• মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০১৯, ১২ চৈত্র ১৪২৪
ads
খাবার গ্রহণ হোক আনন্দময়

খাবার গ্রহণ হোক আনন্দময়

সংগৃহীত ছবি

খাদ্য

খাবার গ্রহণ হোক আনন্দময়

  • আয়শা সিদ্দিকা
  • প্রকাশিত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

সব বাবা-মাই চান তাদের সন্তানদের স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়াতে। কিন্তু অনেকেই এক্ষেত্রে নানান বিড়ম্বনায় থাকেন। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস শৈশব থেকেই গড়ে তুলতে হয়। আজ আমরা আপনাদের কিছু টিপস জানাব যা অনুসরণ করলে আপনার শিশু হয়ে উঠবে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী।

১. এমন সব খাবারের আইটেম বাছাই করুন যা পরিবারের সবাই পছন্দ করে। অনেক পছন্দের আইটেমের মধ্যে দু-একটি ভিটামিনে ভরপুর আইটেমও রাখুন। এতে করে সেসব আইটেম নজরে আসবে না কিন্তু খাওয়া ঠিকই হয়ে যাবে।

২. খাবার হিসেবে যা-ই দেন না কেন, কম কম করে দেওয়ার চেষ্টা করুন। এতে শিশুরা তৃপ্তি নিয়ে খাবে এবং তার খাবারের প্রতি অনীহা আসবে না। অনেক সময় দেখা যায় বাবা-মা ভাবেন বেশি বেশি খাবার দিলে শিশুর স্বাস্থ্য ভালো হবে কিন্তু এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। বেশি বেশি খাবার দেওয়ার ফলে শিশুর যদি একবার খাবারের প্রতি অনীহা চলে আসে তাহলে তাকে পরে সেই খাবার খাওয়ানো কষ্টকর হয়ে যাবে। সুতরাং যা-ই খাওয়ান না কেন, তা অবশ্যই পুষ্টিকর এবং পরিমাণে পরিমিত হতে হবে।

৩. আপনার শিশু যদি খাবার না খেতে চায় তবে শিশুর বন্ধুদের বাসায় খাবারের দাওয়াত দিতে পারেন। এতে করে আপনার শিশু তার বন্ধুদের দেখে খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলবে। মনে রাখবেন শিশুরা অনুকরণপ্রিয়!

৪. আপনার শিশু যদি খাবার খেতে অনীহা করে বা না খায় তাহলে শিশুর প্রিয় কোনো ব্যক্তিকে দাওয়াত দিন, যেমন- চাচা, খালা অথবা অন্য কেউ। এতে করে আপনার শিশু তার প্রিয় মানুষটির সঙ্গে খেলতে খেলতে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলবে।

৫. কখনোই শিশুকে খাবারের জন্য জোর করবেন না, এতে করে আপনার শিশুর খাবারের প্রতি এক ধরনের ভয় চলে আসতে পারে। একবার খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে শিশুর ভয় বা অনীহা এলে তাকে পরে খাবারের প্রতি আগ্রহী করা অনেক কঠিন।

৬. অনেক সময় শিশুদের দেখা যায় খাবার নিয়ে খেলা করতে। আপনি যদি দেখেন আপনার শিশু খাবার নিয়ে খেলা করছে তাহলে তাৎক্ষণিক সেখান থেকে খাবার প্লেট সরিয়ে ফেলুন। কারণ শিশু তার খাবার নিয়ে খেলা করা মানেই সে খাওয়া উপভোগ করছে না। তাকে এ সময় তার প্রিয় খাবার দিন।

৭. খাওয়ার সময় শিশুর জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা রাখুন। চেষ্টা করুন শিশুর খাওয়ার সময়টিকে আনন্দমুখর করে তুলতে। তাদের সঙ্গে তা-ই করুন অথবা বলুন, যা তারা পছন্দ করে। এতে শিশুরা পরের বার খাওয়ার জন্য আগ্রহী হবে।

৮. ভারী খাবারের মাঝামাঝি সময়ে নাশতা এবং পানীয় পানের ক্ষেত্রে বিশেষ নজর দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে শিশু যাতে খাওয়ার আগে নাশতা ও পানীয় বেশি পান না করে। তাতে করে শিশুর ক্ষুধা থাকবে না। ফলে সে খেতে চাইবে না।

৯. খাওয়ার পর শিশুকে অবশ্যই ফলের জুস অথবা পানি পানের জন্য বলুন। এতে করে শিশুর হজম ক্রিয়া ঠিকভাবে চলবে।

১০. আপনার শিশু যখন ক্ষুধার্ত থাকবে, তখন শিশুকে পুষ্টিকর নতুন ফলমূল খেতে দিন। এতে সে নতুন ফলমূলের সঙ্গে পরিচিত হবে। ফলে শিশুর নতুন খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়বে।

 

লেখক : পুষ্টিবিদ, পুষ্টি কনসালট্যান্ট

স্কয়ার হাসপাতাল, ফোন : ০১৭৯৬৪৩৪৭৫৮

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads