুগ্ধকর পরিবেশ সবার মন ছুঁয়ে যায়। সূর্য অস্ত যাওয়ার আগে ওইসব স্থানে প্রকৃতিপ্রেমীদেরকে দেখা যায়। কেউ কেউ ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন।

শিক্ষার্থী আশেকুল ইসলাম, মাহমুদ ও নিজাম বলেন, করোনার কারণে ‘আমাদের সময় যেন থমকে গেছে । ইচ্ছ্া করলেও কোথাও বের হওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু প্রকৃতি থেমে নেই, এসেছে নতুন সাজ। তাই এখানে ছুটে আসা।

সাংবাদিক দুলাল ঘোষ বলেন, সাদা সবুজের পাশ দিয়ে চলার অনুভুতি অন্যরকম। কাশফুলের অপরূপ সৌন্দর্য্য দেখে মনটা ভরে গেল। গৃহিনী নাজমা আক্তার বলেন, ‘শরতের কাশফুল আমার শৈশবের স্মৃতিগুলোকে বারবার স্মরণ করিয়ে দেয়। এই অপরূপ সৌন্দর্যের কাছে কিছুক্ষণ থাকতে পেরে খুবই ভালো লাগছে।

দর্শনার্থীরা বলেন, শরত আসে সৌন্দর্য নিয়ে আর সেই সৌন্দর্য কাশফুল ছাড়া পূর্ণতা পায় না। এখানকার কাশবনের এই পরিবেশ যে কারও মনকে উদ্বেলিত করে। শেষ বিকেলের আলো আর মৃদু হাওয়ায় দোল খাওয়া সাদা কাশ ফুল এই দুয়ের মেলবন্ধনে গোধূলির লাল সূর্য যখন অস্তচলে তখন প্রকৃতি হয়ে ওঠে আরও মায়াবী।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads