• মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৭ কার্তিক ১৪২৬
ads
বিএনপি সরকারের রেল বন্ধের সিদ্ধান্ত ছিল আত্মঘাতী: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ছবি: পিআইডি

সরকার

বিএনপি সরকারের রেল বন্ধের সিদ্ধান্ত ছিল আত্মঘাতী: প্রধানমন্ত্রী

  • বাসস
  • প্রকাশিত ১৬ অক্টোবর ২০১৯

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রেসক্রিপশনের প্রেক্ষিতে তৎকালিন বিএনপি সরকারের জনবান্ধব রেলকে বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত ছিল দেশের জন্য আত্মঘাতী।

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, রেল বন্ধ করে দেওয়া, আমাদের দেশের জন্য একটা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত ছিল। একটা দেশের যোগোযোগের জন্য রেলপথ, সড়ক পথ এবং নৌপথ এবং সেই সাথে বিমান- সবগুলো পথই চালু থাকা দরকার।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোন এক আন্তর্জাতিক সংস্থার নির্দেশনা ছিল যে, যেটা লাভজনক নয় তা বন্ধ করে দেয়ার। সেই নির্দেশনায় বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে রেল যোগাযোগটাকেই সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়ার জন্য অনেকগুলো রেললাইন এবং রেল স্টেশন বন্ধ করে দেয়।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বেলা সাড়ে ১১টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কুড়িগ্রাম-ঢাকা-কুড়িগ্রাম রুটে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রদত্ত ভাষণে একথা বলেন।
তিনি একই সঙ্গে রংপুর এক্সপ্রেস ও লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনের র‌্যাকে নতুন কোচ প্রতিস্থাপনেরও উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো বাংলাদেশের রেল যোগাযোগ হলো এদেশের সাধারণ এবং মধ্যবিত্তের অন্যতম একটি চলাচলের মাধ্যম। যারা ক্ষমতায় ছিল (বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার) তারা রেলকে ধ্বংসের এবং একে বন্ধ করে দেয়ার পরিকল্পনা করেছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পরই সিলেট এবং চট্টগ্রামে দু’টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালুসহ রেলকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা প্রহণ করে।

তিনি বলেন, ‘রেল যোগাযোগটা যাতে আরো উন্নত হয় তার ব্যবস্থা হিসেবে আমরা উত্তরবঙ্গসহ সমগ্র বাংলাদেশেরই রেল যোগাযোগ স্থাপনের একটি উদ্যোগ গ্রহণ করি।’

এ সময় বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু নির্মাণের সময় সেটাতে রেল লাইন স্থাপনসহ সেতুটিতে বহুমুখীকরণে তার সরকার উদ্যোগে গ্রহণ করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা যমুনা সেতুর মূল নকশা প্রণয়ন হয়ে যাওয়ার পর সরকারে আসলেও আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি এই সেতুর সাথে আমাদের রেলের লাইন, গ্যাস এবং বিদ্যুতের লাইন থাকতে হবে। এটি মাল্টিপারপাস হবে এবং সেই মোতাবেকই আমরা এর সঙ্গে রেল সংযোগ সম্পৃক্ত করি।’

তিনি বলেন, ‘এই রেল লাইন স্থাপনের ফলে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে আমাদের রাজধানী ঢাকার ভাল যোগাযোগের সুব্যবস্থা হয়ে যায়।’

তিনি বলেন, ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর যেসব রেলপথ বা লিংক বন্ধ হয়ে গিয়েছিল সেসবও তাঁর সরকার নতুনভাবে চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি, যেসব স্থানে রেল যোগাযোগ ছিল না সেখানেও রেল যোগাযোগ চালু করা হচ্ছে। ফলে, সাধারণের যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে স্বল্প খরচে পণ্য পরিবহনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, উৎপাদিত পণ্য পরিবহন এবং বাজারজাত সহজ করে দিলে আমাদের দেশের কৃষকরাই সব থেকে লাভবান হবে।

তিনি এ সময় চিলমারী বন্দর পুনরায় চালুকরণসহ উত্তরাঞ্চলের ভাওয়াইয়া গানের প্রচার প্রসার এবং সংরক্ষণেও তাঁর সরকার এগিয়ে আসবে বলে উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads