• শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
খুনিদের রাজত্ব আর আসবে না

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা

সংরক্ষিত ছবি

সরকার

খুনিদের রাজত্ব আর আসবে না

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ১৭ আগস্ট ২০১৮

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দেশে আর কোনোদিন খুনিদের রাজত্ব ফিরে না আসার ব্যাপারে দৃঢ় আস্থা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের জনগণ আর কোনোদিন খুনিদের ক্ষমতায় আসতে দেবে না। তিনি বলেন, ‘খুনিদের রাজত্ব এ দেশে আর আসবে না, আসতে দেওয়া হবে না। মুজিব আদর্শের প্রতিটি সৈনিককেই এ প্রতিজ্ঞা নিয়ে চলতে হবে, কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।’

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতির পিতার ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্মরণসভায় সভাপতির ভাষণে এ কথা বলেন শেখ হাসিনা। জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের বিচার ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যে যত বড়ই হোক, কেউ যদি কোনো অন্যায় করে তার বিচার বাংলাদেশের মাটিতে হবেই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা বংশপরম্পরায় এ চক্রান্ত করে যাচ্ছে, বাংলাদেশের জনগণকে বলব এদের সম্পর্কে আপনাদেরও সচেতন থাকতে হবে। কারণ এরা বাংলাদেশের উন্নয়ন, মানুষের কল্যাণ, মানুষের ভালো দেখতে চায় না। শুধু নিজেরাই ভালো থাকতে চায়।’

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টার অভিযোগ করে তিনি বলেন, দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের দেশের উন্নয়ন সহ্য হচ্ছে না। শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা শিশুদের নিয়ে খেলতে চায়, তাদের ঘাড়ে বন্দুক রেখে উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায়, তারা বাংলাদেশের জনগণের ভবিষ্যৎকেই আসলে অন্ধকারে ঠেলে দিতে চায়। আলোর পথে যাত্রায় বাধা দিতে চায়।’

তিনি অভিযোগ করেন, আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিদেশি দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করা এবং ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করে জাতির পিতার খুনিদের বিচারের পথ রুদ্ধ করেছিলেন অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলকারী সেনাশাসক জিয়াউর রহমান। আর তার স্ত্রী খালেদা জিয়া ভোট চুরি করে সেই খুনিদের জাতীয় সংসদে বসিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘তার অর্থ কী দাঁড়াচ্ছে? জিয়া শুধু নিজেই নন, তার স্ত্রীও ১৫ আগস্ট হত্যার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং তাতে কোনো সন্দেহ নেই।’

খুনিরা সব সময়ই খুনিই হয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, সেই খুনিরাই ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলা করেছে এবং বার বার হত্যার চেষ্টা করছে। কাজেই এদের হাতে ক্ষমতা গেলে দেশের উন্নতি কী হবে- প্রশ্ন রাখেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘অন্যায়ের মাধ্যমে যাদের ক্ষমতায় আরোহন তারা কখনো ন্যায়বিচার করতে পারে না।’

প্রধানমন্ত্রী এ সময় শহীদ রমিজ উদ্দিন স্কুলের দুই শিক্ষার্থীর সাম্প্রতিক বাসচাপায় মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীরা আবার সক্রিয় হয়েছিল উল্লেখ করে বলেন, বাসচাপায় দুুটি শিশু মারা গেল, সঙ্গে সঙ্গে তার সরকার পদক্ষেপ নিয়ে ওই ঘাতক বাসের ড্রাইভার-হেলপারকে গ্রেফতার করলেও ছাত্রছাত্রীরা রাস্তায় বেরিয়ে আসার পর কারা উসকানি দিয়েছে?

তিনি বলেন, তার করে দেওয়া ডিজিটাল বাংলাদেশের সুযোগ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে উসকানি দিয়ে দিয়ে, মিথ্যা কথা বলে বলে দেশে একটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চেষ্টা করেছিল। তাদের উদ্দেশ্য কী? এখানে উসকানিদাতাদের অনেকেই অনেক বড় বড় আঁতেল হলেও তাদের রক্তের সূত্রটা ওই পাকিস্তানেই উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি এদের কাউকে কাউকে গ্রেফতারে আবার মিডিয়ায় অহেতুক আলোড়নের সমালোচনা করে বলেন, কেউ যদি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোমলমতিদের উসকানি দিয়ে ভুল পথে পরিচালিত করতে চায়, তাহলে তাদের গ্রেফতার করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা রাষ্ট্রের কর্তব্য।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে স্কুলছাত্র সেজে স্বার্থান্বেষী মহলের অনুপ্রবেশের উল্লেখ করে বলেন, ‘ওই বুড়োদের আবার গুঁড়ো হওয়ার সাধ জাগল কেন? উদ্দেশ্যটা কী? ব্যাগে বইয়ের পরিবর্তে দা, চায়নিজ কুড়াল, পাথর, অস্ত্রশস্ত্র তাহলে এরা আবার কোন স্কুলের ছাত্র?’

প্রধানমন্ত্রী এ সময় দেশের তথাকথিত বুদ্ধিজীবী এবং এক শ্রেণির মিডিয়ার কঠোর সমালোচনা করে তাদের দেশ ও জাতির স্বার্থে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানান এবং তার সরকারের সময় বলবৎ থাকা মিডিয়ার অবাধ স্বাধীনতার অপব্যবহার করে কেউ যেন দেশ ও জাতির কোনো ক্ষতি সাধন না করেন, সেদিকে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার যাতে জনপ্রিয়তা হারায়, তা নিশ্চিত করাই যেন কিছু কিছু পত্রিকার কর্তব্য। কারণ দেশে যখন অসংবিধানিক সরকার থাকে, দেশে যদি কোনো গণতান্ত্রিক পরিবেশ না থাকে, তখন এই অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীদের কাছে তাদের কদর বাড়ে। এরা একটা পতাকা পাবে, ব্যবসা পাবে, এরাই সুযোগসন্ধানী। শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, এদের কারণেই বাংলাদেশের মানুষকে বার বার বিপদে পড়তে হয়েছে। এদের কারণেই দেশের মানুষ বার বার তাদের অধিকারহারা হয়েছে। বাংলাদেশ বার বার গণতন্ত্র হারিয়েছে, এরাই সংবিধান ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে। আর এরা এখনো তাদের পূর্বপ্রভুদের ভুলতে পারে না। পাকিস্তানিদের পদলেহন করাই তাদের চরিত্র। ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার সুযোগটা হাতছাড়া হয়ে গেল বলে আজকে এই শ্রেণির মন খারাপ, বলেন প্রধানমন্ত্রী। বাসস

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads