• বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৮

খাদ্য

ক্যাফেইনমুক্ত চা আবিষ্কার

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ১৪ নভেম্বর ২০১৮

সকালের নাশতার পরে এক কাপ চা ছাড়া অনেকের চলেই না। দুপুরের খাবার কিংবা বিকালের নাশতার পরেও চায়ের অভ্যাস অনেকের। অভ্যাস যাদের নেই তারাও অবসাদ কিংবা ক্লান্তি কাটাতে আশ্রয় নেন এই প্রাকৃতিক পানীয়টির। এক কাপ কড়া চা নিমেষেই কাটিয়ে দিতে পারে তীব্র মাথাব্যথাও। আসলে ক্যাফেইন নামক একটি রাসায়নিকের জাদুকরী ক্ষমতার কারণেই চা পান করলে চাঙ্গা হয়ে ওঠে শরীর ও মন। ক্যাফেইন এমন একটি উদ্দীপক এলকালয়েড যা শরীরের অবসাদ কাটিয়ে শক্তির মাত্রা বৃদ্ধি করে। তবে ক্যাফেইনের আছে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও। অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণের কারণে অনিদ্রা, অল্পতেই বিরক্ত হওয়া, মাথা ঘোরা, দুশ্চিন্তা, পানিশূন্যতা বা পেটব্যথাও হতে পারে। আর এসব কারণেই চিকিৎসকরা পরিমিত চা পানের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কিন্তু চা পানে যাদের আসক্তি তাদের পক্ষে চিকিৎসকের এই উপদেশ মেনে চলা সম্ভব হয় না। তাদের আশ্রয় নিতে হয় বিকল্প উষ্ণ পানীয়ের। আবার বাজারেও মেলে ক্যাফেইনমুক্ত সত্যিকারের চা। সাধারণত চা পাতাকে বাষ্পীপাতনের মাধ্যমে কিংবা চায়ের মধ্যে অতিরিক্ত কার্বন ডাইঅক্সাইড চালনা করে উৎপাদিত হয় সেইসব চা। তাতেও থাকে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি।

তবে চায়ের আদি দেশ চীনে সম্প্রতি খুঁজে পাওয়া গেছে আসল চায়েরই একটি নতুন জাত। জার্নাল অব অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কেমিস্ট্রিতে এ বিষয়ে একটি নিবন্ধও প্রকাশিত হয়েছে। হংইয়াচা (ঐড়হমুধপযধ) নামের চায়ের এই প্রজাতিটি মূলত বৃক্ষজাতীয় একটি বুনো উদ্ভিদ। দক্ষিণ চীনের পাহাড়ি জঙ্গলে গবেষকরা খুঁজে পেয়েছেন এটি।

স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরেই হংইয়াচায়ের পাতা সর্দি ও পেটব্যথার ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। তাদের বিশ্বাস অন্য অনেক শারীরিক সমস্যার সমাধানও মেলে হংইয়াচায়ে। এতদিন এ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক কোনো ব্যাখ্যা ছিল না।

তবে গবেষক লিয়াং চেন ও তার সহকর্মীরা সেই ব্যাখ্যাটি সম্প্রতি সবার সামনে হাজির করেছেন। তারা হংইয়াচায়ের পাতা ও কুঁড়িতে উচ্চ ক্ষমতার তরল-ক্রোমাটোগ্রাফি করে দেখেছেন তাতে সত্যিকারেই শরীরকে চাঙ্গা করার মতো কিছু উপাদান রয়েছে। তবে সাধারণ চায়ের মতো সেগুলো শরীরে নেতিবাচক কোনো প্রভাব ফেলে না। তারা নিশ্চিত হয়েছেন, হংইয়াচায়ে কোনো ক্যাফেইন নেই। উল্টো শরীরের জন্য উপকারী কিছু উপাদান আছে এর পাতায়।

গবেষকরা গভীরভাবে খতিয়ে দেখেন, চা গাছের যে জিনটি ক্যাফেইনের মাত্রা নির্ধারণ করে হংইয়াচায়ের পাতার বয়সের সঙ্গে সঙ্গে সেই জিনটি পরিবর্তিত হয়ে যায়। যার ফলে সাধারণ চা গাছের পাতার মতো এই চায়ের পাতায় ক্যাফেইন থাকে না।

গবেষকদের আশা, এবার থেকে চা আর কৃত্রিম উপায়ে ক্যাফেইনমুক্ত করার দরকার পড়বে না। শিগগিরই মিলবে প্রকৃতির ক্যাফেইনমুক্ত চা।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads