• শুক্রবার, ২২ জানুয়ারি ২০২১, ৮ মাঘ ১৪২৭

ফিচার

শরতের অপরূপ সাজে বশেমুরবিপ্রবি ক্যাম্পাস

  • প্রকাশিত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

সিনথিয়া সুমি

 

 

শরতের আগমনে বর্ষা ঋতুকে বিদায় জানিয়েছে কাশফুল। স্বচ্ছ নীল আকাশে সাদা মেঘ আর মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ ও সাদা কাশফুলে ভরপুর। প্রতিটি ঋতুর রয়েছে আলাদা রূপবৈচিত্র্য। তাই প্রকৃতির ধারাবাহিকতায় শরৎ আসে অপরূপ নিজস্বতা নিয়ে। বৈশ্বিক উষ্ণতা আর জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে প্রকৃতি যখন তার চিরায়ত রূপ হারাচ্ছে, তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাকালেই দেখা যাবে বাতাসে দোল খায় সাদা কাশবন। সেই কাশবন যেন হয়ে উঠেছে শিল্পীর রং তুলিতে আঁকা কোনো ছবি।

ক্যাম্পাসে শিউলি ফুল ফুটতে শুরু করেছে। গাছে গাছে শিউলি ফুলের সুবাস ও আকাশে গুচ্ছ গুচ্ছ কাশফুলের মতো সাদা মেঘের ভেলা মন কেড়ে নেয়। তাই বুঝি শরৎকে বলা হয় শুভ্রতার প্রতীক। নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা শরৎ ছাড়া আর কে ভাসাতে পারে? তাই তো শরতের বন্দনায় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিমোহিত হয়েছেন বার বার। তবে শরতের সবচেয়ে বড় অনুষঙ্গ কাশফুল। আকাশের সাদা মেঘের সঙ্গে কাশফুলের মৃদু বাতাসে দোল খাওয়া প্রকৃতিতে শুধুই মুগ্ধতা ছড়ায়। আর সেই শরতের কাশফুলে প্রাণমুগ্ধ হয়েছে দক্ষিণ বঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরবিপ্রবি) ক্যাম্পাস। শহর গড়ে ওঠা ক্যাম্পাস যেন যান্ত্রিক নগরে এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি।

ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে প্রকৃতির ভিন্নতা ঘটে। তেমনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসও প্রকৃতির রূপে ভিন্নরূপে সজ্জিত হয়। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আনাগোনা নেই বললেই চলে। তবে এখন শরতের আগমনে ক্যাম্পাসটি কাশফুলে ভরে গেছে। প্রাণহীন ক্যাম্পাসকে প্রাণবন্ত করে তুলতে কাশফুল। ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ রাস্তার দুই ধারে, খেলার মাঠে, লেকপাড়ে, আইন চত্বরে, কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে, বাঁধন চত্বরে, ক্যাম্পাসের হলগুলোর আশপাশে কাশফুলের দেখা মিলবে। ক্যাম্পাসের দৃষ্টিনন্দন খেলার মাঠের আশপাশে ও লেকপাড়ের দুপাশে কাশফুলের সৌন্দর্য মুগ্ধ করবে শিক্ষার্থীদের। এ ছাড়াও করোনাকালীন দেখা মেলে কিছু দর্শনার্থীদেরও। তারা অনুভূতিগুলোকে ক্যামেরায় ফ্রেমবন্দি করতে ভোলে না। এমন মনোমুগ্ধকর পরিবেশ, কাশফুলের সুগন্ধি কার না মন ছুঁয়ে যায়। 

তবে প্রতি বছরের মতো এবার নেই তেমন দর্শনার্থী, পশ্চিম আকাশে সূর্য অস্ত যাওয়ার পূর্বক্ষণে লেকপাড়ে আর ভিড় বাড়ে না শিক্ষার্থীদের। কেউ আর বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে যায় না, কেউ তার প্রিয়তমার জন্য আর ফুল নিতে আসে না। হালকা বাতাসে কাশফুলের দোলের মাঝে নিজেকে বিলিয়ে দিতে পারে না তারা। কেউ চাইলেও সেই অনুভূতিগুলোকে ক্যামেরায় ফ্রেমবন্দি করতে পারছে না। তবে এর মাঝে যারা ঘুরতে আসছেন, তারা দিনভর ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করছেন।

ক্যাম্পাসের কাশবনে ঘুরতে আসা লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী শাকিল মাহমুদ বলেন, আমাদের সময় যেন থমকে গেছে এই করোনাকালীন পরিস্থিতিতে কিন্তু প্রকৃতি তো থেমে নেই, এসেছে নতুন সাজে নতুন বার্তা নিয়ে। এটা আমার কাছে নীরব প্রেম শরৎ আর কাশফুলের যেমনটা জানি বসন্ত আর কোকিলের। দিনশেষে শরতের সাদা মেঘ আর কাশফুলের শুভ্রতায় নিজেদের মনকে শুভ্র করি।

এ বিষয়ে ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রুমানা ইসলাম বর্ষা বলেন, করোনার এ সময় প্রকৃতি যে রূপ ধারণ করেছে তা প্রকৃতিকে আমাদের কাছে নতুন করে আনন্দিত করেছে। কাশফুলকে আকাশের সাদা মেঘের সাথে তুলনা করা হয়। শরতের এই কাশফুল আমার শৈশবের স্মৃতিগুলোকে বার বার স্মরণ করিয়ে দেয়। কাশফুলের গন্ধ নেই, কাশফুল প্রিয়জনের জন্য উপহার হিসেবে দেওয়ার মতো ফুলও নয়। তবে ক্যাম্পাসের কাশফুলের মধ্যে রয়েছে রোমাঞ্চকর উন্মাদনা, যা দেখে ব্যক্তিমন ভালো হয়ে যায়। প্রাণের ক্যাম্পাসে এ দৃশ্য আমাকে মুগ্ধ করে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads