• মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২১, ৫ মাঘ ১৪২৭
জলকাব্য-৩-এর চিত্রপ্রদর্শনী

সংগৃহীত ছবি

ফিচার

জলকাব্য-৩-এর চিত্রপ্রদর্শনী

  • সালেহীন বাবু
  • প্রকাশিত ২৮ নভেম্বর ২০২০

রং যখন সমৃদ্ধ ও বৈভবশালী, গড়ন তখন পরিপূর্ণ ও প্রাচুর্যময়। শিল্পী সেজানের এই উক্তিটি যেন জলকাব্য-৩ প্রদর্শনীর সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। যেখানে বাধনহীনভাবে রং ও জল নিয়ে চিত্র রচনা করেছেন শিল্পীরা। মাধ্যমের বালাই না করে রংই যেন মুখ্য হয়েছে এখানে।

তরুণ ও বরেণ্য মিলে ৩৪ জন শিল্পীর কাজ নিয়ে সাজিয়েছে এজ গ্যালারির জলকাব্য-৩। তাদের চিত্রের বিষয় ছিল ল্যান্ডস্কেপ, প্রকৃতি ও নদীর জীবনময়তা। যার স্পষ্ট ছাপ পাওয়া যায় গ্যালারির সকল শিল্পকর্মে। নবীন ও তরুণ শিল্পীদের মধ্যে রয়েছে আজমির হোসেন, নবরাজ রায়, নাফিউজ্জামান নাফি, নাজমুল হক বাপ্পি, সাবির আহমদ, মিন্টু দে, কায়সার হোসেন, কামরুজ্জোহা, শারমিন আক্তার লিনা, সোহাগ পারভেজ, সৈকত হোসেন, সুলতান ইসতিয়াক, ওয়ারির রহমান সামি, জাহাঙ্গীর আলম, আল আখির সরকার, আনিসুর রহমান, শাকিরুন্নাহার কানন প্রমুখ। তারা সবাই নিজ অবস্থানে সমৃদ্ধ; অনেকে বিদেশে শিক্ষা গ্রহণ করে বর্তমানে দেশের শিল্পচর্চায় নিজের অবস্থান অক্ষুণ্ন রাখছে।

বরেণ্য শিল্পীদের মধ্যে রয়েছেন- অলোকেশ ঘোষ, হামিদুজ্জামান খান, জামাল আহমেদ, মনিরুল ইসলাম, সমরজিৎ রায় চৌধুরী, রনজিৎ দাশ, বীরেন সোম, আনিসুজ্জামান, আরিফুল ইসলাম প্রমুখ। যারা সবাই বাংলার শিল্প গুরুমান্য। তাদের অবদানে বাংলার শিল্পজগৎ হয়েছে সমৃদ্ধ ও উজ্জ্বল। তবে প্রবীণ শিল্পীরা কিছুটা আন্তরিক ও স্বজনপ্রীতি কর্মকাণ্ড ত্যাগ করলে নবীন শিল্পীদের সম্ভাবনার জন্য আগামীর পথ হবে দীপ্তময়।

সর্বোপরি এখানে রং ও জলের গল্পে উঠে এসেছে। জীবনের নানা ঘটনা, স্থান, অবস্থান কিংবা অনুভূতি। শিল্পীদের মৌলিক আবিষ্কারগুলো হলো তার চিত্রকর্ম। আর তা যদি দর্শকের মনেও মৌলিক কিছু আবেদন ও স্বপ্ন দেওয়া বা তৈরি করা যায়; তাতেই শিল্পীর সার্থকতা। এই প্রদর্শনী সম্পর্কে ভাস্করশিল্পী হামিদুজ্জামান বলেন, ‘ওয়াটারকালার যে একটি পেইন্টিং হতে পারে, এই গ্যালারি প্রতিটি চিত্রকর্ম এত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছে এটা একটা ডেভেলপমেন্ট। এই গ্যালারি নবীন-প্রবীণদের চিত্রকর্মের মেলা। এ ধরনের কাজে বেশ একটা মহত্ত্ব আছে। ৩৪ জন চিত্রশিল্পীর এই প্রদর্শনী প্রবীণ-নবীনের অদ্ভুত মিলনমেলা। এখানে গ্যালারিতে ছবি পরিবর্তন করা হয়। যেমন একজন চিত্রশিল্পীর একটি বা দুটি ছবি একবার ডিসপ্লে করা হলো। আবার পরের সপ্তাহে তার অন্য দুটি ছবি ডিসপ্লে করা হলো।

ওয়াটারকালার আর পেইন্টিংয়ের মধ্যে মূল পার্থক্য কোথায় আছে জানতে চাইলে এই ভাস্করশিল্পী জানান, ওয়াটারকালারে লাইট থেকে ডার্ক হয়। অন্যান্য চিত্রকর্ম ডার্ক থেকে লাইট হয়। ওয়াটারকালারের বিভিন্ন সিজন লক্ষ করা যায়। যেমন আমরা সবাই জানি বাংলাদেশে ষড়ঋতু। একেক ঋতুতে প্রকৃতি একেক রূপ ধারণ করে। ওয়াটারকালারে এই একেক ঋতুর অবয়ব ফুটে ওঠে। এ কারণে ওয়াটারকালারের যে কোনো ছবি সবাই বুঝতে পারে। বড় বড় শিল্পীরা ওয়াটারকালারেই তাদের শিল্পের প্রথম পরিচয় দেয়। এখন অনেকেই ওয়াটারকালারের বিভিন্ন ছবি কেনে। অনেকেই ওয়াটারকালার পছন্দ করছেন। সর্বোপরি বলব, এটি একটি ভালো আয়োজন।

বীরেন সোম বলেন, এটি একটি ভালো গ্যালারি। এ গ্যালারিটি বেছে বেছে প্রদর্শনী করে। আজ থেকে প্রায় ১০ বছর আগে যে জলরং হারিয়ে গেছে, আস্তে আস্তে তা আবার ফিরে আসছে। আগে জলরং তেমন বিক্রি না হলেও এখন জলরঙের অনেক ছবি বিক্রি হচ্ছে। মানুষের ঘরে ঘরে যাচ্ছে। আমি অনেক আগে থেকেই চেষ্টা করেছি জলরং তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাক। ২০০৩ সালে গ্যালারি চিত্রকে জলরঙের প্রদর্শনী হয়। ‘সাজু’ গ্যালারিতে প্রদর্শনী হতো। এভাবেই শুরু। এখন অনেক ভালো ভালো কাজ হচ্ছে। এত সুন্দর আয়োজনের জন্য ‘এজ’ গ্যালারিকে ধন্যবাদ জানাই।

নবীন চিত্রশিল্পী নবরাজ রায়ের চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হচ্ছে এ প্রদর্শনীতে। তিনি বলেন, ‘এরকম অসাধারণ চিত্রপ্রদর্শনী করার জন্য আমি প্রথমেই ধন্যবাদ জানাতে চাই এজ গ্যালারিকে। এই প্রদর্শনীতে অনেক বড় বড় চিত্রশিল্পীর সঙ্গে কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে।’

এজ গ্যালারির ব্যবস্থাপক আবু শোয়েব জুয়েল বলেন, ‘আসলে জুনিয়র শিল্পীরা সহজে সিনিয়র শিল্পী বা মাস্টারদের সঙ্গে প্রদর্শনী করার সুযোগ পান না। এই সুযোগ করে দেওয়ার জন্যই সিনিয়র শিল্পীদের রাখা। এর শুরুটা ২০১৭ সাল থেকে। এই জলকাব্য নামটা ধারাবাহিকভাবে থাকবে। করোনার এই সময়ে এই প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য হলো নতুন করোনাকালীন সময়ে নতুন শিল্পীদের পাশে দাঁড়ানো।’ প্রদর্শনী চলবে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads