• শনিবার, ৬ জুন ২০২০, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
ads
সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ বাস্তবায়নে ধীরগতি

সংগৃহীত ছবি

সরকার

মাঠ পর্যায়ে সমন্বয়ের অভাব

সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ বাস্তবায়নে ধীরগতি

  • মো. রেজাউর রহিম
  • প্রকাশিত ০৩ এপ্রিল ২০২০

দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ও বিস্তাররোধে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি এ কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালনার জন্য সর্বাত্মক উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলা প্রশাসকদের এ বিষয়ে  নির্দেশনা দিয়েছেন। এরপরও তৃণমূল পর্যায়ে এই কার্যক্রমে ধীরগতি লক্ষ করা গেছে। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) করোনা ভাইরাস-সংক্রান্ত গতকালের অনলাইন ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ও বিস্তার রোধে দেশের প্রত্যেক উপজেলা থেকে অন্তত দুজন করে সন্দেহভাজন ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা-উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য আলাদা বেড স্থাপন করা হয়েছে।  কারো করোনার লক্ষণ দেখা দিলে হটলাইন নাম্বারে যোগাযোগ করার জন্যও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। রাজধানীতে করোনা রোগীদের জন্য চারটি হাসপাতাল-মুগদা জেনারেল হাসপাতাল, কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল, মহানগর হাসপাতাল ও কুর্মিটোলা হাসপাতাল প্রস্তুত রয়েছে। এ ছাড়া করোনা শনাক্তে প্রয়োজনীয় কিট সংগ্রহ করেছে সরকার। যারা বিদেশ থেকে এসেছে তাদের তালিকা প্রস্তুত করছেন জেলা প্রশাসকরা। পাশাপাশি যারা হোম কোয়ারেন্টাইন ভঙ্গ করছেন তাদের জরিমানাও করা হচ্ছে।

করোনা প্রতিরোধে সরকার গত ১ মার্চ জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠন করেছে। উপজেলা পর্যায়ের কমিটিতে ইউএনওকে প্রধান করা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের নেতৃত্বে ৩১ সদস্যের জাতীয় কমিটিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব, ১৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক রয়েছেন। এ ছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, ইউনিসেফ এবং ইউএস এইডের প্রতিনিধিরা কমিটিতে রয়েছেন।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত বর্ধিত ছুটি চলাকালীন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে সমন্বয় এবং এ সংক্রান্ত প্রাপ্ত তথ্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২১ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গতকাল এই দায়িত্ব দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে একটি আদেশও জারি করা হয়েছে। এসব কর্মকর্তা মাঠ পর্যায়ের করোনা প্রতিরোধ কার্যক্রম  সমন্বয় করবেন এবং এ-সংক্রান্ত  তথ্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন। 

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেনে,  দেশে করোনার সংক্রমণ ও বিস্তার রোধে সরকারের প্রস্তুতি অনেক জোরদার করা  হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন ও নির্দেশনা দিচ্ছেন। ইতিমধ্যে ৬৪ জেলা পর্যায়ের এবং ১০০টি উপজেলার কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বলেন, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়ে প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে।  

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাঠ পর্যায়ে এখনো সরকারের প্রস্তুতি অনেকটাই নাজুক। করোনা রোগীদের চিবিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডাক্তার-নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মী প্রয়োজন। কিন্তু এ রোগের ভয়াবহতায় অনেক ডাক্তার-নার্স চিবিৎসা প্রদানে অনীহা প্রকাশ করছেন। রয়েছে সমন্বয়ের অভাবর।

গতকাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, রাজশাহীসহ  দেশের কয়েকটি জায়গায় করোনা পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং বঙ্গবন্ধূ শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে করোনা পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে গ্রাম পর্যায়ে এই কার্যক্রম এখনো শুরুই হয়নি।  করোনা চিকিৎসার জন্য জন্য সরকার রাজধানীতে আটটি হাসপাতাল নির্দিষ্ট করলেও দুটি হাসপাতাল ছাড়া বাকিগুলোর প্রস্তুতি সন্তোষজনক নয়। এসব হাসপাতাল ছাড়াও সারা দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে কিছু সংখ্যক শয্যা পৃথক রাখা হয়েছে। এসব হাসপাতালে ভেন্টিলেটর ও আইসিইউ’র পর্যাপ্ত সুবিধা নেই। তবে জেলা শহরের সদর হাসপাতালগুলোকে এ কাজে ব্যবহারের চেষ্টা করা হচ্ছে। 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads