• বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ads
সুন্দর একটা বাসা...

সংগৃহীত ছবি

জীবনধারা

সুন্দর একটা বাসা...

  • ফিচার ডেস্ক
  • প্রকাশিত ২৩ জুন ২০১৯

আপনি কি নতুন বাসা খোঁজ করছেন? তবে মনে রাখুন, নতুন সেই বাসাটি অবশ্যই মনের মতো হওয়া চাই। এমন একটি জায়গায় বাসা নেবেন যেখানে চারদিকে সবুজ গাছপালা, খোলামেলা রাস্তা, থাকবে আলো-বাতাস। বাসার আসবাবপত্র, দেয়ালে রং নির্বাচনেও হতে হবে যত্নবান। কিন্তু কেন এই চাওয়া? এর কি কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা রয়েছে? হ্যাঁ, বিভিন্ন সমীক্ষার মাধ্যমে এর কারণ মনোবিজ্ঞানীরা খুঁজে পেয়েছেন। আসুন জেনে নিই কিছু বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা।

সূর্যের আলো মন ভালো করে

ভোরের আলো যখন বিছানায় এসে আছড়ে পড়ে ঘুম ভাঙিয়ে দেয়, সে অনুভূতি কার না ভালো লাগে? শুধু তাই নয়, শিকাগো বিশ্ববিদ্যালের স্নায়ুবিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক করা এক গবেষণার ফলাফল থেকে জানা গেছে, যারা ঘরে দিনের আলো বেশি পায়, তাদের ঘুম যেমন ভালো হয়, তেমনি সারা দিন তারা আরো বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।

আলো ঝলমলে বাসায় ‘ভালোবাসা’

পরিচ্ছন্ন ছিমছাম আর আলো ঝলমলে বাসায় থাকতে যে কোনো মানুষই ভালো বোধ করেন। সুন্দর ঝকঝকে, আরামদায়ক, গোছানো আর সবুজ মনোরম পরিবেশের যে কোনো বাসায় ‘ভালোবাসা’ ধরা দেবেই।  হোক সে বাসা ছোট বা বড়।

আরামদায়ক আসবাবপত্রে অতিথিদের ইতিবাচক অনুভূতি

অনেক বাসার ফার্নিচারগুলো বেশ ভারী হয় এবং কোনাগুলো শক্ত ধরনের। এমন আসবাবপত্র দেখে অতিথির কাছে নাকি বিরক্তিকর মনে হয়। তবে এর উল্টো হলে অর্থাৎ সোফা, টেবিল, চেয়ার ইত্যাদির কোনা গোল ধরনের বা হালকা বাঁকানো হলে অতিথিদের অনুভূতি হয় ইতিবাচক, তাদের বেশ ভালো লাগে- হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের করা এক সমীক্ষা থেকে তথ্যটি জানা গেছে।

অগোছালো বাসা মেজাজ খিটখিটে করে

বাসার জিনিসপত্র এলোমেলো থাকলে ঘুম থেকে উঠে তা দেখে অনেকেরই খারাপ লাগে। তেমনি সারা দিনের কাজের পর বাইরে থেকে এসেও ঘরে ঢুকেই মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। ক্যালিফোর্নিয়ার পরিবারবিষয়ক গবেষণা কেন্দ্রের করা এক সমীক্ষার ফলাফল থেকে এ কথা জানা যায়।

ঘরে রাখুন সবুজ রং

বাড়িতে ঢোকার সময় প্রথম যে দেয়ালটি চোখে পড়ে, তার রং যদি সবুজ হয়, তাহলে বাসায় ঢোকার সময়ই অতিথিরা ভালো বোধ করেন। অতিথিকে স্বাগত জানানোর জন্য করিডোরের রং সবুজ করার পরামর্শটি পাওয়া গেছে নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডাম বিশ্ববিদ্যালয়ের করা এক সমীক্ষা থেকে। গবেষণায় আরো জানানো হয়েছে, ভালো অনুভূতি জন্ম দেওয়ায় সবুজের পরেই নীল এবং হলুদ রঙের স্থান।

যে কারণে সবুজ রং এত প্রিয়

সতেজ সবুজ রং মানুষের অনুভূতিকে করে ইতিবাচক আর তার সৃজনশীলতাকে দেয় আরো বাড়িয়ে। সবুজ মাঠ, প্রান্তর বা বনে কিংবা জঙ্গলে বেড়াতে গেলে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটির পর মন শান্ত হয়, এ কথা হয়তো অনেকেই জানেন। এরকম সবুজের মধ্যে গেলে মাত্র ৯০ মিনিটের মধ্যেই মানুষের মানসিক চাপ কমে যায়। এমন প্রমাণই পেয়েছেন আমেরিকার স্টানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞনীরা।

ঘরে আনুন প্রকৃতি

বসার ঘরে গাছ রাখুন, কিচেনের জানালায় সবজি বা ধনেপাতা, পেঁয়াজকলি, পুদিনাপাতা এসব লাগাতে পারেন। এতে চোখ, মন দুটোই ভালো থাকবে আর কমাবে মানসিক চাপ।  গবেষণায় অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন, সবুজ দেখার পর তাদের ধৈর্যের উন্নতি হয়।

 

নীল বেডরুম

যদিও অনেকে বলে থাকেন নীল নাকি বেদনার রং, তবে নেদারল্যান্ডসে করা সমীক্ষায় জানা গেছে, বেডরুমের জন্য ব্যবহার করতে পারেন নীল রঙের চাদর, বালিশের কাভার নীল।  কারণ, নীল মনকে শান্ত করে।

লাল বা কালো রং নয়

যদিও লালকে ভলোবাসার রং বলা হয়, তবে এই গবেষণাটিতে যারা অংশ নিয়েছেন, তাদের কারোর এই দুই রঙের কোনো জিনিস দিয়ে বাসা সাজানো পছন্দ নয়।

হলুদ আনন্দের রং

হলুদ রং দেখলেই প্রথমে বেশ আনন্দ হয় তা ঠিক, তবে সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন, ঘরের ফার্নিচার বা বড় কিছুর জন্য হলুদ রং তাদের পছন্দ নয়। তবে দাত ব্রাশ, তোয়ালে, কফি কাপ বা ফুলদানির মতো জিনিস হলুদ রং হতে পারে।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads