• বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads

খাদ্য

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে চাল

  • প্রকাশিত ১৮ এপ্রিল ২০১৯

বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরীর যুগান্তকারী একটি উদ্ভাবন হলো সোনালি মিনিকেট চাল। যে চাল খেলে রক্তে শর্করা এবং সুগার কমে যায়। ফলে ডায়াবেটিস অনেক নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল রিসার্চ কাউন্সিলের সাবেক এই মুখ্য বিজ্ঞানী বলেন, সবচেয়ে দরকারি চাল হচ্ছে লাল রঙের চাল। সাদা রঙের চাল বলতে কিছু নেই সব চালই লাল। তবে মেশিনে ধান থেকে চাল করার সময় চালের লাল অংশ চেঁচে ফেলে দিয়ে সাদা এবং চিকন করা হয় আকর্ষণীয় দেখানোর জন্য। আর এতে করে অনেক পুষ্টিগুণ থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি।  তবে মানুষ যেহেতু এতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে এবং আমাদের দেশের মানুষের বলতে গেলে ভাত না হলে চলে না এবং বাংলাদেশে দিন দিন ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, তাই তিনি চিন্তা করলেন কী করে এর একটা সমাধানের পথ পাওয়া যায়। সেই চিন্তা থেকে আবেদ চৌধুরী উদ্ভাবন করেন এক ধরনের চাল যা সোনালি মিনিকেট নামে পরিচিত।

এটি বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির অনুমোদিত। তার এইচকেজি এগ্রো থেকে প্রস্তুত বিশেষ এই সোনালি চাল খেলে কার্বোহাইড্রেট এবং সুগার কমে যায় ফলে ডায়াবেটিস অনেক নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। মূলত এই চাল তিনি উদ্ভাবন করেছেন অন্যান্য সাদা বা চিকন চালের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ার জন্য। যা মেশাতে হবে মূল চালের সঙ্গে ১৫ শতাংশ করে। এতে করে সাদা চালের সুগার বাড়ানোর ক্ষমতা অনেক কমে যায় কিন্তু সেই চালের সঙ্গে যে সোনালি মিনিকেট মেশানো হয়েছে তা বোঝা যায় না। এটা কেবল অণুবীক্ষণ যন্ত্রে ধরা সম্ভব, সাধারণ চোখে নয়। এর বাজারমূল্য অন্যান্য চালের মতো। তবে এই চাল তারা সাধারণ বাজারজাত করছেন না। মূলত বাজারজাতের ফলে কেউ যাতে এর নকল করতে না পারে এবং উদ্দেশ্য নষ্ট করতে না তার জন্যই এ সিদ্ধান্ত। কেউ চাল কিনতে চাইলে সরাসরি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। তারা ঠিকানা অনুযায়ী তা পৌঁছে দেবেন। এজন্য ০১৭৬৬-৩৭০৪৩৬ এবং ০১৭৬৬-৩৭০৭০৩ এই দুটি নম্বরে ফোন করে যোগাযোগ করতে পারবেন।

কালো চাল : কালো রঙের খাবারের গুরুত্ব উল্লেখ করে ড. আবেদ চৌধুরী জানান, কালো রঙের খাবারে অনেক বেশি পুষ্টিগুণ থাকে এবং তা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তিনি তার গবেষণায় তৈরি কালো রঙের চাল, টমেটো এবং জুস সবাইকে দেখান। এগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে খুবই দামি এবং যা বর্তমানে কেবল আমেরিকা ও চীনে কিছু কিছু দেখা যায়। তারা সামনের বছর এই পণ্যগুলো বাজারে ছাড়বার পরিকল্পনা করছেন বলে জানান, এ সময় সিনার্জি কোলা নামে একটি কালো রঙের জুসের সঙ্গে তিনি পরিচয় করিয়ে দেন। পাঁচটি উপাদানে তৈরি এই জুস শরীরের জন্য উপকারী এবং ডায়াবেটিস দ্রুত কমাতে পারে। তবে যারা ডায়াবেটিস কম রাখার জন্য বিভিন্ন ধরনের ওষুধ খেয়ে থাকেন, তাদের বেশি পরিমাণে এই জুস না খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। এই জুস গরম করে চায়ের মতো অথবা ঠান্ডা করে শরবতের মতো খাওয়া যায়। এর বাজারমূল্য রাখা হয়েছে ২৫ টাকা। দোকানি কিংবা ডিলারের আগ্রহের ওপর ভিত্তি করে এর বাজারজাত করা হবে বলে তিনি জানান।

ড. আবেদ চৌধুরী বৃহত্তর সিলেটের মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার হাজিপুর গ্রামের সন্তান। তিনি হার্ভার্ডসহ বিশ্বের অনেক নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেন এবং সেখানে শিক্ষক-গবেষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সাল থেকে তিনি পুরোপুরি বাংলাদেশে চলে আসেন এবং কুলাউড়ায় তার পৈতৃক নিবাসে গবেষণা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। দেশমাতৃকার টানে, দেশের মানুষের কল্যাণে দারিদ্র্য বিমোচনে কাজ করার লক্ষ্যে মূলত তার এই চলে আসা বলে জানান বিশ্বখ্যাত এই বিজ্ঞানী। অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল রিসার্চ কাউন্সিলের যেসব গবেষকের নাম নোবেল পুরস্কারের মনোনয়নের জন্য তালিকায় রয়েছে ড. আবেদ চৌধুরী তাদের একজন।

-ফিচার ডেস্ক

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads