• শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads

যশোরের শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের উদ্বোধন করছেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকার

শেখ হাসিনা সফটওয়্যার পার্কের উদ্বোধন

  • আজাদ আল আমিন
  • প্রকাশিত ১০ ডিসেম্বর ২০১৭

যশোর শহরের নাজির শঙ্করপুর এলাকায় নবনির্মিত শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের উদ্বোধন হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে ঢাকায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক উদ্বোধনের মাধ্যমে মেধাভিত্তিক অর্থনীতির দ্বার উন্মোচিত হলো। দেশে এমন আরো ২৮টি হাইটেক পার্ক স্থাপন করা হচ্ছে। এসব পার্কে আইসিটি পণ্য উৎপাদিত হবে; যা রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করবে দেশ। বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বিএনপির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতি করার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। তারা কোনো উন্নয়ন করেনি। তারা চেয়েছিল বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে। সে কারণে তাদের প্রযুক্তির কোনো দরকার ছিল না। তাই বিনা মূল্যে সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার সুযোগ তথ্য পাচারের কথিত আশঙ্কায় তারা ছেড়ে দেয়। শেখ হাসিনা বলেন, পরে আওয়ামী লীগ ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপরেখা নিয়ে সরকার গঠন করেছে। আজ ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে কেউ ঠাট্টা-তামাশা করে না। সত্যি সত্যিই বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত হয়েছে।
যশোর শহরের নাজির শঙ্করপুর এলাকায় ১২ দশমিক ১২ একর জায়গার ওপর ৩০৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এ পার্ক নির্মিত হয়েছে। আজ উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।  অন্য প্রান্ত যশোরে সফটওয়্যার পার্কে উপস্থিত ছিলেন যশোরের সাংসদ কাজী নাবিল আহমেদ, রণজিত কুমার রায়, স্বপন ভট্টাচার্য ও মনিরুল ইসলাম, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (সচিব) হোসনে আরা বেগম, যশোরের জেলা প্রশাসক মো. আশরাফ উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাহউদ্দিন শিকদার প্রমুখ।
পার্ক উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুজন শিক্ষার্থী, একজন শিক্ষক, দুজন তথ্যপ্রযুক্তি খাতের পেশাজীবী এবং হাইটেক পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে কথা বলেন। পার্ক প্রান্তে সঞ্চালনা করেন জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দীন।
পার্কের প্রকল্প পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সফটওয়্যার তৈরি, কল সেন্টার সেবা, ফ্রিল্যান্সিং, গবেষণা ও উন্নয়নসহ বিভিন্ন কাজ হবে এই পার্কে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর তরুণদের লক্ষ্য করে এই পার্ক তৈরি করা হয়েছে। এ অঞ্চলের তরুণেরা সফটওয়্যারভিত্তিক কাজ করে নিজেরা স্বাবলম্বী হবে, দেশকে এগিয়ে নেবে। এখানে প্রায় পাঁচ হাজার তরুণের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে।
প্রকল্পের সার্ভে প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ২০১০ সালের ডিসেম্বরে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই জেলায় বিশ্বমানের একটি তথ্যপ্রযুক্তি পার্ক স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর চার বছরের মাথায় ২০১৪ সালের এপ্রিলে নাজির শঙ্করপুর এলাকায় ২ লাখ ৩২ হাজার বর্গফুট জমির ওপর ‘শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক’ নির্মাণকাজ শুরু হয়।
এ সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে ১৫ তলার মূল ভবনের পাশাপাশি তিন তারকা মানের একটি ১২তলা ডরমিটরি ভবন রয়েছে। জাপানি উদ্যোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী ডরমিটরি ভবনের ১১তলায় আন্তর্জাতিক মানের একটি জিম তৈরি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে আধুনিক কনভেনশন সেন্টার ও আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিংয়ের ব্যবস্থা। বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে করা হয়েছে ৩৩ কেভিএ পাওয়ার সাবস্টেশন।
ইতিমধ্যে জাপানের দুটি কোম্পানিসহ ৫৫টি কোম্পানিকে পার্কে জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তি খাতের রপ্তানি আয় ২০২১ সালের মধ্যে পাঁচ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য পূরণে এই পার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ সময়ে আইটি খাতে অন্তত ২০ লাখ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে অনুষ্ঠানে আশা প্রকাশ করা হয়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads