• শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯, ৭ বৈশাখ ১৪২৬
ads

সরকার

‘প্রয়োজন মেটাচ্ছি তবু দুর্নীতি কেন’

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ১৮ জানুয়ারি ২০১৯

উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। টানা তৃতীয়বার সরকার গঠনের পর ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় পরিদর্শন কর্মসূচির অংশ হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সে সময় তিনি বলেন, একটি ক্ষুধা এবং দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলায় সুশাসন এবং দুর্নীতি মুক্ত প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। সরকারি কর্মচারীদের বেতনভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেটা প্রয়োজন সেটা তো আমরা মেটাচ্ছি। তাহলে দুর্নীতি কেন হবে। মনমানসিকতাটা পরিবর্তন করতে হবে এবং সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আপনাদের দিতে হবে একদম তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত।

তিনি বলেন, যে হারে বেতন আমরা বাড়িয়েছি এ উদাহরণ মনে হয় পথিবীর কোনো দেশেই নেই।

শেখ হাসিনা জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট একটি নির্দেশনা দিতে হবে। কেউ দুর্নীতি করলে সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

সন্ত্রাস-মাদক-দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধেও আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তার সরকার সন্ত্রাস, মাদক এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যায় পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে লক্ষ্য আমরা নিয়েছি তা আমরা পূরণ করতে পারব, তার জন্য প্রয়োজন সুশাসন, তার জন্য দরকার দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলা।

জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের সততা ও আন্তরিকতা নিয়ে জনসেবা করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা সরকার পরিচালনার মূল জায়গাটায় হলো আপনাদের এই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। অনেক বিশাল এক কর্মযজ্ঞ এখানে। সেক্ষেত্রে আপনাদের দায়িত্ব কিন্তু অনেক অনেক বেশি।

শেখ হাসিনা বলেন, সবাইকে অনুরোধ করবো, একটা কথা মনে রাখতে হবে যে, দেশটা আমাদের। আমরা এ দেশ স্বাধীন করেছি। আজকে সারাবিশ্বে একটা সম্মানজনক জায়গায় আসতে পেরেছি।

স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিতে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সর্বক্ষেত্রে এই ডিজিটাল সুবিধা ব্যবহার করতে হবে। এর মাধ্যমে আমি মনে করি স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিত হতে পারে।

একটা সময় বাংলাদেশে দরপত্র বাক্স ছিনতাই হত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে কারণে আমরা ই-টেন্ডারে চলে গেলাম। এখন আর টেন্ডার বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনা শোনা যায় না। আমি মনে করি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধমে এভাবেই স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা অনেকটা নিশ্চিত করা যায়।

জনপ্রশাসনে পদোন্নতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রশাসনসহ সব ক্ষেত্রে শুধু জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে নয়, এখানে দক্ষতাকেও প্রাধান্য দিতে হবে। কে কত বেশি কাজ করতে পারেন, সততার সঙ্গে কাজ করতে পারবেন এবং নিয়মশৃঙ্খলা মেনে চলবেন, সবকিছু বিবেচনা করে প্রমোশন হওয়া উচিত। যিনি যে বিষয়ে অভিজ্ঞ, তাকে সেই বিষয়ে দায়িত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

মত বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সদ্য প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। সে সময়  অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকা্ল তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়েজ আহমদ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads