• মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
‘দলীয় এমপির অত্যাচারে ঘরছাড়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা’

সরকারদলীয় সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথের

সংরক্ষিত ছবি

মহানগর

পঙ্কজ দেবনাথের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

‘দলীয় এমপির অত্যাচারে ঘরছাড়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা’

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

হত্যা, চোরাকারবারি, দলীয় কোন্দল সৃষ্টি, মাদক ব্যবসাসহ পারিবারিকভাবে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেই দলীয় নেতাকর্মীদের হামলা-মামলা করে ঘরছাড়া করার অভিযোগও উঠেছে। বরিশাল-৪ আসনের (মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা-কাজীরহাট) আওয়ামী লীগের এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ দলেরই স্থানীয় নেতাকর্মীদের। গতকাল সোমবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বরিশাল-৪ আসনের নির্যাতন-সন্ত্রাস-দুর্নীতি-মাদক প্রতিরোধ কমিটি’ এক সংবাদ সম্মেলনে পঙ্কজ দেবনাথের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করে।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, পঙ্কজ দেবনাথ নিজ স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে আঁতাত করে দলের মধ্যে গ্রুপিং সৃষ্টি এবং নিজস্ব সন্ত্রাসী ও ক্যাডার বাহিনী দিয়ে এলাকায় বিশৃঙ্খলা তৈরি করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে কমিটির সদস্য সচিব ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন সাগর অভিযোগ করেন, পঙ্কজ দেবনাথের কুকীর্তির কারণে স্থানীয় আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি তলানিতে ঠেকেছে। তার দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসার মতো কার্যক্রমের কারণে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা স্থানীয় পর্যায়ে নষ্ট হচ্ছে।

তিনি বলেন, এমপি নিজে একা নন, এসব অপকর্মে তার পুরো পরিবার জড়িত। তার ছোট ভাই মনোজ নাথ, চাচাতো ভাই রামকৃষ্ণ নাথ, ভাগ্নে রিপন নাথের ইশারায় চলে প্রশাসনের অবৈধ বাণিজ্য ও লুটপাট। দলীয় কোনো নেতাকর্মী তার বিরুদ্ধে গেলেই প্রশাসনকে দিয়ে মিথ্যা মামলা দায়ের এবং সন্ত্রাসী দিয়ে হামলা চালায়।

সাগর বলেন, ‘মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকায় পঙ্কজ দেবনাথ মেহেন্দিগঞ্জের ইলিশা নদীর কালীগঞ্জ রুট ব্যবহার করে দক্ষিণাঞ্চলে মাদক ছড়িয়ে দিচ্ছেন। যুবসমাজের হাতে মাদকের পাশাপাশি তুলে দিচ্ছেন অবৈধ অস্ত্র। আর তার এমন অপকর্মের বিরোধিতা করায় তার সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলায় ও প্রশাসনকে ব্যবহার করে মিথ্যা মামলা দিয়ে অসংখ্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীকে ঘরছাড়া করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০১৭ সালে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫৫ জন নৈশপ্রহরী কাম দফতরি অবৈধভাবে নিয়োগ দেন পঙ্কজ দেবনাথ। এর জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫-৭ লাখ টাকা করে নেন তিনি। এছাড়া হাইস্কুল ও কলেজে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে ডোনেশনের নামে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০-১৫ লাখ টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছেন। এক-এগারোর সময় দুর্নীতিবাজ হিসেবে গ্রেফতার হওয়া পঙ্কজ দেবনাথের বর্তমানে নির্বাচনী এলাকা বরিশাল-৪ আসনসহ রাজধানীর উত্তরা ও ধানমন্ডিতে বিলাসবহুল বাড়ি, অভিজাত এলাকায় নামে-বেনামে একাধিক প্লট, ফ্ল্যাট ও গার্মেন্ট ব্যবসা রয়েছে। ভারতেও রয়েছে তার একাধিক বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। হুন্ডি ও মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে দেশের বাইরে শত শত কোটি টাকা পাচার করেছেন এই সংসদ সদস্য।

সংবাদ সম্মেলনে আরো অভিযোগ করা হয়, পঙ্কজ দেবনাথ স্বেচ্ছাসেবক লীগের নামে তার নিজস্ব সন্ত্রাসী ও ক্যাডার বাহিনী গঠন করে খেয়াঘাট, টেম্পু স্ট্যান্ড, জলাশয়, লঞ্চঘাট, হাটবাজার, নদীর বালু, মাছের পাড়া, খাদ্য গোডাউন, ভূমি অফিস, ইটভাঁটা থেকে লাখ লাখ টাকা লুটপাট করেছেন। তিনি সরকারি খাস জমি বরাদ্দের নামেও বাণিজ্য করেছেন। দখল বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করেছেন।

তার এমন অপকর্মের ব্যাপারে দলীয় প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকেও অবগত করতে লিখিতভাবে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

সংগঠনের আহ্বায়ক ও হিজলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ইকবাল মাতুব্বর বলেন, আমাদের দাবি পঙ্কজ দেবনাথের এসব অপকর্ম ও দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক। আগামী নির্বাচনে যাতে এমন দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি মনোনয়ন না পান সেজন্য দলের হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। পঙ্কজ দেবনাথের সব অপকর্মের তদন্ত করে তাকে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি স্থানীয় আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীর।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads